السلام عليكم

যে ব্যক্তি নিয়মিত ইস্তেগফার (তওবা) করবে আল্লাহ তাকে সব বিপদ থেকে উত্তরণের পথ বের করে দেবেন, সব দুশ্চিন্তা মিটিয়ে দেবেন এবং অকল্পনীয় উৎস থেকে তার রিজিকের ব্যবস্থা করে দেবেন। [আবূ দাঊদ: ১৫২০; ইবন মাজা: ৩৮১৯]
Showing posts with label নামাজ. Show all posts
Showing posts with label নামাজ. Show all posts

অপরিসীম ফজিলতপূর্ণ ইবাদত নামাজ

| comments

দু'রাকা'আত নামাজই জান্নাত প্রাপ্তির জন্য যথেষ্ট (বুখারী)। নবী (স.) কর্তৃক বেলাল (রা.) কে জান্নাতে সম্মূখে চলার সময় জুতার শব্দ শ্রবণের ব্যাখ্যা জানতে চাইলে বিলাল (রা.) জবাবে বললেন, আমি যখন অজু করি রাত্রে অথবা দিনে তখন সেই অজু দ্বারা সালাত আদায় করি (বুখারী, মুসলিম মেশকাত হা. ১৩২২)। এটাই হল তাহিয়্যাতুল অজু নামাজের ফজিলাত যা জান্নাতী হওয়ার সহায়ক। আর ইবাদতের জগতে সর্বোত্তম ইবাদত হল (ফরজ) সালাত। কেয়ামতের প্রথম হিসাব হবে নামাজের, যার নামাজের হিসাব ঠিক-ঠিক কাঁটায়-কাঁটায় মিলে যাবে তার পরবর্তী হিসাব সহজ হবে বা জান্নাতের রাস্তা সহজ হবে।

মহিলা (মা-বোনদের) ৪টি আমলে, ৮টি জান্নাতের দরজা খোলা থাকবে তন্মোদ্ধে ৫ওয়াক্ত সালাতই অন্যতম। "যদি তোমাদের বাড়ির সামনে কারো নদী থাকে এবং সে দৈনিক পাঁচবার গোসল করে, তবে কি তার শরীরে কোন ময়লা থাকবে? সাহাবায়ে কেরামগণ জবাবে বললেন না; রসূলুল্লাহ (স.) বললেন, এটাই পাঁচ ওয়াক্ত (ফরজ) নামাযের উদাহরণ (বুখারী হা. ৫২৮ ও মুসলিম হা.৬৬৭)।

ইবনে মাস্উদ (রা.) -এর প্রশ্নের জবাবে আমাদের প্রিয়নবী (স.) বললেন,আল্লাহর নিকট সর্বাপেক্ষা অধিক পছন্দনীয় আমল হল সময়মত সালাত আদায় করা (মুসলিম১/৮৯)।
"নামাজ দ্বীন ইসলামের স্তম্ভ অতএব নামাজ কায়েমকারীই দ্বীন কায়েমকারী, নামাজ ধ্বংসকারীই দ্বীন ধ্বংসকারী। ঘুটঘুটে অন্ধকার, চতুর্দিক চুলের মত চিকন ধারালো অস্ত্রের ফলার মত পথ; তুমি সামনে অগ্রসর হতে পারবেনা সেদিন মানুষ পলায়ন করবে তাঁর ভাই, মাতা-পিতা, স্ত্রী, সন্তান হতে (আবাসা-৩৪-৩৬) এমন সময় সালাতকে তুমি হেফাজত করে থাকলে সে-ই তোমাকে আলোকবর্তিকা হয়ে জান্নাতে নিয়ে যাবে।

প্রিয়নবী (স.) মহাররম ও সফর মাসে অসুস্থ (মাথা ব্যথা) হলে সতের ওয়াক্ত নামাজ আবু বকর (রা.) কে ইমামতির আদেশ করেন। ইবনে আব্বাস ও আলীর (রা.) ধরাধরির মাধ্যমে এক ওয়াক্ত নামাজ আবু বকরের (রা.) পাশে বসে ইমাম হয়ে আদায় করেন। আয়েশা (রা.) বলেন, আমার দু'চোখ এখনো সাক্ষী দেয়, (অসুস্থতার কারণে) তাঁর দু'টি পা মাটি দিয়ে হেঁচড়ে যাচ্ছিল (বুখারী-২য় হা. ৬৩১,৬৩২) এ অবস্থায় তিনি জামা'আতে সালাত আদায় করেছেন কারণ "সালাতই ছিল তাঁর চক্ষু ঠান্ডাকারী" ক্রমেই অসুস্থতা বেড়ে গেলো। হাসান-হুসাইনকে (রা.) কাছে ডেকে আদর করে চুম্বন দিলেন। সকল স্ত্রীগণকে ডেকে নসীহত করলেন। তিনি উম্মতকে সর্বশেষ উপদেশ দিয়ে বারবার বললেন, "নামাজ, নামাজ আর তোমাদের অধীনস্থ দাসদাসিগণ (সম্বন্ধে সতর্ক হও)। হিজরি সনের ১১বর্ষের রবিউল আওয়াল মাসের ১২তারিখ সোমবার তাঁর আদর্শ জীবনের চিরঅবসান ঘটে। মৃত্যুকালীন অসিয়াত পালনে গুরুত্ব বেশি আর মহানবীর (স.) মৃত্যুকালীন অসিয়াত নামাজ।

আল্লাহকে অন্তরে হাজির-নাজির জেনে, যথাযথ ভয় রেখে শুধু তাঁরই সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য চরম আনুগত্যের ধ্যানসহ রসূলুল্লাহর দেখানো পদ্ধতিতে এই নামাজ আদায় করতে হবে তাহলেই আসল ফজিলত জান্নাত লাভ হবে। এই নামাজের আসল ফজিলত প্রাপ্যদের সম্পর্কে কুরআনে (সূরা মু'মিনুনের- ১,২,৯,১১ আয়াতে) বলা হয়েছে "অবশ্যই সফলকাম হয়েছে মুমিনগণ, যারা বিনয়-নম্র, যত্নবান থাকে নিজের নামাজে। তাঁরাই হবে জান্নাতুল ফিরদউসের অধিকারী যেস্থানে তাঁরা স্থায়ী হবে।" নবী (স.) বলেছেন, তোমরা আল্লাহর নিকট জান্নাতের জন্য প্রার্থনা করলে ফেরদাউসের জন্য প্রার্থনা কর" যা নামাজ হিফাজত-কারীদের জন্য নির্ধারিত। এধরনের নামাজ নিশ্চিতভাবে মানুষকে অন্যায়-অপকর্ম থেকে বিরত রেখে আত্মাকে কলুষমুক্ত করে (সূরা আনকাবুত-৪৫)। রসূলুল্লাহ (স.) বলেছেন, "পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, এক জুমু'আ হতে অন্য জুমু'আ এক রমজান থেকে অপর রমজান এবং এক ঈদ থেকে পরবর্তী ঈদের মধ্যে সে সকল গুনাহ মার্জনাকারী, যে সকল গুনাহ্ মধ্যবর্তী সময়ে হয়ে থাকে। যদি কবীরা গুনাহ্সমূহ থেকে বেঁচে থাকা হয়, আর "যে ব্যক্তি দিনে-রাতে ১২রাক'আত (সুন্নত) নামাজ পড়বে, তার জন্য জান্নাতে একটি গৃহ নির্মাণ করা হবে (তিরমিযী, ইবনে মাজাহ ও সহীহুল জামে)।

শীতের মৌসুমে গাছের পাতা ঝরতে ঝরতে গাছ যেমন পাতা শূন্য হয়ে যায় ঠিক তেমনি নিয়মিত নামাজ আদায়কারীর নামাজই তার আমলনামা পাপশূন্য করে দেয়। ঈশা ও ফজরের নামাজ জামা'আতে পড়ার কত ফযিলত তা যদি তারা জানত তা হলে হামা গুঁড়ি দিয়ে হলেও জামা'আতে উপস্থিত হতো।

আবদুল আলিম আল-আসাদ

নামাজের অবিশ্বাস্য ১১ টি উপকারিতা

| comments

নামাজের অবিশ্বাস্য ১১ টি উপকারিতাঃ
১/ নামাজে যখন সিজদা করা হয় তখন আমাদের মস্তিস্কে রক্ত দ্রুত প্রবাহিত হয়। ফলে আমাদের স্মৃতি শক্তি অনেকবৃদ্ধি পায়।

২/ নামাজের যখন আমরা দাড়াই তখন আমাদের চোখ জায়
নামাজের সামনের ঠিক একটি কেন্দ্রে স্থির অবস্থানে থাকে ফলে মনোযোগ বৃদ্ধি পায়।

৩/ নামাজের মাধ্যমের আমাদের শরীরের একটি ব্যায়াম সাধিত
হয়। এটি এমন একটি ব্যায়াম যা ছোট বড় সবাই করতে পারে।

৪/ নামাজের মাধ্যমে আমাদের মনের অসাধারন পরিবর্তন আসে।

৫ নামাজ সকল মানুষের দেহের
কাঠামো বজায় রাখে। ফলে শারীরিক বিকলঙ্গতা লোপ পায়।

৬/ নামাজ মানুষের ত্বক পরিষ্কার রাখে যেমন ওজুর সময় আমাদের
দেহের মূল্যবান অংশগুলো পরিষ্কার করা হয় এর ফলে বিভিন্ন প্রকার
জীবানু হতে আমরা সুরক্ষিত থাকি।

৭/ নামাজে ওজুর সময় মুখমন্ডল ৩বার ধৌত করার ফল আমাদের মুখের ত্বক উজ্জল হয় এবং মুখের দাগ কম দেখা যায়।

৮/ ওজুর সময় মুখমন্ডল যেভাবে পরিস্কার করা হয় তাতে আমাদের
মুখে একপ্রকার মেসেস তৈরি হয়
ফলে আমাদের মুখের রক্ত প্রবাহ
বৃদ্ধি পায় এবং বলিরেখা কমে যায়।

৯/ কিশোর বয়সে নামাজ আদায় করলে মন পবিত্র থাকে এর ফলে নানা প্রকার অসামাজিক কাজ সে বিরত থাকে।

১০/ নামাজ আদায় করলে মানুষের
জীবনি শক্তি বৃদ্ধি পায়।

১১/ কেবল মাত্র নামাজের মাধ্যমেই চোখের নিয়ম মত যত্ন নেওয়া হয় ফলে অধিকাংশ নামাজ আদায়
কারী মানুষের দৃষ্টি শক্তি বজায় থাকে।

পুরুষদের নামাজ চিত্রসহকারে

| comments



















উৎস: আলহাজ্ব ডক্টর শাহ মোহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম রচিত ইসলাম, নামাজ ও তাসাউফ শিক্ষা

সালাত মুমিনের মিরাজ

| comments

নামাজ ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি বুনিয়াদ। নামাজ ফার্সি শব্দ। আরবি প্রতিশব্দ হলো সালাত। যার অর্থ হলো প্রার্থনা, দোয়া, দরুদ, অনুগ্রহ, রহমত। পরিভাষায় সালাত বলতে নির্দিষ্ট কতকগুলো কার্যের নাম যা নির্দিষ্ট সময়ে কতকগুলো নিদিষ্ট শর্ত, সিফাত ও পদ্ধতির মাধ্যমে পালিত হয়। ইমাম ইবনে জাবির রা: বলেছেন, সালাতের মাধ্যমে একজন মানুষ আল্লাহ তায়ালার নিকট স্বীয় কার্যের জন্য পুণ্য প্রার্থনা করে। আর ইসলাম আল্লাহর কাছে সবচেয়ে মনোনীত ধর্ম। ফলে ইসলাম ধর্ম মানুষ ও স্রষ্টার মাঝে প্রত্য সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় অনন্য ভূমিকা পালন করে। ইসলাম ধর্মের অন্তর্নিহিত তাৎপর্য অত্যন্ত গভীর। এটি শুধু আচার অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বরং গভীরভাবে অনুশীলনের মাধ্যমে এটাকে অনুসরণ করতে হয়।
ইসলাম শব্দটি সিলমুন ধাতু থেকে এসেছে। অর্থ হলো সমর্পণ, আত্মসমর্পণ, বশ্যতা। এ সমর্পণ সেই প্রভুর কাছে, যাঁর উদ্দেশে সব অহঙ্কার, আমিত্বকে ধূলিসাৎ করে বিনম্রচিত্তে একজন মুসলিম নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করবে। একজন মুসলিম আল্লাহর অস্তিত্বে ও একত্বে বিশ্বাস করে এবং সব কাজের মধ্যে তাঁকে উপলব্ধি করে। দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ তার সেই উপলব্ধিকে উৎসাহিত করে। এ জন্য নামাজই আল্লাহর কাছে আত্মনিবেদনের অন্যতম মাধ্যম। একজন সাহাবি রাসূল সা:কে জিজ্ঞেস করেছিলেন কোন ইবাদত আল্লাহর কাছে অধিক পছন্দনীয়? তিনি বলেছিলেন যথাযথ সময়ে নামাজ আদায় করা। নামাজ মানুষকে সত্য সুন্দর ও কল্যাণের পথে আহ্বান করে। আর কুপ্রবৃত্তির মানুষকে অকল্যাণের দিকে ধাবিত করে। কুপ্রবৃত্তির ছোবল থেকে নামাজ মানুষকে মুক্তি দিতে পারে। ইসলামে সালাত হচ্ছে ইবাদতের প্রথমপর্যায়। এ ইবাদত সব প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানকে অবশ্যই গ্রহণ করতে হয়। সালাত ধনী-দরিদ্র, যুবক-বৃদ্ধ, পুরুষ-নারী ও সুস্থ-অসুস্থ সবার ওপর অবশ্যপালনীয়। কোনো অবস্থাতেই সালাত থেকে প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানের মুক্তি নেই।
সালাত এতটাই গুরত্বপূর্ণ ইবাদত যে, দণ্ডায়মান অবস্থায় আদায় করতে না পারলে বসে আদায় করবে। অসুস্থতা বা শারীরিক বিকলতার জন্য বসে আদায় করতে না পারলে শায়িত অবস্থায় ইশারায় আদায় করবে। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে এভাবে বর্ণনা করেছেন ইন্না সালাতি ওয়া নুসুকি ওয়া মাহইয়ায়িয়া ওয়া মামাতি লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন। এর অর্থ অবশ্য আমার সালাত, আমার কোরবানি, আমার জীবন এবং আমার মৃত্যু শুধু আল্লাহর জন্যই নিবেদিত। সামগ্রিকভাবে সালাত হচ্ছে আল্লাহ তায়ালাকে স্মরণ করা। আল্লাহ তায়ালা আরো বলেন সালাত কায়েম করো, অবশ্যই সালাত লজ্জাশীলতা ও গর্হিত কাজ থেকে বিরত রাখে এবং আল্লাহর স্মরণই সর্বোত্তম বস্তু।
সালাতের সাথে অন্য সব ইবাদত অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে আছে। সালাত সঠিকভাবে আদায় করতে না পারলে অন্য ইবাদত তেমন কাজে লাগতে নাও পারে। এ জন্য সালাতের গুরুত্ব বর্ণনা করতে গিয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেন নিশ্চয় সালাত সব অশ্লীল ও খারাপ কাজ থেকে মানুষকে বিরত রাখে (সূরা আনকাবুত- ৪৫)।
সালাত ছাড়া জাকাত পবিত্র হয় না, রোজার ফজিলত পাওয়া যায় না, হজের গুরুত্ব অনুধাবন করা যায় না। সালাত ছাড়া অন্য সব ভালো কাজের মূল্য অর্থহীন। সালাত এমন একটা ইবাদত যা স্রষ্টার সাথে সম্পর্ক তৈরির েেত্র কোনো মধ্যবর্তীর প্রয়োজন হয় না।
প্রত্যেক মুসলিম দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ অবশ্যই পড়বেন। জেনে বুঝে উচ্চারণ করে নামাজ পড়লে তবে নামাজ আদায়কারীর মনে সব সময় আল্লাহর স্মরণ থাকার কথা, স্রষ্টার সাথে নিবিড় সম্পর্ক স্থাপনের কথা। কিন্তু বাস্তবে কী দেখছি আমরা? মুসলিম দেশগুলো সব চেয়ে বেশি অসুবিধার সম্মুখীন, বিপদগ্রস্ত। মানুষের মধ্যে সাধারণভাবে দুই ধরনের প্রবৃত্তিগত মানুষ পাওয়া যায়। স্বার্থাকাক্সী ও পরার্থকারী। যারা স্বার্থাকাক্সী তারা কখনোই সালাত আদায় করার মুহূর্তে একাগ্র হতে পারে না। অনেক সময় দেখা যায়, অনেক মানুষ রুকু-সেজদা ঠিক মতো শেষ না করে তাদের কর্মেেত্র ছুটে যাচ্ছে। এসব মানুষের কাছে নামাজ একটি প্রথামাত্র। এ জন্যই রাসূল সা: আদেশ দিয়েছেন যে নামাজের মধ্যে থেকে নামাজের প্রকরণগুলো চুরি করবে না। নামাজে সামগ্রিক একাগ্রতা বিধানের জন্য এ কথা বলা হয়েছে। কারণ নামাজের মধ্যেই রয়েছে সর্বাঙ্গীণ কল্যাণ ও মঙ্গল।
সঠিকভাবে নামাজ আদায়ের ব্যাপারে রাসূল সা: তাগিদ দিয়েছেন। এ জন্য নামাজের মধ্যে কিছু শর্ত রয়েছে। এই শর্তগুলো ঠিক মতো আদায় করতে হবে। কেননা আল্লাহর দরবারে হাজির হতে হবে নামাজ আদায়কারীকে। নামাজ আবার যখন ইচ্ছা আদায় করলে হবে না। আল্লাহর বিধান অনুযায়ী এর জন্য পাঁচটি নির্দিষ্ট সময় আছে। রাসূল সা: বলেন জিব্রাইল আ: কাবাঘরের কাছে এসে দুইবার আমার সালাতের ইমামতি করেন। তিনি আমাকে জোহরের সালাত পড়ালেন যখন সূর্য মাথার ওপর থেকে একটু ঢলে যায় আর ছায়াটা জুতোর চামড়ার মতো হয়। এরপর তিনি আমাকে আসরের নামাজ পড়ালেন যখন প্রত্যেক জিনিসের ছায়া তার সমান হয়। এরপর তিনি আমাকে মাগরিবের সালাত পড়ালেন যখন রোজাদাররা ইফতার করে অর্থাৎ সূর্য ডোবার সাথে সাথেই। এরপর তিনি আমাকে এশার সালাত পড়ালেন যখন ‘শাফাক’ বা সন্ধ্যা বেলার পশ্চিম আকাশের লাল আভা দূর হয়ে যায়। এরপর তিনি আমাকে ফজরের সালাত পড়ালেন যখন রোজাদারদের ওপর খাওয়া ও পান করা হারাম হয়ে যায়। এরপর দ্বিতীয় দিন তিনি আমাকে জোহরের সালাত পড়ালেন যখন তার ছায়া সমান হয় এবং আসর যখন পড়ালেন তখন তার ছায়া দ্বিগুণ হয় আর মাগরিব পড়ালেন যখন রোজাদাররা ইফতার করে এবং এশা পড়ান যখন তিন ভাগের একভাগ রাত গত হয়ে যায়। আর ফজর তখন পড়ান যখন ফর্সা হয়ে যায়। এরপর তিনি আমার দিকে মুখ করে বললেন হে মুহাম্মদ, এটা আপনার পূর্বের নবীদের সময় এবং এই দুই ওয়াক্তের মধ্যবর্তী সময়ই হলো প্রকৃত ওয়াক্ত। (মিশকাত)
এভাবে নামাজকে জীবনের অংশ হিসেবে বিবেচনা করে একজন মুসলিম আদর্শ জীবন পরিচালনা করতে পারে। পৌঁছাতে পারে আল্লাহর অনেক কাছাকাছি, হতে পারে আল্লাহর প্রিয়পাত্র, লাভ করতে পারে তাঁর সান্নিধ্য। আল্লাহর প্রতি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস স্থাপন করে প্রত্যেক মুমিন সঠিকভাবে নামাজ আদায়ের মাধ্যমে ইহকাল ও পরকালে শান্তি ও কল্যাণ লাভ করতে পারে।

লেখক : ড. মু. বিলাল হুসাইন; সহকারী অধ্যাপক, আরবি বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

জুমাবারের আমল সমূহ

| comments

: : : : : : : ১ম পর্ব (জুমার নামাজের আগ পর্যন্ত আমল): : : : : : :
অন্যদিনের তুলনায় ফযরের সময় ঘুম থেকে তাড়াতাড়ি ওঠা,

পরিস্কার পরিচ্ছন্ন হওয়া। নখ, চুল ও শরীরের অবাঞ্ছিত পশম পরিস্কার করা।

মিসওয়াক করা ।

উত্তমরুপে গোসল করা।

আতর বা খুশবু লাগানো ।

তাড়াতাড়ি মসজিদে যাওয়া। জুম'আর আযানের আগেই মসজিদে যাওয়া উত্তম। যে যত আগে মসজিদে যাবে সে তত বেশি সওয়াব পাবে।

কোন যানবাহন ব্যবহার না করে পায়ে হেটে মসজিদে যাওয়া।

ইমাম সাহেবের কাছাকাছি বসা ।

অহেতুক কথাবার্তা না বলা বা অন্য কিছু না করা ।

আত্তাহিয়াতু সুরতে মানে নামাযের মধ্যে বৈঠকের সময় যেভাবে বসতে হয়, সেইভাবে বসে মনোযোগ সহকারে খুতবা শোনা।

খুতবার চলাকালীন (যতই প্রয়োজনীয়ই হোক) কথা বলা হারাম। এমনকি ইশারায় কাউকে চুপ করতে বলা বা কোন কিছু করতে বারণ করাও হারাম।

জুমআর দিনে উপরোক্ত আমলগুলো করলে প্রতি কদমে এক বছরের নফল রোযা ও এক বছরের নফল নামাযের সওয়াব পাওয়া যায় ।

[আবু দাউদ, তিরমিযি, নাসায়ী ও ইবনু মাযা শরীফ]

: : : : : : : ২য় পর্ব (নামাজের পড়ে আমল): : : : : : :

: | : আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিনিন নাবিয়্যিল উম্মিয়্যি ওয়া আলা আলিহী ওয়াসাল্লিম
তাসলীমা : | :

হযরত আবু হুরাইরা রাযি. হতে বর্ণিত : রাসূল পাক সা. ইরশাদ করেন ,
যে ব্যক্তি জুম'আর দিন আসর নামাযের পর না উঠে ঐ স্থানে বসা অবস্থায়
৮০ বার উপরে উল্লেখিত দরুদ শরীফ পাঠ করবে , তার ৮০ বছরের গুনাহ
মাফ হবে এবং ৮০ বছরের নফল ইবাদতের সওয়াব তার আমল নামায়
লেখা হবে ।

¤ ¤ সূরা কাহাফ তিলাওয়াত করা:
জুম'আর দিনে সূরা কাহ্ফ তিলাওয়াত করলে কিয়ামতের দিন
আকাশতুল্য একটি নূর প্রকাশ পাবে ।
¤¤ বেশি বেশি দুরুদ শরীফ পাঠ করা এবং বেশি বেশি যিকির
করা মুস্তাহাব ।
¤¤জুম'আর রাত (বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত) ও জুম'আর দিনে নবী করিম সা. এর প্রতি বেশী বেশী দরুদ পাঠের কথা বলা হয়েছে । এমনিতেই যে কোন সময়ে একবার দুরুদ শরীফ পাঠ করলে আল্লাহ তায়ালা দরুদ শরীফ
পাঠকারীকে দশটা রহমত দান করেন এবং ফেরেশতারা তার
জন্য দশবার রহমতের দোয়া করেন ।
¤¤ দুই খুতবার মাঝখানে হাত না উঠিয়ে মনে মনে দোয়া করা ।
¤¤ সূর্য ডোবার কিছুক্ষণ আগ থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত গুরুত্বের
সাথে যিকির , তাসবীহ ও দুআয় লিপ্ত থাকা ।
↓↓↓↓
উপরের আলোচনা থেকে বোঝা যায় জুম'আ বার খুব গুরত্বপূর্ণ একটি দিন। হাদীসে আরও পাওয়া যায় , জুম'আ বার দিনে বিশেষ করে ফযরের সময় এবং আসরের নামায এর পর দোয়া কবুল হবার সম্ভবনা বেশী ।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে জুম'আ বারের গুরুত্ব বোঝার তৌফিক দান করুন এবং যথাযথভাবে জুম'আ বারের আমলগুলো করার তৌফিক দান করুন।আমীন।
↓↓↓↓↓↓↓↓
সেই সাথে কোন ওজরে যেন নামাজ পড়তে ভুলে না যাই। আল্লাহ, আমাদের সকলকে হেদায়েত দান করুন। আমীন। জুমা বারের ফজিলত সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে লেখাটি শেয়ার করার অনুরোধ রইলো। সেই সাথে পোস্টটি ভালো লাগলে লাইক করে জানাবেন। এতে আমরা আরও ভালো পোস্ট দিতে উৎসাহ পাই।

•• Online-এ "কুরআন ও হাদীস" ••

জুমুআ'র দিনে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর প্রতি বেশী বেশী দরূদ পাঠ করার জন্য আমাদের সকলকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
...
[নাসাঈ, ১৩৭৭]

রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, যে ব্যক্তি আমার উপর একবার দরূদ পাঠ করবে আল্লাহ্‌ তা'আলা তার উপর দশবার রহমত নাযিল করবেন, তার দশটি গুনাহ্‌ মিটিয়ে দেয়া হবে এবং তার দশটি মর্যাদা উন্নীত করা হবে।

[নাসাঈ, ১৩০০]

রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদেরকে এই দরূদ পড়তে শিখিয়েছেন-
"আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদ ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ কামা সাল্লাইতা আলা ইব্রাহিমা ওয়া আলা আলি ইব্রাহিমা, ইন্নাকা হামিদুম মাজিদ। আল্লাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মাদ ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ কামা বারাকতা আলা ইব্রাহিমা ওয়া আলা আলি ইব্রাহিমা, ইন্নাকা হামিদুম মাজিদ"

[বুখারী, মুসলিম]

জুম'আর কতিপয় বিধান

| comments

ইসলামে বাৎসরিক ঈদ হচ্ছে দু'টি- ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা। আর সাপ্তাহিক ঈদ হচ্ছে জুম'আর দিন। এছাড়া অন্য কোন ঈদ ইসলামে স্বীকৃত নয়। আলোচ্য নিবন্ধে জুম'আর কতিপয় বিধান সম্পর্কে আলোচনা করা হ'ল-

আল্লাহ তা'আলা জুম'আর ছালাতের নির্দেশ দিয়ে বলেন,
'হে ঈমানদারগণ! জুম'আর দিনে যখন তোমাদেরকে ছালাতের জন্য ডাকা হয় তখন তোমরা (ছালাতের মাধ্যমে) আল্লাহ্‌র স্মরণের দিকে দ্রুত এগিয়ে যাও এবং বেচাকেনা ছেড়ে দাও। এটাই তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা তা উপলব্ধি কর। অতঃপর যখন ছালাত শেষ হয়ে যায় তখন তোমরা (কাজ-কর্মের জন্য) পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ো...' {জুম'আহ ৬২/৯-১০}

জুম'আর ছালাত কাদের উপর ফরয?
চার শ্রেণীর লোক ব্যতীত প্রত্যেক মুসলিমের উপরে জুম'আর ছালাত ফরয করা হয়েছে। এ চার শ্রেণীর ব্যক্তি হচ্ছে- কৃত দাস-দাসী, নাবালেগ সন্তান, রোগী, মহিলা ও মুসাফির। রাসূলুল্লাহ (ছা.) বলেছেন,
'চার ব্যক্তি ব্যতীত প্রত্যেক মুসলিমের উপরে জুম'আর ছালাত জামা'আতের সাথে আদায় করা ওয়াজিব; (তারা হচ্ছে) কৃত দাস-দাসী, মহিলা, নাবালেগ সন্তান ও রোগী'।*১*

জুম'আর দিনে গোসল করার হুকুম :
জুম'আর ছালাতের জন্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও পবিত্রতা অর্জন করা ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত। জুম'আর দিনে গোসল করা এবং জুম'আর ছালাতের জন্য সুগন্ধি ব্যবহার করা সুন্নাত। রাসূলুল্লাহ (ছা.) বলেছেন, 'যে ব্যক্তি জুম'আর দিনে গোসল করবে (তার জন্য) গোসল করাই উত্তম'।*২*

অন্য হাদীছে রাসূলুল্লাহ (ছা.) বলেছেন, 'যে ব্যক্তি জুম'আর দিন গোসল করবে, সাধ্যমত পবিত্রতা অর্জন করবে (নখ, গোঁফ, নিম্নাংশের চুল ইত্যাদি পরিষ্কার করবে) এবং তার নিজস্ব তেল ব্যবহার করবে অথবা তার গৃহে থাকা সুগন্ধি ব্যবহার করবে অতঃপর বের হবে এবং বসে থাকা দু'মুছল্লীর মাঝে বিচ্ছেদ ঘটাবে না। অতঃপর তার পক্ষে যত রাক'আত সম্ভব ছালাত আদায় করবে। এরপর যখন ইমাম সাহেব খুৎবা প্রদান করবে তখন চুপ থাকবে, তার জন্য তার ও জুম'আ থেকে পরবর্তী জুম'আর মাঝের গুনাহগুলো ক্ষমা করে দেয়া হবে'।*৩*

এ হাদীছ থেকে বুঝা গেল যে, জুম'আর দিনে গোসল করা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অর্জন করা, সুগন্ধি ব্যবহার করা সুন্নাত এবং এর ফলে পাপ সমূহ ক্ষমা হয়ে যাবে। তবে কবীরা গোনাহ নয়।

কবীরা বা বড় গুনাহ তওবা ব্যতীত ক্ষমা করা হবে না। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেছেন, 'তোমাদেরকে যেসব বড় গুনাহ থেকে বেঁচে থাকতে বলা হয়েছে, তোমরা যদি সেগুলো থেকে বেঁচে থাকো তাহ'লে আমি তোমাদের ছোট ছোট গুনাহগুলো ক্ষমা করে দিব এবং তোমাদেরকে সম্মানজনক স্থান দান করব' {নিসা ৪/৩১}।

আর রাসূল (ছা.) বলেছেন, 'পাঁচ ওয়াক্ত ছালাতের মাঝের সময়ে সংঘটিত গুনাহের জন্য প্রতি ওয়াক্তের ছালাত, এক জুম'আ হ'তে অন্য জুম'আ এবং এক রামাযান হ'তে আরেক রামাযানের মধ্যবর্তী সময়ে সংঘটিত গুনাহের জন্য রামাযানের ছাওম কাফ্‌ফারাহ স্বরূপ; যদি কবীরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা হয়'।*৪*

দৈনন্দিন ব্যবহৃত পোষাক ব্যতীত জুম'আর জন্য নতুন বা পৃথক পোষাক পরিধান করা মুস্তাহাব (সুন্নাত)। রাসূলুল্লাহ (ছা.) বলেছেন, 'তোমাদের কেউ যদি জুম'আর দিনে তার কর্মক্ষেত্রে ব্যবহৃত দু'টি কাপড় ব্যতীত অন্য দু'টি কাপড় ব্যবহার করতে সক্ষম হয় তাহ'লে সে যেন তা ব্যবহার করে (এতে কোন সমস্যা নেই)'।*৫*

জুম'আর ছালাতের জন্য কতজন মুছল্লীর উপস্থিতি যরূরী?
ইমামের সাথে মাত্র একজন মুছল্লী থাকলে জুম'আর ছালাত আদায় করা যাবে। জুম'আর ছালাত অন্যান্য ফরয ছালাতের ন্যায় ফরয। অতএব সর্বনিম্ন যতজনে জামা'আত কায়েম হয় ততজন উপস্থিত হ'লেই জামা'আত করা যাবে। আর ইমামের সাথে সর্বনিম্ন একজন থাকলেই জামা'আতের ছওয়াব অর্জিত হয়। এর চেয়ে বেশী শর্ত আরোপের এবং সংখ্যা নির্ধারণের ক্ষেত্রে ছহীহ কোন দলীল নেই।

আশ্চর্য ব্যাপার এই যে, সংখ্যা নির্ধারণে পনেরটি মত উল্লেখিত হয়েছে। কিন্তু কোন মতের পক্ষেই ছহীহ দলীল নেই। যদি দু'জন মুছল্লী উপস্থিত থাকে তাহ'লে একজন খুৎবা দিবে এবং আরেকজন হবে শ্রোতা এবং এ দু'জনে জামা'আত কায়েম করবে। কা'ব ইবনু মালিক (রহ.) বলেছেন, সর্বপ্রথম যিনি আমাদের নিয়ে জুম'আর ছালাত আদায় করেন তিনি হচ্ছেন আস'আদ ইবনু যুরারাহ ...। জিজ্ঞেস করা হ'ল সে সময় আপনারা কতজন ছিলেন তিনি উত্তরে বললেন, আমরা চল্লিশজন ছিলাম।*৬* উক্ত আছারটিতে সেই জুম'আর ছালাতে কতজন উপস্থিত ছিল তা বুঝানো হয়েছে। কিন্তু চল্লিশজনই হ'তে হবে তা বলা হয়নি।

উল্লেখ্য, জাবের (রা.) হ'তে বর্ণিত হয়েছে তিনি বলেন, 'সুন্নাত হচ্ছে এই যে, প্রত্যেক চল্লিশজন অথবা এর চেয়ে বেশী সংখ্যক মুছল্লী উপস্থিত হ'লে জুম'আহ, ঈদুল আযহা ও ঈদুল ফিতর আদায় করতে হবে'। কিন্তু আছারটি নিতান্তই যঈফ।*৭*

জুম'আর ছালাতের জন্য আগেভাগে মসজিদে উপস্থিত হওয়ার ফযীলত :
আবু হুরায়রাহ (রা.) হ'তে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছা.) বলেছেন, 'যে ব্যক্তি জুম'আর দিনে ফরয গোসল করে প্রথমে মসজিদে উপস্থিত হ'ল সে যেন একটি উট ছাদাক্বা করল। এরপর যে ব্যক্তি মসজিদে আসল সে যেন একটি গরু ছাদাক্বা করল। এরপর যে ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করল সে যেন একটি ছাগল ছাদাক্বা করল। এরপর যে ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করল সে যেন একটি মুরগী ছাদাক্বা করল। অতঃপর যে ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করল সে যেন একটি ডিম ছাদাক্বা করল। অতঃপর যখন ইমাম খুৎবার জন্য বেরিয়ে আসেন তখন ফেরেশতারা উপদেশ শ্রবন করা শুরু করেন'।*৮*

জুম'আর দিন ও জুম'আর রাতের ফযীলত :
আবু হুরায়রাহ (রা.) হ'তে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছা.) বলেছেন, 'যে দিনগুলোতে সূর্য উদিত হয় সেগুলোর মধ্যে জুম'আর দিন হচ্ছে সর্বোত্তম। কারণ এ দিনেই আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছিল, এ দিনেই তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছিল, এ দিনেই তাঁকে জান্নাত থেকে বের করা হয়েছিল। আবার এ দিনেই ক্বিয়ামত সংঘটিত হবে'।*৯*

আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রা.) হ'তে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছা.) বলেছেন, 'যে মুসলিম ব্যক্তি জুম'আর দিনে অথবা জুম'আর রাতে মারা যাবে আল্লাহ তা'আলা তাকে কবরের ফেতনা থেকে রক্ষা করবেন'।*১০* (কিন্তু সে ব্যক্তিকে সত্যিকারেরর মুসলিম হ'তে হবে)।

অন্যত্র রাসূলুল্লাহ (ছা.) বলেছেন, 'তোমাদের দিনগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম দিন হচ্ছে জুম'আর দিন। এ দিনেই আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে, এ দিনেই তাঁর রূহ কবয করা হয়েছে, এ দিনেই সিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হবে এবং এ দিনেই সকলে বেহুঁশ হয়ে যাবে। এ দিনে তোমরা আমার প্রতি বেশী বেশী দুরূদ পাঠ করো। কারণ তোমাদের পাঠকৃত দুরূদ আমার নিকট পেশ করা হবে। বর্ণনাকারী বলেন, ছাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহ্‌র রাসূল (ছা.)! আপনি মাটি হয়ে যাবেন এমতাবস্থায় আপনার প্রতি আমাদের পক্ষ থেকে পাঠকৃত দুরূদ কিভাবে পেশ করা হবে। এ সময় রাসূলুল্লাহ (ছা.) বললেন, আল্লাহ্ তা'আলা যমীনের জন্য নবীগণের শরীরগুলো খেয়ে ফেলাকে হারাম করে দিয়েছেন'।*১১*

জুম'আর দিনে বা রাতে সূরা কাহফ পাঠের ফযীলত :
আবু সাঈদ খুদরী (রা.) হ'তে বর্ণিত, নবী করীম (ছা.) বলেছেন, 'যে ব্যক্তি জুম'আর দিনে সূরা কাহফ পাঠ করবে তার জন্য আল্লাহ তা'আলা দু'জুম'আর মধ্যবর্তী সময়কে আলোকিত করে দিবেন'।*১২* অন্য হাদীছে জুম'আর রাতেও সূরা কাহফ পাঠ করার ফযীলতের কথা বর্ণিত হয়েছে।*১৩*

জুম'আর দিনে দো'আ কবূলের সময় :
আবু হুরায়রাহ (রা.) হ'তে বর্ণিত হয়েছে, একদা রাসূলুল্লাহ (ছা.) জুম'আর দিনের কথা উল্লেখ করে বললেন, 'এ দিনে এমন একটি সময় আছে যে, কোন মুসলিম বান্দার ভাগ্যে যদি সময়টি মিলে যায় এমতাবস্থায় যে, সে ছালাত আদায় করছে আর আল্লাহ্‌র নিকট কিছু প্রার্থনা করছে তাহ'লে আল্লাহ্ তাকে তাই প্রদান করবেন। তিনি তাঁর হাতের ইঙ্গিতে বুঝালেন যে, সময়টি খুবই সামান্য'।*১৪*

জুম'আর খুৎবা চলা অবস্থায় চুপ থাকার ফযীলত :
আবু হুরায়রাহ (রা.) হ'তে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছা.) বলেছেন, 'তুমি যদি জুম'আর দিন ইমাম কর্তৃক খুৎবা দেয়ার সময় তোমার কোন সাথীকে বল চুপ করো, তাহ'লে তুমি ত্রুটি করলে'।*১৫*

আবু হুরায়রাহ (রা.) হ'তে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছা.) বলেছেন, 'যে ব্যক্তি ভালভাবে ওযূ করে জুম'আর ছালাত আদায় করার জন্য এসে মনোযোগের সাথে খুৎবা শ্রবণ করলো এবং চুপ থাকল তার এ জুম'আ থেকে পরের জুম'আ পর্যন্ত সংঘটিত গুনাহগুলো ক্ষমা করে দেয়া হবে এবং এর সাথে অতিরিক্ত আরো তিন দিনের গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে। আর যে ব্যক্তি খুৎবা চলা অবস্থায় পাথর বা কোন বস্তু স্পর্শ করবে সে ত্রুটিকারী হিসাবে গণ্য হ'ল'।*১৬*

উক্ত হাদীছ দু'টি থেকে বুঝা যাচ্ছে যে, জুম'আর খুৎবা চলাকালীন সময় কথা বলা যাবে না, কোন কিছু নাড়াচাড়া করা যাবে না এবং কাউকে চুপ করতেও বলা যাবে না এবং কারো দিকে ইশারাও করা যাবে না।

খুৎবা চলা অবস্থায় দু'রাক'আত ছালাত আদায় করার বিধান :
জাবের ইবনু আব্দুল্লাহ (রা.) হ'তে বর্ণিত তিনি বলেন, একদা নবী করীম (ছা.) জুম'আর দিনে খুৎবা দিচ্ছিলেন, এমন সময় এক ব্যক্তি মসজিদে এসে বসে পড়লে তিনি তাকে বললেন, তুমি কি ছালাত আদায় করেছ? সে ব্যক্তি বলল, না। তখন রাসূলুল্লাহ (ছা.) বললেন, তুমি দাঁড়াও এবং দু'রাক'আত ছালাত আদায় কর'।*১৭*

জাবের ইবনু আব্দুল্লাহ (রা.) হ'তে আরো বর্ণিত হয়েছে তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছা.) যখন জুম'আর দিনে খুৎবা দিচ্ছিলেন তখন সুলাইক আল-গাতফানী (রা.) এসে বসে পড়লে রাসূলুল্লাহ (ছা.) তাকে বললেন, 'হে সুলাইক! দাঁড়াও, সংক্ষেপে দু'রাক'আত ছালাত আদায় কর। অতঃপর বললেন, জুম'আর দিনে তোমাদের কেউ যখন ইমাম কর্তৃক খুৎবা দেয়ার সময় মসজিদে আসবে তখন সে যেন দু'রাক'আত ছালাত আদায় করে এবং দু'রাক'আত আদায়ে যেন সংক্ষিপ্ত করে'।*১৮*

এখানে একটি বিষয় ব্যাখ্যার দাবী রাখে যে, আমাদের সমাজে একটি কথা প্রচলিত আছে যে, খুৎবা শ্রবণ করা ওয়াজিব। অতএব খুৎবা চলাকালীন সময়ে কোন প্রকার ছালাত আদায় করা যাবে না। উপরোক্ত হাদীছের উপর আমল না করার বাহানা স্বরূপ এমন কথা বলা হয়। প্রশ্ন হ'ল, আমরা কার নিকট থেকে জেনেছি যে, খুৎবা শোনা ওয়াজিব? খুৎবা চলা অবস্থায় চুপ থাকা এবং তা শ্রবণ করার শিক্ষা পেয়েছি নবী করীম (ছা.) থেকেই। তাহ'লে বিষয়টিকে সহজভাবে নিয়ে যদি বলি যে, যিনি খুৎবা চলা অবস্থায় চুপ থাকতে বলেছেন এবং খুৎবা শ্রবণ করতে বলেছেন। তিনিই তো আবার খুৎবা চলা অবস্থায় শত শত ছাহাবীর সম্মুখে বসে পড়ার পরেও এক ছাহাবীকে বসা থেকে উঠিয়ে দু'রাক'আত ছালাত আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন। অতএব এখানে আর কোন ব্যাখ্যার প্রয়োজন পড়ে না।

একটি বিষয় লক্ষণীয় যে, খুৎবা চলা অবস্থায় কার ক্ষেত্রে কথা বলা নিষেধ এবং চুপ থাকা ও খুৎবা শ্রবণ করা যরূরী? যিনি খুৎবা চলা অবস্থায় অথবা তার পূর্বেই মসজিদে উপস্থিত হয়েছেন তার জন্যই যরূরী। আর যিনি খুৎবা চলা অবস্থায় মসজিদে আসবেন তার জন্য দু'রাক'আত সংক্ষিপ্ত ছালাতের সময় বাদ দিয়ে বাকী সময় খুৎবা শ্রবণ করা যরূরী। যিনি মসজিদে আসেননি তার জন্য এটি যরূরী নয়। খুৎবা শ্রবণ করা এমন ধরনের ওয়াজিব বা যরূরী বিষয় নয় যে, খুৎবা না শোনার জন্য গুনাহ্‌গার হবেন বা ওয়াজিব ছেড়ে দেয়ার কারণে তাকে কোন কাফ্‌ফারা দিতে হবে। তাছাড়া কোন ছহীহ হাদীছে বলা হয়নি যে, খুৎবা শ্রবণ করা ওয়াজিব। তবে বিশেষজ্ঞ আলেমগণ হাদীছের ভাষার দিকে লক্ষ্য করে ওয়াজিব আখ্যা দিয়েছেন। মোটকথা খুৎবা চলা অবস্থায় চুপ থেকে খুৎবা শ্রবণ করতে যিনি বলেছেন, তিনিই খুৎবা চলাকালীন সময়ে সংক্ষেপে দু'রাক'আত ছালাত আদায় করতে নির্দেশ দিয়েছেন। এমনকি বসে পড়ার পরেও তিনি উঠিয়ে দু'রাক'আত ছালাত আদায় করতে নির্দেশ দিয়েছেন। অতএব খুৎবা চলাকালীন সময়ে এ দু'রাক'আত ছালাত আদায় করার গুরুত্ব অত্যধিক।

কেউ কেউ বলে থাকেন যে, যোহরের চার রাক'আতের স্থলে জুম'আর ছালাত দু'রাকআত আর খুৎবাকে অবশিষ্ট দু'রাক'আতের স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে। এ কারণে খুৎবা ছালাতেরই অংশ। অতএব খুৎবা চলা অবস্থায় যেমন কোন কথা বলা যাবে না, তেমনিভাবে কোন ছালাতও আদায় করা যাবে না। যারা এ কথা বলেন, তারা আসলে জুম'আর ছালাত সংক্রান্ত নবী করীম (ছা.)-এর ছহীহ হাদীছ সম্পর্কে অজ্ঞ। কারণ রাসূলুল্লাহ (ছা.)-এর ছহীহ হাদীছ প্রমাণ করছে যে, জুম'আর ছালাতের মধ্যে কোন প্রকার অপূর্ণতা নেই; বরং দু'রাক'আতই হচ্ছে জুম'আর পূর্ণাঙ্গ ছালাত। যেমন-

ওমর (রা.) হ'তে বর্ণিত তিনি বলেন, মুহাম্মাদ (ছা.)-এর ভাষায় 'সফরের ছালাত দু'রাক'আত, ঈদুল আযহার ছালাত দু'রাক'আত, ঈদুল ফিতরের ছালাত দু'রাক'আত এবং জুম'আর ছালাত দু'রাক'আত পূর্ণাঙ্গ অসম্পূর্ণ নয়'।*১৯*

এ হাদীছটি প্রমাণ করে যে, জুম'আর ছালাতকে দু'রাক'আত হিসাবেই পূর্ণাঙ্গ করে ফরয করা হয়েছে। আসলে একটি মতকে সাব্যস্ত করতে গিয়ে কয়েকটি হাদীছকে উপেক্ষা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, যে হাদীছে খুৎবাকে দু'রাক'আতের পরিবর্তে উল্লেখ করা হয়েছে তা ভিত্তিহীন। আরো বলা হয়েছে যে, যে ব্যক্তি খুৎবা পাবে না সে যেন চার রাক'আত ছালাত আদায় করে। কিন্তু এটি ভিত্তিহীন।*২০* আয়েশা (রা.)-এর উদ্ধৃতিতে বলা হয়ে থাকে যে, খুৎবার কারণে জুম'আর ছালাত দু'রাক'আত করা হয়েছে। এটাও মিথ্যা বর্ণনা। এর কোন সনদই পাওয়া যায় না।*২১*

জুম'আর ছালাতের রাক'আত সংখ্যা :
জুম'আর ফরয ছালাত দু'রাক'আত। জুম'আর ফরয ছালাতের পূর্বে নির্দিষ্ট কোন সুন্নাত নেই। কিন্তু আমাদের দেশে বাংলায় বয়ান রাখার পরে খত্বীব বা ইমাম ছাহেবরা বলেন, জুম'আর পূর্বের চার রাক'আত সুন্নাত আদায় করুন। আবার কোন কোন মসজিদের খত্বীব ছাহেব আরবী ভাষাতেই বলেন, 'ক্বাবলাল জুম'আহ' চার রাক'আত সুন্নাত আদায় করুন। তারা কিসের ভিত্তিতে মুছল্লীদের এ নির্দেশ প্রদান করেন?

যে হাদীছের আলোকে জুম'আর পূর্বে চার রাক'আত সুন্নাত আদায় করার নির্দেশ দেয়া হয়ে থাকে, তা জাল। আর জাল হাদীছ দ্বারা সুন্নাত সাব্যস্ত হবে না। যেমন-

নবী (ছা.) জুম'আর পূর্বে চার রাক'আত এবং জুম'আর পরে চার রাক'আত ছালাত আদায় করতেন, উক্ত চার রাক'আতের মাঝে পৃথক করতেন না।

শায়খ আলবানী বলেন, হাদীছটি বাতিল।*২২* 'হিদায়া' গ্রন্থের হাদীছ সমূহের তাখরীজকারী ইমাম যায়লা'ঈ হানাফী এবং হাফিয ইবনু হাজার আসক্বালানী বলেন, হাদীছটি খুবই দুর্বল।*২৩* তবে জুম'আর পূর্বে খুৎবা শুরু হয়ে গেলে শুধুমাত্র 'তাহিয়্যাতুল মসজিদ' হিসাবে দু'রাক'আত ছালাত আদায় করবে, আর যদি খুৎবা শুরু হওয়ার আরো আগে এসে থাকে তাহ'লে প্রথমে দু'রাক'আত 'তাহিয়্যাতুল মসজিদ' আদায় করার পরে খুৎবা শুরু হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত যত ইচ্ছা নফল ছালাত আদায় করবে।*২৪*

ইবনুল মুনযির বলেন, ইবনু ওমর (রা.) হ'তে আমরা বর্ণনা করেছি যে, তিনি জুম'আর ছালাতের পূর্বে বারো রাক'আত ছালাত আদায় করতেন। আর ইবনু আব্বাস (রা.) আট রাক'আত ছালাত আদায় করতেন। ইবনু মাস'ঊদ (রা.) হ'তে বর্ণিত হয়েছে, তিনি চার রাক'আত আদায় করতেন। জুম'আর ছালাতের পূর্বে নফল ছালাতের রাক'আতের ক্ষেত্রে এরূপ বিভিন্নতা প্রমাণ করে যে, জুম'আর পূর্বে নির্দিষ্ট কোন সুন্নাত ছিল না। বরং তাহিয়্যাতুল মসজিদ ছাড়া অনির্দিষ্ট সংখ্যক ছালাত আদায় করার অনুমোদন ছিল।*২৫*

উল্লেখ্য, জুম'আর ছালাতের পূর্বে বাড়ীতে দু'রাক'আত ছালাত আদায় করা সম্পর্কে যে হাদীছ বর্ণিত হয়েছে তা মিথ্যা ও বানোয়াট। এর সনদে ইসহাক্ব আল-আসওয়ারী বাছরী নামক এক বর্ণনাকারী রয়েছে। তার সম্পর্কে ইবনু মাঈন বলেন, সে মিথ্যুক ও হাদীছ জালকারী। শায়খ আলবানী বলেন, এ মিথ্যুক এককভাবে হাদীছটি বর্ণনা করেছে (আল-উজূবাতুন নাফি'আহ)।

জুম'আর ফরয ছালাত আদায় করার পরে দু'রাক'আত অথবা চার রাক'আত সুন্নাত ছালাত আদায় করবে।

আবু হুরায়রাহ (রা.) হ'তে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছা.) বলেছেন, 'তোমাদের কেউ যখন জুম'আর ছালাত আদায় করবে সে যেন জুম'আর পরে চার রাক'আত ছালাত আদায় করে'*২৬* অন্য হাদীছে এসেছে,

আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর (রা.) হ'তে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছা.) যোহরের পূর্বে দু'রাক'আত, যোহরের পরে দু'রাক'আত, মাগরিবের পরে তাঁর গৃহে দু'রাক'আত এবং এশার পরে দু'রাক'আত ছালাত আদায় করতেন। আর জুম'আর পরে ঘরে না ফিরা পর্যন্ত কোন ছালাত আদায় করতেন না। অতঃপর (ঘরে ফিরে) দু'রাক'আত ছালাত আদায় করতেন।*২৭*

আত্বা হ'তে বর্ণিত তিনি বলেন, ইবনু ওমর (রা.) যখন মক্কায় জুম'আর ছালাত আদায় করতেন তখন সামনের দিকে এগিয়ে গিয়ে দু'রাক'আত ছালাত আদায় করতেন, অতঃপর আবারো এগিয়ে গিয়ে চার রাক'আত ছালাত আদায় করতেন, অতঃপর আবারো এগিয়ে গিয়ে চার রাক'আত ছালাত আদায় করতেন। আর যখন মদীনায় থাকতেন তখন জুম'আর ছালাত আদায় করার পর বাড়ীতে ফিরে এসে দু'রাক'আত ছালাত আদায় করতেন। তিনি মসজিদে ছালাত আদায় করতেন না। তাকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হ'লে তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ (ছা.) এরূপই করতেন।*২৮* ইমাম তিরমিযীর বর্ণনায় এসেছে আত্বা বলেন, আমি ইবনু ওমর (রা.)-কে জুম'আর পরে দু'রাক'আত ছালাত আদায় করতে দেখেছি। এ থেকে প্রমাণিত হয় যে, জুম'আর পরে দু'রাক'আত*২৯* অতঃপর চার রাক'আতও আদায় করা যায়।*৩০*

রচনাঃ
মুহাম্মদ আকমাল হুসাইন
লিসান্স, মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, সঊদী আরব;
এম. এ. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়;
দাঈ, সঊদী ধর্ম মন্ত্রণালয়।

*১* ছহীহ আবূদাঊদ হা/১০৬৭; ছহীহুল জামে' হা/৩১১১; মিশকাত হা/১৩৭৭।
*২* ছহীহ তিরমিযী হা/৪৯৭; ছহীহ নাসাঈ হা/১৩৮০।
*৩* বুখারী হা/৮৮২; আহমাদ হা/২৩১৯৮; মিশকাত হা/১৩৮১
*৪* মুসলিম, মিশকাত হা/৫৬৪।
*৫* ছহীহ আবূদাঊদ হা/১০৭৮; ছহীহ জামেউছ ছাগীর হা/৫৬৩৫; মিশকাত হা/১৩৮৯।
*৬* ছহীহ আবূদাঊদ হা/১০৬৯; ইরওয়াউল গালীল হা/৬০০; ছহীহ ইবনে খুযায়মাহ হা/১৭২৪।
*৭* দারাকুৎনী, ইরওয়াউল গালীল হা/৬০৩।
*৮* বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/১৩৮৪।
*৯* মুসলিম, মিশকাত হা/১৩৫৬।
*১০* তিরমিযী হা/১০৭৪; ছহীহ তিরমিযী হা/১০৭৪; মিশকাত হা/১৩৬৭।
*১১* ছহীহ আবূদাঊদ হা/১০৪৭; ছহীহ ইবনু মাজাহ হা/১০৮৫; ছহীহ নাসাঈ হা/১৩৭৪; মিশকাত হা/১৩৬১।

*১২* বায়হাক্বী, হাকীম, ছহীহ জামে'উছ ছাগীর হা/৬৪৭০, ৬৪৭১; মিশকাত হা/২১৭৫।
*১৩* ছহীহুত তারগীব ওয়াত-তারহীব হা/৭৩৬।
*১৪* বুখারী হা/৯৩৫; মুসলিম হা/৮৫২।
*১৫* বুখারী ও মুসলিম, মিশকাত হা/১৩৮৫।
*১৬* মুসলিম হা/৮৫৭।
*১৭* বুখারী হা/৯৩০, ৯৩১, ১১৭০; মুসলিম হা/৮৭৫।
*১৮* মুসলিম হা/৮৭৫; মিশকাত হা/১৪১১।
*১৯* আহমাদ হা/২৫৯, ছহীহ ইবনু মাজাহ হা/১০৬৩।
*২০* য'ঈফ ও জাল হাদীছ সিরিজ হা/৫২০২।
*২১* ইরওয়াউল গালীল হা/৩৭৩।

*২২* যঈফ জামে'উছ ছাগীর হা/৪৫৫০; যঈফ ইবনু মাজাহ হা/১১২৯; সিলসিলা যঈফা হা/১০০১/হা/১০১৬।
*২৩* নাসবুর রায়া ২/২০৬ পৃঃ; আত-তালখীছ ৪/২২৬ পৃঃ।
*২৪* বুখারী হা/৮৮৩; আহমাদ হা/২৩১৯৮।
*২৫* বিস্তারিত দ্রঃ শায়খ আলবানী রচিত 'আল-উজূবাতুন নাফি'আহ'।
*২৬* মুসলিম হা/৮৮১; তিরমিযী হা/৫২৩; নাসাঈ হা/১৪২৬; আবু দাঊদ হা/১১৩১।
*২৭* বুখারী হা/৯৩৭; মুসলিম হা/৭২৯।
*২৮* আবূদাঊদ, হাদীছ ছহীহ, মিশকাত হা/১১৭৮।
*২৯* আবূদাঊদ, তিরমিযী, মিশকাত হা/১১৮৭।
*৩০* মুসলিম, মিশকাত হা/১১৬৬।

জামাতে নামাজ আদায় প্রসঙ্গে

| comments

পবিত্র কোরআনের সূরা আল কলমের ৪২ ও ৪৩ আয়াতে আল্লাহতায়ালা বলেন, 'যেদিন কঠিন সময় উপস্থিত হবে এবং লোকদের সিজদা করার জন্য ডাকা হবে, তখন তারা সিজদা করতে পারবে না। তাদের দৃষ্টি হবে নিচু, লাঞ্ছনা-অপমান তাদের ওপর চেপে বসবে। তারা যখন সুস্থ ও নিরাপদ ছিল (দুনিয়াতে), তখন তাদের সিজদা করার জন্য (জামাতে নামাজ আদায়ের জন্য) ডাকা হতো (কিন্তু তারা তাতে সাড়া দিত না)।' আয়াত দুটিতে কিয়ামতের চিত্র বর্ণিত হয়েছে। হজরত কস্ফাব আল আহ্বার (রা.) বলেন, এ আয়াত কেবল নামাজের জামাতে অনুপস্থিত থাকা লোকদের প্রসঙ্গে নাজিল হয়েছিল। তাবেয়িনদের ইমাম সাঈদ ইবনুল মুসাইয়াব (রহ.) বলেন, তারা আজান শুনত অথচ সুস্থ-সবল থাকা সত্ত্বেও জামাতে হাজির হতো না।
অধিকাংশ ক্ষেত্রে পরিবাররূপী ছোট সাম্রাজ্যের কর্তৃত্ব থাকে নারীদের হাতে। মুসলিম নারীদের কাজকর্মে ইসলামী আদর্শ ফুটে উঠতে হবে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, 'মোমিন নারী ও মোমিন পুরুষরা পরস্পর সহযোগী। তারা মানুষকে সৎ কাজের আদেশ করবে এবং অসৎ কাজ থেকে বিরত রাখবে।' রাসূল (সা.) এরশাদ করেছেন, 'স্ত্রী তার স্বামীর ঘরের জিম্মাদার, তাকে সে জিম্মা সম্পর্কে পরকালে জবাবদিহি করতে হবে' (মিশকাত)। ছেলে, স্বামীসহ পরিবারের পুরুষ সদস্যদের জামাতে নামাজ আদায়ের জন্য মসজিদমুখী করে দেওয়া, জামাতে নামাজ আদায় নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একজন আদর্শ মুসলিম নারীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জাগতিক সব ব্যাপারে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি স্বামী, সন্তানসহ পুরুষদের ধর্মমুখী করার ব্যাপারে ভূমিকা না রাখলে নারীদের আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে।
জামাতে নামাজ আদায়ের জন্য ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষা, চেষ্টা-সাধনা থাকতে হবে এবং আল্লাহর কাছে দোয়া করতে হবে। ইচ্ছা করলে উপায় হয় আর আল্লাহও সহায় হন। জামাতে নামাজ আদায়ের গুরুত্বকে মনে-প্রাণে উপলব্ধি করে আপনি যদি ইচ্ছা করেন যে, আমি এখন থেকে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতে আদায় করব ইনশাআল্লাহ। দেখবেন আল্লাহর রহমতে তা আদায়ে আপনি সক্ষম হচ্ছেন। ফজরের কথা চিন্তা করছেন? যত রাতেই আপনি ঘুমাতে যান না কেন, কায়মনোবাক্যে যদি আল্লাহকে বলেন, আল্লাহ দয়া করে আমাকে ফজরের সময় জাগার তওফিক দিও, দেখবেন ঠিকই কোনো না কোনোভাবে আপনি জেগে গেছেন।

-দিদার উল আলম

নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের উপায়

| comments

নামাজ ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি বুনিয়াদ। নামাজ ফার্সী শব্দ। আরবী প্রতিশব্দ হলো সালাত। যার অর্থ হল- প্রার্থনা, দোয়া, দুরুদ, অনুগ্রহ, রহমত। পরিভাষায় সালাত বলতে নির্দিষ্ট কতকগুলো কার্যের নাম যা নির্দিষ্ট সময়ে কতকগুলো নির্দিষ্ট শর্ত, সিফাত ও পদ্ধতির মাধ্যমে পালিত হয়। ইমাম ইবন জাবির (রা.) বলেছেন, সালাতের মাধ্যমে একজন মানুষ আল্লাহ তায়ালার নিকট স্বীয় কার্যের জন্য পুণ্য প্রার্থনা করে। আর ইসলাম আল্লাহর কাছে সবচেয়ে মনোনীত ধর্ম। ফলে ইসলাম ধর্ম মানুষ ও স্রষ্টার মাঝে প্রত্যক্ষ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় অনন্য ভূমিকা পালন করে। ইসলাম ধর্মের অন্তর্নিহিত তাৎপর্য অত্যন্ত গভীর। এটি শুধু আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং গভীরভাবে অনুশীলনের মাধ্যমে এটাকে অনুসরণ করতে হয়।

ইসলাম শব্দটি সিলমুন ধাতু থেকে এসেছে। অর্থ হলো- সমর্পণ, আত্মসমর্পণ, বশ্যতা। এ সমর্পণ সেই প্রভুর কাছে, যার উদ্দেশ্যে সকল অহংকার, আমিত্বকে ধূলিসাৎ করে বিনম্রচিত্তে একজন মুসলিম নি:শর্ত আত্মসমর্পণ করবে। একজন মুসলিম আল্লাহর অস্তিত্বে ও একত্বে বিশ্বাস করে এবং সকল কাজের মধ্যে তাকে উপলব্ধি করে। দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামায তাঁর সেই উপলব্ধিকে উৎসাহিত করে। এজন্য নামাজই আল্লাহর কাছে আত্মনিবেদনের অন্যতম মাধ্যম। একজন সাহাবী রাসুল (স.) কে জিজ্ঞেস করেছিলেন কোন ইবাদাত আল্লস্নাহর কাছে অধিক পছন্দনীয়? তিনি প্রশ্নোত্তরে বলেছিলেন, যথাযথ সময়ে নামাজ আদায় করা। নামাজ মানুষকে সত্য সুন্দর ও কল্যাণের পথে আহবান করে। আর কুপ্রবৃত্তির মানুষকে অকল্যাণের দিকে ধাবিত করে। কুপ্রবৃত্তির ছোবল থেকে নামাজ মানুষকে সুন্দর মুক্তি দিতে পারে। ইসলামে সালাত হচ্ছে ইবাদাতের প্রথম পর্যায় । এ ইবাদাত সকল প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানকে অবশ্যই গ্রহণ করতে হয়। সালাত ধনী-দরিদ্র, যুবক-বৃদ্ধ, পুরুষ-নারী ও সুস্থ-অসুস্থ সকলেরওপর অবশ্য পালনীয়। কোন অবস্থাতেই সালাত থেকে প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানের মুক্তি নেই।

সালাত এতটাই গুরত্বপূর্ণ ইবাদাত যে, দণ্ডায়মান অবস্থায় আদায় করতে না পারলে বসে আদায় করবে। অসুস্থতা বা শারীরিক বিকলতার জন্য বসে আদায় করতে না পারলে শায়িত অবস্থায় ইশারায় আদায় করবে। তবে আমরা প্রতিনিয়ত সালাতের পরিবর্তে নামাজ শব্দটি ব্যবহার করি। এটি দিয়ে সালাতের মূল আবেদন যথার্থভাবে আদায় হয় না। কারণ সালাত শব্দটির ব্যঞ্জনা যত গভীর এবং ব্যাপক নামাজ শব্দটির ব্যঞ্জনা ততটা নয়। কিন্তু দীর্ঘকাল নামাজ শব্দটি ব্যবহারের ফলে সালাতের প্রতিশব্দ নামাজ আমাদের ভাষায় গ্রাহ্য হয়ে গেছে। অথচ আল্লাহতায়ালা পবিত্র কুরআনে এভাবে বর্ণনা করেছেন- "ইন্না সালাতি ওয়া নুসুকী ওয়া মাহইয়ায়িয়া ওয়া মামাতি লিল্লস্নাহি রাবি্বল আলামীন"। এর অর্থ হচ্ছে- অবশ্য আমার সালাত, আমার কুরবানী, আমার জীবন এবং আমার মৃতু্য কেবলমাত্র আল্লস্নাহর জন্যই নিবেদিত। সামগ্রিকভাবে সালাত হচ্ছে আল্লাহ তায়ালাকে স্মরণ করা। আল্লাহতায়ালা আরোও বলেন- এবং সালাত কায়েম কর, অবশ্যই সালাত লজ্জাশীলতা এবং গর্হিত কাজ হতে বিরত রাখে এবং আল্লাহর স্মরণই সর্বোত্তম বস্তু।

নামাজের সাথে অন্য সকল ইবাদাত অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে আছে বিধায় নামাজ সঠিকভাবে আদায় করতে না পারলে অন্য ইবাদাত তেমন কাজে লাগতে নাও পারে। এজন্য নামাজের গুরুত্ব বর্ণনা করতে গিয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেন- নিশ্চয় নামাজ সকল অশস্ন্লীল ও খারাপ কাজ থেকে মানুষকে বিরত রাখে। (সুরাহ আনকাবুত- ৪৫)

নামাজ ছাড়া যাকাত পবিত্র হয় না। রোজার ফজিলত পাওয়া যায় না। হজ্জের গুরুত্ব অনুধাবণ করা যায় না। নামাজ ছাড়া অন্য সকল ভাল কাজের মূল্য অর্থহীন বিধায় নামাজ এমন একটা ইবাদত যা স্রষ্টার সাথে সম্পর্ক তৈরীর ক্ষেত্রে কোন মধ্যবতর্ীর প্রয়োজন হয় না।

নামাজ এমন একটা পদ্ধতি যা একজন মানুষের শরীরগত প্রক্রিয়াজাতের সাথে সম্পর্কিত। কোন মানুষ যদি সঠিকভাবে নামাজ আদায় করে তাহলে অশস্ন্লীলতা তাকে স্পর্শ করতে পারে না। মানুষকে সালাত আদায়ের মুহূর্তে বহির্বিশ্বের কার্যক্রমের চিন্তা থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রাখে এবং একটি অন্তলর্ীন বোধের মধ্যে সালাত আদায়কারীকে প্রতিষ্ঠিত করে। আমাদের দেহ নানা অবয়বযুক্ত হলেও মূলত এক বা অখন্ড। হস্তপদ ও মস্তকাদি নানা অঙ্গ ভেদে বহুরূপ বিশিষ্ট এ দেহে আমাদের এক ভেবে যেমন পালন করতে হয়, তেমনি নামাজ বা সালাতের সময় সকল অঙ্গের বিশিষ্টার্থক সঞ্চালনের মধ্য দিয়ে আমরা একটি অভিন্ন একাগ্রতা নিমর্াণ করি। ফলে নামাজ আদায়কারীকে এমন মন নিয়ে নামাজে দাঁড়াতে হয় যে, তিনি আল্লস্নাহর সম্মুখে হাজির হয়েছেন। তিনি (আল্লাহ) তাকে দেখছেন যদিও নামাজ আদায়কারী তাকে প্রত্যক্ষ করছে না। কিন্তু তিনি (আল্লাহ) তার অন্তর ও বাহিরের সব খবর রাখেন।

নামাজের মধ্যে সূরাহ ফাতিহা পাঠ করা আবশ্যক। সূরাহ ফাতিহা এমন একটি সূরা যার মাধ্যমে আল্লাহর সানি্নধ্য লাভ করা যায়। সূরা ফাতিহা আসলে একটি দোয়া। তবে যে সত্তার কাছে প্রার্থনা করতে চাচ্ছি তাঁর প্রশংসাবাণী দিয়ে দোয়া শুরু করা হচ্ছে। এভাবে যেন দোয়া চাওয়ার পদ্ধতি শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ দোয়া চাইতে হলে ভদ্র ও শালীন পদ্ধতিতে দোয়া চাইতে হবে। কারোও সামনে গিয়ে মুখ খুলেই প্রথমে নিজের প্রয়োজনটা পেশ করে দেয়া কোন সৌজন্য ও ভদ্রতার পরিচায়ক নয়। যার কাছে প্রার্থনা করা হচ্ছে প্রথমে তাঁর গুণাবলী বর্ণনা করা এবং তাঁর দান, অনুগ্রহ ও মযর্াদার স্বীকৃতি দেয়াই ভদ্রতার রীতি।

প্রত্যেক মুসলিম দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ অবশ্যই পড়বেন। জেনেবুঝে উচ্চারণ করে নামাজ পড়লে তবে নামাজ আদায়কারীর মনে সব সময় আল্লাহর স্মরণ থাকার কথা। স্রষ্টার সাথে নিবিড় সম্পর্ক স্থাপনের কথা। কিন্তু বাস্তবে কি দেখছি আমরা? মুসলিম দেশগুলো সবচেয়ে বেশী অসুবিধার সম্মুখীন, বিপদগ্রস্ত। মানুষের মধ্যে সাধারণভাবে দুই ধরনের প্রবৃত্তিগত মানুষ পাওয়া যায়। স্বার্থাকাঙ্ক্ষী এবং পরার্থকারী। যারা স্বার্থাঙ্ক্ষী তারা কখনই সালাত আদায় করার মুহূর্তে একাগ্র হতে পারে না। অনেক সময় দেখা যায়, অনেক মানুষ রুকু-সেজদা ঠিকমত শেষ না করে তাদের কর্মক্ষেত্রে ছুটে যাচ্ছে। এসব মানুষের কাছে নামাজ একটি প্রথা মাত্র। এজন্যই রাসূল (সা.) আদেশ দিয়েছেন যে, নামাজের মধ্যে থেকে নামাজের প্রকরণগুলি চুরি করবে না। নামাজে সামগ্রিক একাগ্রতা বিধানের জন্য একথা বলা হয়েছে। কারণ নামাজের মধ্যেই রয়েছে সর্বাঙ্গীন কল্যাণ ও মঙ্গল।

-ড. মুহা. বিলাল হুসাইন

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়

| comments

রসূলূলস্নাহ (স.) বলেন, আলস্নাহ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করেছেন (আবু দাউদ, আহমাদ, মালেক, নাসায়ী, মেশকাত, পৃষ্ঠা ৫৮)।

তিনি (স.) বলেন, জিব্রাইল (আ.) কাবাঘরের কাছে এসে দু'বার আমার নামাজের ইমামতী করেন। সুতরাং তিনি আমাকে যোহরের নামাজ পড়ালেন যখন সূর্য মাথার ওপর থেকে একটু ঢলে যায় এবং তার ছায়াটা জুতোর চামড়ার মত হয়। তারপর তিনি আমাকে আসরের নামাজ পড়ালেন যখন প্রত্যেক জিনিসের ছায়া তার সমান হয়। তারপর তিনি আমাকে মাগরিবের নামাজ পড়ালেন যখন রোজাদাররা ইফতার করে (অর্থাৎ সূর্য ডোবার সাথে সাথেই)। তারপর তিনি আমাকে এশা পড়ালেন যখন "শাফাক" বা সন্ধ্যা বেলায় পশ্চিমাকাশের লাল রং দূর হয়ে যায়। তারপর তিনি আমাকে ফজরের নামাজ পড়ালেন যখন রোজাদারদের ওপর খাওয়া ও পান করা হারাম হয়ে যায়। অত:পর যখন দ্বিতীয় দিন এলো তখন তিনি আমাকে সেই সময় যোহর পড়ালেন যখন তার ছায়া সমান হয় এবং আসর তখন পাড়লেন যখন তার ছায়া তার দ্বিগুণ হয়। আর মাগরিব তখন পড়ালেন যখন রোজাদার ইফতার করে এবং এশা তখন পড়ান যখন তিন ভাগের একভাগ রাত গত হয়ে যায়। আর ফজর তখন পড়ান যখন ফর্সা হয়ে যায়। তারপর তিনি আমার দিকে মুখ করে বললেন: হে মুহাম্মাদ! এটা আপনার পূর্বের নবীদের সময় এবং এই দুই অক্তের মধ্যবতর্ী সময়ই হল আসল অক্ত [আবু দাউদ, তিরমিযী, মেশকাত, পৃ: ৫৯]।

কেউ কেউ বলেন, ফজরের নামাজ আদমের, যোহর দাউদের, আসর সোলায়মানের, মাগরিব ইয়াকুবের এবং এশা ইউনুস আলাইহিস সালামের ছিল। অত:পর ঐ সবগুলোই এই উম্মতের জন্য একত্রিত করে দেওয়া হযেছে [শামী, ১ম খন্ড, ৩২৫ পৃ:]

ফজরের আওয়াল ওয়াক্ত : ফজরের নামাজের সময় সুবহে সাদিক হতে সূর্য ওঠার আগ পর্যন্ত। আনাস (রা. বলেন, রাসুলুলস্নাহ (স.) 'গালাসে' (অর্থাৎ একটু অন্ধকার থাকতে) ফজরের নামায পড়তেন (বুখারী ও মুসলিম) এবং আয়েশা (রা.) বলেন, রসূলূলস্নাহ (সা.) ফজরের নামাজ এমন (অন্ধকার) সময়ে পড়তেন যে, নামাজী মেয়েরা চাদর জড়িয়ে ফেরার সময় অন্ধকারের কারণে তাদেরকে চেনা যেত না। বুখারী, মেশকাত, পৃ: ৬০)।

আকাশবিদ পন্ডিতদের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে যে, সূর্য ডোবা থেকে সূর্য ওঠা পর্যন্ত সময়টাকে আট ভাগে ভাগ করলে ৭ ভাগের শেষ ও ৮ ভাগের শুরুটা ফজরের আওয়াল ওয়াক্ত। এরূপ চান্দ্র মাসের ১৩ তারিখে চাঁদ ডোবার ও ২৬ তারিখে চাঁদ ওঠার সময়টাও ফজরের আওয়াল ওয়াক্ত বলে প্রমাণিত হয়। অভিজ্ঞতায় এটাও প্রমাণিত হয়েছে যে, সাধারণত: সূর্য ওঠার দেড় ঘন্টা আগে এবং মৌসুম অনুযায়ী কখনো তারও ১৫-২০ মিনিট আগেপরে সুবহে সাদিক উদিত হয়, যাকে ফজরের আওয়াল ওয়াক্ত বলে।

ইমাম তাহাভী [রহ.] বলেন, রসূলূলস্নাহ (স.) ও সাহাবায়ে কেরাম থেকে বর্ণিত হাদীস মোতাবেক গালাসে ফজরের নামাজ শুরু করা উচিত এবং এসফারে (একটু ফর্সা হলে) শেষ করা উচিত। এটাই হল ইমাম আবু হানীফা, ইমাম আবু ইউসুফ ও মোহাম্মদ রহেমাহুমুলস্নাহ প্রমুখের মত (শারহে মাআ-নীল আসা-র ১ম খন্ড, ৯০ পৃ:)।

যোহরের সময় : সূর্য মাথার ওপর থেকে পশ্চিমে ঢলে যাওয়ার পর হতে শুরু করে যতক্ষণ পর্যন্ত কোন জিনিসের ছায়া সেই জিনিসের সমান না হয় ততক্ষণ পর্যন্ত যোহরের সময় (মুসলিম)। আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রসূলূলস্নাহ (স.) গরমকালে ঠান্ডা হয়ে দেরী করে যোহর পড়তেন এবং শীতকালে জলদি পড়তেন (নাসায়ী, মেশকাত, ৬২ পৃ:])।

আসরের সময় : কোন জিনিসের ছায়া সমপরিমাণ হয়ে যাবার পর দ্বিগুণ হতে শুরু করা থেকে সূর্য ডোবা পর্যন্ত আসরের সময় (মুসলিম)। রসূলূলস্নাহ (স.) বলেন, সূর্য যখন হলদে রং হয় এবং শয়তানের দুই শিংয়ের মাঝখানে এসে যায় তখন মোনাফেকরা আসরের নামাজ পড়ে (মুসলিম, মেশকাত, ৬০ পৃ:)। সুতরাং সূর্যের আভা একটু হলদে রং হয়ে আসবার পূর্বেই আসর পড়া উচিত।

ইমাম আবু হানীফা থেকেও বর্ণিত আছে যে, আসরের ওয়াক্তের শুরু হল এক ছায়া হতে। ইমাম আবু ইউসুফ, ইমাম মোহাম্মাদ এবং ইমাম যোফার ও অন্য তিনজন ইমামের মতও তাই। মোহাদ্দেস ইমাম তাহাভী বলেন, আমরা এটাকে গ্রহণ করি (তাহাভী ৭৮ পৃ:)। গোরারুল আযকারে এটাই গৃহীত হয়েছে। জিবরাইলের বর্ণনা থেকে এটাই সুস্পষ্ট যে, এ ব্যাপারে এটাই হল সঠিক 'নাস্' ও হাদীস (দূররে মোখতার ১ম খন্ড, ৫৯ পৃ:)।

রসূলূলস্নাহ (স.) বলেন, যে ব্যক্তি আসরের নামাজ ছেড়ে দেয় তার আমল নষ্ট হয়ে যায় (বুখারী, মেশকাত, পৃষ্ঠা ৬০)।

মাগরেবের সময়:সূর্য ডোবার পর থেকে পশ্চিম আকাশের লাল আভা দূর না হওয়া পর্যন্ত মাগরিবের সময় (মুসলিম, মেশকাত, ৫৯)। রাফে ইবনে খুদাইজ বলেন, আমরা রসূলূলস্নাহ (স.)-এর সাথে নামাজ পড়তাম। তারপর আমাদের কেউ গিয়ে তীর ছুঁড়লে আমরা তার সেই তীর পড়ার জায়গাটা দেখতে পেতাম (বুখারী, মুসলিম, মেশকাত, পৃ: ৬০)।

এশার সময় : রসূলূলস্নাহ (স.) বলেন, পশ্চিম আকাশের লাল আভা দূর হাবার পর অর্ধেক রাত পর্যন্ত এশার অক্ত (মুসলিম, মেশকাত, পৃ: ৫৯)। নোমার উবনে বাশীর থেকে বর্ণিত যে, চাঁদ উঠে তিন ঘড়ি গত হবার পর রাসুলুলস্নাহ (সা.) এশার নামাজ পড়তেন (আবু দাউদ, মেশকাত, ৬১ পৃ:)।

জুমুআর নামাজের সময় :হাফিয ইবনে হাজার আস্কালানী বলেন, সা'লাবা ইবনে আবু মালিক থেকে বর্ণিত আছে যে, নাবী সালস্নালস্নাহু আলাহি ওয়া সালস্নাম-এর সাধারণ সাহাবীগণ জুমুআর দিনে দুপুরে নামাজ পড়তেন (তালখীসুল হাবীব ৭০ পৃষ্ঠা)। অতএব উক্ত যয়ীফ হাদীসগুলো আমলের অযোগ্য নয়। আবু যর (রা.) বলেন, আমি রসূলূলস্নাহ সালস্নালস্নাহু আলাইহি ওয়া সালস্নামকে বলতে শুনেছি যে, ফজরের পর সূর্য ওঠা পর্যন্ত এবং আসরের পর সূর্য ডোবা পর্যন্ত কোন নামাজ নেই। তবে মক্কা ছাড়া, মক্কা ছাড়া, মক্কা ছাড়া (আহমদ, মিশকাত ৯৫ পৃষ্ঠা)

-হোসাইন আল খালদুন

নামাযের সুন্নত ৫১টি’

| comments (1)

দাঁড়ানোর সুন্নত ১১টি
১.  তাকবীরে তাহরীমার সময় সোজা হয়ে দাঁড়ানো অর্থাৎ মাথা না ঝুকানো।
২. ‘পায়ের আঙ্গুলগুলি কেবলার দিকে রাখা’ এবং দুই পায়ের মাঝখানে চার আঙ্গুল পরিমাণ ফাঁকা রাখা। (মারাকিল ফালাহ)
৩. মুক্তাদীর তাকবীরে তাহরীমা ইমামের তাকবীরে তাহরীমার পরক্ষণই হওয়া।
৪. তাকবীরে তাহরীমা বলার সময় উভয় হাত কান পর্যন্ত উঠানো।
৫. তাকবীরে তাহরীমার সময় হাতের তালু কেবলার দিকে রাখা।
৬. হাতের আঙ্গুলগুলি স্বাভাবিক অবস্থায় খোলা রাখা।
৭. ডান হাতের তালু বাম হাতের তালুর পিঠের উপর রাখা।
৮. ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি ও কনিষ্ঠা অঙ্গুলি দ্বারা বাম হাতের কব্জি চেপে ধরা।
৯. মাঝের তিন অঙ্গুলি বাম হাতের কব্জির উপর বিছিয়ে রাখা।
১০. নাভীর নিচে হাত বাঁধা।
১১. ছানা পড়া।
কেরাতের সুন্নত ৭টি
১. তা’আওউয অর্থাৎ اعوذبالله من الشيطان الجيم (আউযু বিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজীম) পড়া।
২.  তাসমিয়া অর্থাৎ بسم الله الرحمن الرحيم (বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম) পড়া।
৩. সূরা ফাতেহা পড়ার পর আস্তে আমীন বলা।
৪. ফযর ও যোহরে তেওয়ালে মুফাস্সাল অর্থাৎ সূরা হুজুরাত থেকে সুরা বুরূজ পর্যন্ত, আসর ও ইশায় আওসাতে মুফাসসাল অর্থাৎ সূরা ত্বারেক হতে সুরা লাম ইয়াকুন পর্যন্ত, এবং মাগরিবে কেসারে মুফাস্সাল অর্থাৎ সূরা জিলজাল হতে সূরা নাস পর্যন্ত কোন সূরা পড়া।
৫. ফজরের প্রথম রাকাতকে দ্বিতীয় রাকাত অপেক্ষা লম্বা করা।
৬.  অতি ধীর গতিতে অথবা দ্রুত গতিতে না পড়া; বরং মধ্যম গতিতে পড়া।
৭.  ফরয নামাযের তৃতীয় ও চতুর্থ রাকাতে সূরা ফাতেহা পড়া।
রুকুর সুন্নাত ৮টি
১. রুকূতে যাওয়ার সময় الله اكبر ‘তাকবীর’ বলা।
২. রুকূতে উভয় হাতের দ্বারা হাঁটু ধরা।
৩. হাঁটু ধরতে আঙ্গুলগুলি ফাঁকা রাখা।
৪. পায়ের গোছা সোজা রাখা।
৫. রুকূ অবস্থায় পিঠ বিছিয়ে বরাবর করে রাখা।
৬. মাথা ও নিতম্ব এক বরাবর করে রাখা।
৭.রুকূর মধ্যে কমপক্ষে তিনবার سبحان ربي العظيم  (সুবহানা রাব্বিয়াল আযীম) পড়া।
৮.  রুকূ হতে মাথা উঠাবার সময় ইমাম سمع الله لمن حمده  এবং মুক্তাদী ربنا لك الحمد  বলবে এবং একা নামায আদায়কারী উভয়টিই বলবে।
সেজদার সুন্নত ১২টি
১. সেজদায় যাওয়ার সময় তাকবীর বলা।
২. সেজদায় যাওয়ার সময় প্রথমে দুই হাঁটু রাখা।
৩. অতপর উভয় হাত রাখা।
৪. তারপর নাক রাখা।
৫. তারপর কপাল রাখা।
৬. দুই হাতের মাঝখানে সেজাদ করা।
৭.সেজদা অবস্থায় পেট রান হতে উঠিয়ে রাখা।
৮.  বগল বাজু হতে পৃথক রাখা।
৯. উভয় হাত কব্জা হতে কনুই পর্যন্ত জমিন হতে উঠিয়ে রাখা।
১০.  সেজদার মধ্যে কমপক্ষে তিনবার سبحان ربي الاعلي পড়া।
১১. সেজদা হতে মাথা উঠাবার সময় তাকবীর বলা।
১২. সেজদা হতে উঠবার সময় প্রথমে কপাল, তারপর নাক, তারপর উভয় হাত, তারপর হাঁটু উঠানো এবং দুই সেজদার মাঝখানে স্থির হয়ে বসা।
     বসার সুন্নত ১৩টি
১. বাম পা বিছিয়ে তার উপর বসা, ডান পা খাড়া রাখা এবং পায়ের আঙ্গুলি কেবলার দিকে রাখা।
২. উভয় হাত রানের উপর রাখা এবং আঙ্গুলের মাথা হাঁটুর বরাবর রাখা।
৩.  আত্ত্যাহিয়্যাতু এর মধ্যে ‘আশহাদু আল্লা ইলাহা’ এর সময় বৃদ্ধাঙ্গুলি  ও মধ্যাঙ্গুলি দ্বারা গোলাকৃতি বানিয়ে শাহাদাত আঙ্গুলী উঠানো এবং ‘ইল্লাল্লাহ’ বলার সাথে সাথে ঝুকিয়ে দেওয়া এবং গোলাকৃতিকে শেষ পর্যন্ত বাকী রাখা।
৪. আখেরী বৈঠকে দুরূদ শরীফ পড়া।
৫. দুরূদ শরীফের পর দু’আয়ে মাছুরা পড়া।
৬. দুই দিকে সালাম ফিরানো।
৭. প্রথমে ডানদিকে সালাম ফিরানো।
৮. সালামের সময় ইমামের মুক্তাদী, ফেরেশতা এবং নেক জিন্নাতের নিয়ত করা।
৯. সালামের সময় মুক্তাদীগণ ইমামের, ফেরেশতা ও নেক জিন্নাতের এবং ডান ও বামের মোক্তাদীদের নিয়ত করা।
১০. একা নামাযী কেবল ফেরেশতাগণের নিয়ত করা।
১১. মুক্তাদীগণ ইমামের সাথে সাথে সালাম ফিরানো।  
১২. প্রথম সালামের আওয়াজ দ্বিতীয় সালাম অপেক্ষা বুলন্দ করা।
১৩. মাসবুক ব্যক্তি ইামামের সালাম ফিরানো শেষ করার অপেক্ষা করা।
সালাম ফিরানোর সুন্নত তরীকা
চেহারা কিবলামুখী থাকাবস্থায় সালাম শুরু করে আস্তে আস্তে চেহারা ডানে ফিরাবে এবং দৃষ্টি কাঁধের উপর রাখবে। দ্বিতীয় সালাম অপেক্ষা প্রথম সালামের আওয়াজ বড় হবে এবং Ž ৈŸ ¹  ž ž ¦ এর মধ্যে  ž ž ¦   শব্দের লাম কে এক আলিফের বেশি টানা নিষেধ এবং দ্বিতীয় সালামের আওয়াজ প্রথম সালাম অপেক্ষা ছোট হবে এবং প্রথম সালামের ন্যায় বেশি টানবে না।
উৎসঃ দাওয়াতুল হক

অযু

| comments

ওজুর ফজিলত
হযরত উসমান বিন আফ্ফান রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূল সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি সঠিকভাবে ওজু করে তার দেহের পাপ-পঙ্কিলতা নখের প্রান্তভাগ দিয়ে বেরিয়ে যায়। (মুসলিম)

অজুর বিবরণ
১.মনে মনে ওজুর নিয়ত করা। মুখে উচ্চারণ করা নিস্প্রয়োজন।
২.“বিসমিল্লাহ” বলে ওজু শুরু করা।
৩. প্রথমেই হাতের কব্জিদ্বয় ধৌত করা।
৪. এরপর গড়গড়া কুলি করা, নাকে পানি দেয়া এবং নাক ঝেড়ে ফেলা।
৫. অতঃপর মুখমণ্ডল ধৌত করা। (মুখের সীমানা: মাথার চুলের অগ্রভাগ থেকে নীচের থুতি পর্যন্ত এবং এক কান থেকে অপর কান পর্যন্ত।)
৬. তারপর আঙ্গুলের ডগা থেকে কনুই পর্যন্ত হস্তদ্বয় ধৌত করা। প্রথমে ডান হাত, তারপর বাম হাত।
৭. এরপর হাত ভিজিয়ে পুরো মাথা ও দুই কান একবার মাসেহ্ করা।
৮. সবশেষে দুই পা টাকনু পর্যন্ত ধৌত করা। প্রথমে ডান পা, তারপর বাম পা।
৯. ওজু শেষে এই দোয়া পড়া
أَََشْهَدُ أَنْ لا إلَه إِلّا الله وَ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُوْلُهُ

লক্ষনীয়: ওজুর প্রতিটি অঙ্গ তিনবার ধৌত করা সুন্নত। তবে একবার বা দুইবার ধৌত করলেও ফরজ আদায় হবে। কিন্তু মাথা একবার মাসেহ করাই সুন্নত। একাধিক বার মাথা মাসেহ করা শরীয়ত বিরোধী।

ওযু সংক্রান্ত বিভিন্ন ত্রুটি
১. নিয়ত মুখে উচ্চারণ করা।
২. পানি অপচয় করা।
৩. ওজুর অঙ্গ সমূহের কোন অংশে পানি না পৌঁছানো।
৪. গর্দান মাসেহ করা।
৫. ওজুর কোন একটি অঙ্গ তিনবারের অধিক ধোয়া।
৬. মাথা একাধিক বার মাসেহ্ করা।
৭. বায়ু বের হওয়ার কারণে শৌচ করা। অথচ শৌচ করতে হয় শুধুমাত্র পেশাব বা পায়খানার পর।
৮. ওজুর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ধারাবাহিকভাবে না ধোয়া। এতে ওজু পূর্ণতা পায় না।
৯. নখে নেইল-পালিশ বা এ জাতীয় কোন কিছূ লাগানো। যাতে ওজু ও গোসলের পানি যথাস্থানে পৌঁছে না।
১০. অনেকের ধারণা ওজুর শুরুতে হাতের কব্জিদ্বয় ধুয়ে নিলে পরবর্তীতে হাত ধোয়ার সময় কব্জি আর ধোয়া লাগে না। এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। জানা উচিত, ওজুর শুরুতে হাতের কব্জি ধৌত করা সুন্নত। আর মুখমণ্ডল ধোয়ার পর আঙ্গুলের ডগা থেকে কনুই পর্যন্ত সম্পূর্ণ হাত ধৌত করা ওজুর ফরজ। সুন্নত আদায়ের দ্বারা ফরজ আদায় হয় না। সে জন্য মুখ ধোয়ার পর কব্জি সহ পুরো হাত ধুইতে হবে।
১১. পায়ের গোড়ালি ও নিচের পাতায় পানি না পৌঁছানো।
অসুস্থ ব্যক্তির পবিত্রতার পদ্ধতি
১. অপারগ না হলে অসুস্থ ব্যক্তির উপরও পানি দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করা ফরজ। অতএব রুগ্নব্যক্তি ছোট অপবিত্রতা ( পায়খানা, পেশাব, বায়ুক্রম ইত্যাদি) থেকে ওজুর মাধ্যমে পবিত্র হবেন। আর বড় অপবিত্রতা (স্ত্রী সহবাস, স্বপ্ন-দোষ ইত্যাদি) থেকে গোসলের মাধ্যমে পবিত্র হবেন।
২. রূগ্নব্যক্তি যদি পানি দিয়ে পবিত্রতা অর্জনে অক্ষম হন তবে পবিত্র মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করবেন। বালিযুক্ত দেয়ালেও তায়াম্মুম করতে পারেন।
৩. রোগী যদি একাকি পবিত্রতা অর্জনে অক্ষম হন তবে অন্য কেউ তাকে ওজু বা গোসল অথবা তায়াম্মুম করিয়ে দিবেন।
৪. ওজুর কোন অঙ্গে ক্ষত বা ঘা থাকলে যদি পানি দ্বারা ক্ষতস্থানের কোন ক্ষতির আশংকা না হয় তবে সে স্থানে পানি পৌঁছাতে হবে। আর যদি ক্ষতির আশংকা হয় তবে হাত ভিজিয়ে সে স্থান মাসেহ করে নিবেন। যদি মাসেহর দ্বারাও কোন ক্ষতির আশংকা হয় তবে তিনি তায়াম্মুম করবেন।
৫. যদি ওজুর কোন অঙ্গে ব্যাণ্ডেজ বা প্লাস্টার করা থাকে তাহলে পানি দিয়ে সে অংশ মাসেহ করবেন, তায়াম্মুম করার প্রয়োজন নেই।
৬. সাধ্যমত সকল ধরনের নাজাসা (নাপাকি) থেকে পবিত্র হওয়া রোগীর উপরও ওয়াজিব । যদি অসুস্থ ব্যক্তি পূর্ণাঙ্গ পবিত্রতা অর্জনে অক্ষম হন তবে তিনি যে অবস্থায় আছেন সে অবস্থায় নামাজ আদায় করবেন। এভাবে তার নামাজ সহীহ হবে এবং এ নামাজ পুনঃ আদায় করতে হবে না।
৭. রোগী হলেও অপবিত্রতার অজুহাতে নামাজ আদায়ে বিলম্ব করা নাজায়েয। বরং তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যথা সম্ভব পবিত্রতা অর্জন করবেন এবং ঐ অবস্থায় নামাজ আদায় করবেন। অপারগতা বশতঃ তার শরীর বা পোশাক-আশাকে কোন নাজাসা (নাপাকি) থাকলেও কোন অসুবিধা নেই।

লিখেছেনঃ নূরুল্লাহ তারীফ

নামাজের সময় এবং আধুনিক বিজ্ঞান

| comments

আল্লাহ তায়ালা মানুষকে চলনশীল দেহ প্রদান করেছেন। এজন্য তার স্বাস্থ্য দেহের চলার (অর্থাৎ ব্যায়াম ইত্যাদি) ওপর টিকে থাকে। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মানুষকে সচল রাখে। থেমে থেমে নামাজের জন্য মসজিদে যাওয়ার প্রয়োজন হয়। জামাতে নামাজ পড়া একই সঙ্গে উচ্চমানের ব্যায়াম হিসেবেও কাজ করে।
ফজরের সময় : যখন রাত শেষ হয়ে আসে, তখন সূর্য উদয় হওয়ার আগে ফজরের নামাজ ফরজ করা হয়েছে। এ সময়ের নামাজ হালকা প্রকৃতির। সারারাত আরাম করার পর ওই সময় পাকস্থলীও খালি হয়ে যায়। এজন্য এ সময় হালকা ও সংক্ষিপ্ত নামাজ নির্ধারণ করা হয়েছে যাতে মানুষের ক্ষতি না হয়। নামাজি এই চার রাকাত নামাজ পড়ে শারিরীক ও মানসিকভাবে উপকৃত হয়। ফজর নামাজ পড়ে লোকেরা নিজ অবসাদগ্রস্ত দেহকে পুনরায় সক্রিয় ও চলমান করে। এরপর সারাদিন নিজ রিজিক ও জীবিকা অর্জন করার জন্য কাজকর্মে মনোযোগ দেয়ায় উদ্দীপনা ফিরে পায়। মস্তিষ্ক চিন্তা-ভাবনার জন্য প্রস্তুত হতে পারে। সুবেহ সাদিকের সতেজ প্রকৃতি এবং আলোতে মানুষ নামাজের জন্য বাইরে বের হয় এবং পায়ে হেঁটে মসজিদে যায়, এতে সতেজ পরিচ্ছন্ন প্রশান্ত পরিবেশ থেকে যে সূক্ষ্ম অনুভূতির সৃষ্টি হয় তা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী।

জোহরের সময় : দিন শুরুর সঙ্গে সঙ্গে মানুষ জীবিকা অর্জনে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। ধুলা-ময়লা তার গায়ে লাগে। রোগ-জীবানু হাত-পায়ে লাগার আশঙ্কাও রয়েছে। কেননা মানুষ জীবাণুযুক্ত বায়ুর মধ্যে থাকে। তখন তার দেহের ওপর জীবাণু আক্রমণ করে। এছাড়াও দুপুর পর্যন্ত কাজ করতে করতে শ্রান্তিও অনুভূত হয়। এ কারণে একজন নামাজি জোহর নামাজের জন্য অজু করে স্বীয় হাত, মুখ, পা ইত্যাদি ধৌত করায় দেহমনে পরিচ্ছন্নতার কারণে প্রফুল্লতা আসে। এর ফলে রোগের কোনো আশঙ্কাও থাকে না।

ক্লান্ত দেহে জোহরের নামাজ পড়ে আরাম ও প্রশান্তি অনুভব করে এবং পুনরায় উজ্জীবিত হয়, যার দ্বারা শ্রান্তি দূর হয়ে যায়। এসব উপকারিতা একজন নামাজির জোহরের নামাজের সময় অর্জিত হয়।

আসরের সময় : জ্ঞানবান ও চিন্তাশীল ব্যক্তি এবং বিজ্ঞ মাত্রেই জানেন, পৃথিবী দুই ধরনের গতিতে চলে। এগুলো হলো : লম্ব ও বৃত্তীয়।

যখন সূর্য ঢলতে থাকে, তখন পৃথিবীর ঘূর্ণন কমতে থাকে, এমনকি আসরের সময় ঘূর্ণনের পরিমাণ একেবারেই কমে যায়। এ কারণে মানুষের ওপর দিনের অনুভূতি প্রবল হতে থাকে, প্রকৃতির মধ্যে স্থবিরতা এবং অবসাদগ্রস্ততা প্রদর্শিত হতে থাকে। আসরের নামাজের সময় মানুষের সচেতন অনুভূতির ওপর অচেতন অনুভূতির প্রভাব শুরু হয়, যার দ্বারা মানুষ আরামদায়ক অনুভূতি লাভ করে।

মাগরিবের সময় : মানুষ সারাদিন শ্রম ও কষ্টের মধ্যে কাটায় এবং নিজ ও পরিবারের জন্য রুজি-কামাই করে আল্লাহ তায়ালার শোকরিয়া আদায় করে যে, সেই মহান সত্তা এগুলো অর্জন করার জন্য শক্তি প্রদান করেছেন। এটি আনন্দের মধ্যে হয়, যার দ্বারা অন্তর এক বিশেষ প্রকারের আনন্দ অনুভব করে। মাগরিবের সময় সে আল্লাহ তায়ালার নিকট হাজিরা দিয়ে নিজ দাসত্বকে প্রকাশ করে, আল্লাহ তায়ালার শোকর আদায় করে। মানুষের এই আকুতি তাকে নূরানী তরঙ্গমালায় আচ্ছাদিত করে এবং তার আত্মাকে প্রশান্তি প্রদান করে।

এশার সময় : মানুষ স্বভাবগতভাবে রাতে বাড়ি ফিরে সুস্বাদু খাবার খায়। যখন সে কাজকর্ম থেকে ঘরে ফিরে আসে, খানা খায় এবং স্বাদ ও লোভের কারণে অতিরিক্ত খেয়ে ফেলে। যদি সে খাওয়ার পরপরই শুয়ে পড়ে, তাহলে সে ধ্বংসকারী রোগের শিকার হয়। মানুষ সারাদিনের ক্লান্তির পর খাবার খেয়ে তৎক্ষণাৎ শুয়ে পড়লে তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। শোয়ার আগে এবং অতিরিক্ত খানা খাওয়ার পরে কমবেশি ব্যায়াম করে নেওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। এশার নামাজ সে ক্ষেত্রে আ@ি@@@ক চাহিদার পাশাপাশি দৈহিক চাহিদা অর্থাৎ ব্যায়ামের কাজটিও করে।

লেখক : মাওলানা জাকির হোসাইন আজাদী, খতিব, ত্রিমোহনী জামে মসজিদ, খিলগাঁও, ঢাকা।

ছবির স্বত্তঃ Foisal Masum

নামাজের উদ্দেশ্য ও মর্মকথা

| comments

সালাত আরবী শব্দ। যার আভিধানিক অর্থ হলো- কারো দিকে মুখ করা, অগ্রসর হওয়া, দো'য়া করা, নিকটবতর্ী হওয়া, পবিত্রতা বর্ণনা করা, ক্ষমা প্রার্থনা করা। তবে সালাত নামায হিসেবেই আমাদের কাছে বেশী পরিচিত। নামায ফারসী শব্দ। কোরআনের পরিভাষায় নামাযের অর্থ হলো আলস্নাহর দিকে মনোযোগ দেওয়া, তাঁর দিকে অগ্রসর হওয়া, তাঁর কাছে যাওয়া, তাঁর একেবারে নিকটবতর্ী হওয়া। এই সালাতের হুকুম দেয়া হয়েছে ইকামত শব্দের মাধ্যমে। ইসলামের ৫টি মৌল ভিত্তির মধ্যে সালাত দ্বিতীয়। একটি আয়াতে বলা হয়েছে- "এবং প্রত্যেক নামাযে নিজের দৃষ্টি ঠিক আলস্নাহর দিকে রাখ এবং আন্তরিক আনুগত্যের সাথে তাকে ডাকো।" সূরা আলাকের ১৯নং আয়াতে বলা হয়েছে_ এবং সিজদা কর ও আলস্নাহর নিকটবতর্ী হও।" রাসুল (স.) এরশাদ করেছেন- "সালাত হচ্ছে মুমিনের জন্য মিরাজস্বরূপ।" সালাতকে জান্নাতের চাবি হিসেবে উলেস্নখ করেছেন মহানবী (স.)। এটা বান্দা ও আলস্নাহর মাঝে সুনিবিড় সম্পর্ক গড়ে তোলার অন্যতম সেতুবন্ধন।

সালাতের মর্ম ও উদ্দেশ্যে:প্রত্যেকটি কর্মকাণ্ডের একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য থাকে। নামাজের উদ্দেশ্যে সম্পর্কে আল্লাহ কোরআন মজিদের সূরা আনআমের ১৬২নং আয়াতে ঘোষণা করেন- "নিশ্চয়ই আমার নামায, আমার কোরবানী, আমার জীবন ও আমার মরণ সবকিছু বিশ্বজাহানের প্রতিপালক আলস্নাহর জন্য।" সূরা যারিয়াতের ৫৬নং আয়াতে আল্লাহ বলেন- "আমি জি্বন ও মানবজাতিকে কেবল আমার ইবাদত ছাড়া অন্য কোন উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করেনি।" সূরা আনআমের ৭৯নং আয়াতে আল্লাহ বলেন- "আমি নিষ্ঠার সাথে সেই মহান সার্বভৌম মালিকের দিকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছি যিনি এই আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টি করেছেন, আমি মুশরিকদের দলভুক্ত নই।" কোরআন মজিদের অন্যত্র আল্লাহ বলেন- "আমাকে স্মরণ করার জন্য নামায কায়েম করো।"

সালাতে খুশু-খুজু (বিনয় ও ধীরস্থিরতা):সূরা মুমিনুন-এর ১-২নং আয়াতে আল্লাহ বলেন- "নিশ্চিতভাবে সফলকাম হয়েছে মুমিনরা, যারা নিজেদের নামাযে বিনয়াবনত হয়।" সূরা মুমিনুন-এ আল্লাহ মুমিনদের ৭টি গুণের কথা উলেস্নখ করেছেন। তার মধ্যে প্রথম গুণ হলো- নামাযে খুশু-খুজু অবলম্বন করা। হযরত আয়শা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি নবী করিমকে (স.) নামাযে এদিক-ওদিক তাকানো সম্পর্কে জিজ্ঞেস করায় তিনি বলেন- "এটা আয়শা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিমকে (স.) জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন- "তুমি এভাবে নামায আদায় করবে যেন তুমি স্বয়ং আলস্নাহকে দেখতে পাচ্ছ, আর যদি তোমার পক্ষে তা সম্ভব না হয়, তবে তুমি অবশ্যই মনে করে নিবে যে, আল্লাহ তোমাকে সর্বক্ষণ দেখছেন (মুসলিম শরীফ)"। সূরা বাকারার ৪৩ ও ৪৫নং আয়াতে আল্লাহ বলেন- "নামায কায়েম কর, যাকাত প্রদান কর এবং যারা আমার সামনে অবনত হচ্ছে তাদের সাথে তোমরাও অবনত হও। সবর ও নামায সহকারে সাহায্য চাও। নিঃসন্দেহে নামায বড়ই কঠিন কাজ, কিন্তু সেসব অনুগত বান্দাদের জন্য নয় যারা মনে করে, সবশেষে মিলতে হবে তাদের রবের সাথে এবং তারই দিকে ফিরে যেতে হবে।" অর্থাৎ যে ব্যক্তি আলস্নাহর অনুগত নয় এবং আখেরাতে বিশ্বাস করে না, তার জন্য নিয়মিত নামায পড়া একটি আপদের শামিল। কিন্তু যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় ও সানন্দে আলস্নাহর আনুগত্যের নিজেকে সোপর্দ করেছে এবং যে ব্যক্তি মৃতু্যর পর তার মহান প্রভুর সামনে হাযির হবার কথা চিন্তা করে, তার জন্য নামায ত্যাগ করাই কঠিন।

কেয়ামতে সবার আগে নামাযের হিসাব নেয়া হবে:আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুল (স.) বলেছেন- কেয়ামতের দিন বান্দার আমলের মধ্য থেকে যে আমলটির হিসাব সর্বপ্রথম গ্রহণ করা হবে সেটিই হলো নামায। যদি এ হিসাবটি নিভর্ুল পাওয়া যায় তাহলে সে সফলকাম হবে ও নিজের লক্ষে পেঁৗছে যাবে। আর যদি এ হিসাবটিতে ভুল দেখা যায় তাহলে সে ক্ষতিগ্রস্ত হবে ও ধ্বংস হয়ে যাবে। যদি তার ফরযগুলোর মধ্যে কোন কমতি থাকে তাহলে মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ বলবেন, দেখ আমার বান্দার কিছু নফলও আছে নাকি, তার সাহায্যে তার ফরযগুলোর কমতি পূরণ করে নাও। তারপর সমস্ত আমলের হিসেব এভাবেই করা হবে। ঈমাম তিরমিযী হাদিসটি রেওয়ায়াত করেছেন এবং এটিকে হাসান হাদীস বলেছেন। সূরা আল কালাম এর ৪২-৪৩নং আয়াতে আল্লাহ বলেন- "যেদিন কঠিন সময় এসে পড়বে এবং সেজদা করার জন্য লোকদেরকে ডাকা হবে কিন্তু তারা সেজদা করতে সক্ষম হবে না। তাদের দৃষ্টি হবে অবনত। হীনতা ও অপমানবোধ তাদেরকে আচ্ছন্ন করে ফেলবে। এর আগে যখন তারা সম্পূর্ণ সুস্থ ছিল তখন সিজদার জন্য তাদের ডাকা হলে তারা অস্বীকৃতি জানাতো।"

নিশ্চয়ই নামায মন্দ ও অশস্নীল কাজ থেকে নামাযীকে ফিরিয়ে রাখে:সূরা আনকাবুতের ৪৫নং আয়াতে আল্লাহ বলেন- "তোমার প্রতি অহির মাধ্যমে যে কিতাব পাঠনো হয়েছে তা তেলাওয়াত করো এবং নামায কায়েম করো, নিশ্চয়ই নামায মন্দ ও অশস্নীল কাজ থেকে বিরত রাখে।" ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত- রাসুল (স.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি নামাযের আনুগত্য করেনি তার নামাযই হয়নি আর নামাযের আনুগত্য হচ্ছে মানুষ অশস্নীল ও খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকবে (ইবনে জারীর)"। আল্লাহ এখানে বলেছেন, নিশ্চয়ই নামায, নামাযী ব্যক্তির থেকে এবং নামাযীদের সমাজ থেকে ইসলামের দৃষ্টিতে অশস্নীল ও নিষিদ্ধ কাজ দূর করে। লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, আলস্নাহতায়ালা নিশ্চয়তা দিয়েই কথাটি বলেছেন। অর্থাৎ আল্লাহ নামায কায়েমের মাধ্যমে সমাজ থেকে অশস্নীল ও নিষিদ্ধ কাজগুলো বন্ধ করতে চান। এ আয়াতের মাধ্যমে আমাদের কাছে একথাটি পরিষ্কার হলো যে, নামাযের উদ্দেশ্য হচ্ছে মুসলমানদের ব্যক্তি ও সমাজ থেকে ইসলামের দৃষ্টিতে অশস্নীল ও নিষিদ্ধ কাজ নিশ্চিতভাবে দূর করা। কিন্তু আমাদের বর্তমান সমাজের দিকে তাকালে দেখতে পাই, যত দিন যাচ্ছে আমাদের সমাজে নামাযীর সংখ্যা বাড়ছে কিন্তু তার চেয়ে অনেক বেশী গুণ বাড়ছে ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে অশস্নীল ও নিষিদ্ধ কাজের সংখ্যা। যে উদ্দেশ্য সাধনের জন্য আল্লাহ নামায ফরয করেছেন, মুসলমানদের ব্যক্তি ও সমাজে বর্তমানে নামায সে উদ্দেশ্য সাধনে ব্যর্থ হচ্ছে।

সালাতের গুরুত্ব:হযরত ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি তাঁর সমস্ত গভর্ণরদের কাছে এই মর্মে নির্দেশ জারি করেন যে- "তোমাদের যাবতীয় দায়-দায়িত্বের মধ্যে নামাযই আমার নিকট সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।" ইসলামী জীবন বিধানে নামাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল বা ইবাদত প্রত্যেক মুসলিম নর নারীর ওপর প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরয করা হয়েছে। পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরয হওয়ার আদেশ মহান আল্লাহ তার প্রিয় নবীকে আরশে আযীমে ডেকে নিয়ে সরাসরি দিয়েছিলেন কিন্তু অন্য সকল কাজের আদেশ জীব্রাঈল (আ.)-এর মাধ্যমে পাঠিয়েছিলেন। পবিত্র কুরআন মজিদে ৮২ বার নামাযের কথা বলা হয়েছে। সন্তানদের বয়স যখন সাত বছর হয় তখন নামায শিক্ষা দেয়া এবং দশ বছর বয়সে নামায পড়তে বাধ্য করার জন্য পিতা-মাতার প্রতি নির্দেশ রয়েছে। নামায ফরয হওয়ার পর থেকে মৃতু্য পর্যন্ত তা অবশ্য পালনীয়। মহিলাদের বিশেষ অবস্থা, অজ্ঞান ও পাগল হওয়া ছাড়া নামায থেকে বিরত থাকার কোন সুযোগ নেই। অসুস্থ অবস্থায় দাঁড়িয়ে নামায পড়তে ব্যর্থ হলে বসে, বসে পড়তে না পারলে শুয়ে শুয়ে এবং তাও না হলে ইশারায় নামায পড়ার বিধান রয়েছে। সফরে রোজার জন্য শিথিলতা থাকলেও নামায সংক্ষিপ্তাকারে পড়ার বিধান রয়েছে। এমনকি কোন অমুসলিম যদি আসরের সময় ইসলাম কবুল করে তবে ঐ দিন আসরের নামায থেকে তার ওপর নামায ফরয হয়ে যায়।

সবাই আল্লাহর তসবীহ্ করছে:

সূরা আন নূরের ৪১নং আয়াতে আল্লাহ বলেন- "তুমি কি দেখ না যে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সবাই এবং উড়ন্ত পাখিরা আল্লাহর মহিমা ও পবিত্রতা ঘোষণা করছে। ওদের প্রত্যেকের জানা কিভাবে আলস্নাহর মহিমা ও পবিত্রতা ঘোষণা করতে হয়।" গাছপালা পাহাড়-পর্বতসমূহ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে, চতুষ্পদ জন্তুসমূহ অবনত হয়ে অর্থাৎ রুকুর হালতে, সরিসৃপ প্রাণীসমূহ বুকের উপর ভর দিয়ে অর্থাৎ সিজদার হালতে আর ব্যাঙ, কুকুর, বিড়াল, শিয়াল প্রভৃতি প্রাণীসমূহ তাশাহুদের সূরতে আল্লাহর তাসবীহ করছে। আশরাফুল মাখলুকাত হিসেবে মানুষ দাঁড়িয়ে, অবনত হয়ে, সিজদার হালতে ও তাশাহুদের সূরতে একমাত্র নামাযের মাধ্যমেই আলস্নাহর তাসবীহ পাঠ করতে সমর্থ হয়।

নামাযের মাধ্যমে কালেমার ওয়াদা পালনের অভ্যাস হয়:নামায এমন এক আমল যেখানে নামাযীর মন-মগজ, মুখ, হাত-পা, চোখ-কান_ সবই ব্যবহার করতে হয়। নামাযের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সবসময় সর্বাবস্থায় যা কিছু করা হয় বা বলা হয়, তা সবই আল্লাহতায়ালার হুকুম ও রাসুল (সা.)-এর তরীকা মতো করতে হয়। কোনো একটা কাজও নামাযীর নিজের ইচ্ছেমতো করা চলে না। এভাবে প্রতিদিন পাঁচবার নামাযে আলস্নাহর হুকুম ও রাসুলের তরীকা মতো মন-মগজ ও শরীরের সব অঙ্গকে কাজে লাগিয়ে কালেমার ২ দফা ওয়াদা পালনের অভ্যাস হয়।

নামায আল্লাহকে ভুলতে দেয় না: আলস্নাহতায়ালা সূরা তোয়াহার ১৪নং আয়াতে বলেন: "আমাকে মনে রাখার জন্য নামায কায়েম কর।"নামায আমাদেরকে সবসময় মনে করিয়ে দেয় যে-আমরা সবসময়ই আল্লাহ যা অপছন্দ করেন তা আমরা করতে পারি না। এভাবেই পাঁচ ওয়াক্ত নামায যে মসজিদে আদায় করতে অভ্যাস করে নেয়, সে আল্লাহকে ভুলে থাকতে পারে না।

-সদরুল আমীন রাশেদ

দোআ কুনুত

| comments

আল্লাহুম্মা ইন্না নাস্‌তায়ীনুকা, ওয়া নাস্‌তাগ্‌ফিরুকা, ওয়া নু'মিন বিকা, ওয়া নাতাওয়াক্কালু 'আলাইকা, ওয়া নুছনী আলাইকাল খাইর। ওয়া নাশ কুরুকা, ওয়ালা নাকফুরুকা, ওয়া নাখলাউ, ওয়া নাতরুকু মাঁই ইয়াফজুরুকা আল্লাহুম্মা ইয়্যাকা না'বুদু ওয়া লাকানুসল্লী, ওয়া নাসজুদু, ওয়া ইলাইকা নাস'আ, ওয়া নাহফিদু, ওয়া নারজু রাহমাতাকা, ওয়া নাখশা আযাবাকা, ইন্না আযাবাকা বিল কুফ্‌ফারি মুলহিক।



اللـهم اهـدِنا فيمَن هـديت .. وعافـِنا فيمـَن عافـيت .. وتولنا فيمن توليت .. وبارك لنا فيما أعطيت .. وقِـنا شـر ما قضيت .. انك
تقضي ولا يـُقضى عليك.. اٍنه لا يذل مَن واليت .. ولا يعـِـزُ من عاديت .. تباركت ربنا وتعـاليت .. لك الحمد على ما قـضيت .. ولك
الشكر على ما أعـطيت .. نستغـفـُرك اللـهم من جميع الذنوب والخطـايا ونتوب اٍليك.

اللهم أقسم لنا من خشيتك ما تحول به بيننا وبين معـصيتك .. ومن طاعـتك ما تبلّـغـُـنا به جنتَـك .. ومن اليقـين ما تُهـّون به عـلينا
مصائبَ الدنيا .. ومتـّعـنا اللهم باسماعِـنا وأبصارِنا وقـواتـِنا ما أبقـيتنا .. واجعـلهُ الوارثَ منـّا .. واجعـل ثأرنا على من ظلمنا.. وانصُرنا
على من عادانا .. ولا تجعـل مصيبـتَـنا في ديـننا .. ولا تجعـل الدنيا أكبرَ هـمِنا .. ولا مبلغَ علمِنا .. ولا اٍلى النار مصيرنا .. واجعـل
الجنة هي دارنا .. ولا تُسلط عـلينا بذنوبـِنا من لايخافـُـك فينا ولا يرحمـنا .

নামাজের দোয়া সমুহ (বাংলা তর্জমা সহ)

| comments (11)

জায়নামাজের দোয়াঃ
জায়নামাজে দাঁড়িয়ে নামাজ শুরুর পূর্বেই এই দোয়া পড়তে হয়,
বাংলা উচ্চারন-ইন্নি ওয়াজ্জাহ তু ওয়াজ্ হিয়া লিল্লাজি, ফাত্বরস্ সামা-ওয়া-তি ওয়াল্ আরদ্বঅ হানি-ফাওঁ ওয়ামা-আনা মিনাল মুশরিকী-ন।


অর্থ-নিশ্চই আমি তারই দিকে মুখ করলাম, যিনি আসমান ও যমীন সৃষ্টি করেছেন এবং বাস্তবিকই আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই ।


এরপর নামাজের নিয়াত ও তাক্ বীরে তাহঃরীমা
নামাজের ইচ্ছা করাই হচ্ছে নামাজের নিয়াত করা। মুখে উচ্চারণ করা জরুরী নয়, তবে মুস্তাহাব।
সমস্ত নামাজেই ,নাওয়াইঃতু আন্ উছাল্লিয়া লিল্লাহি তায়া'লা


(২ রাকাত হলে) রাক্ 'য়াতাই ছালাতিল
(৩ রাকাত হলে) ছালাছা রাক্ 'য়াতাই ছালাতিল
(৪ রাকাত হলে) আর্ বায় রাক্ 'য়াতাই ছালাতিল


(ওয়াক্তের নাম) ফাজ্ রি/ জ্জুহরি/আ'ছরি/মাগরিবি/ইশাই/জুমুয়া'তি


(কি নামাজ তার নাম) ফারদ্বুল্ল-হি/ওয়াজিবুল্ল-হি/সুন্নাতু রসূলিল্লাহি/নাফলি।


(সমস্ত নামাজেই) তায়া'লা মুতাওয়াজ্জিহান্ ইলা জিহাতিল্ কা'বাতিশ শারীফাতি আল্ল-হু আক্ বার।




বাংলায় নিয়াত করতে চাইলে বলতে হবে,
আমি আল্ল-হ্'র উদ্দেশ্যে ক্কেবল মুখী হয়ে,
ফজরের/জোহরের/আসরের/মাফরিবের/ঈশার/জুময়ার/বি'তরের/তারঅবি/তাহাজ্জুদের (অথবা যে নামাজ হয় তার নাম)
২ র'কাত/৩র'কাত/৪ র'কাত (যে কয় রাকাত নামাজ তার নাম)
ফরজ/ওয়াজিব/সুন্নাত/নফল নামাজ পড়ার নিয়াত করলাম, আল্ল-হু আকবার ।




তাকবীরে তাহরীমা- আল্লাহু আক্ বার, অর্থ-আল্লাহ মহান ।


সানাঃ (হাত বাধার পর এই দোয়া পড়তে হয়)
উচ্চারণ : সুবহা-না কাল্লা-হুম্মা ওয়া বিহাম্ দিকা ওয়াতাবারঅ কাস্ মুকা ওয়াতা’ আ-লা জাদ্দুকা ওয়া লা-ইলা-হা গাইরুক।
অর্থ-হে আল্লাহ ! আমি আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছি এবং আপনার মহিমা বর্ণনা করছি। আপনার নাম বরকতময়, আপনার মাহাত্ম্য সর্বোচ্চ এবং আপনি ভিন্ন কেহই ইবাদতের যোগ্য নয় ।


তাআ’উজঃ
উচ্চারণ- আউযুবিল্লা-হি মিনাশ শাইত্বা-নির রাজীম ।
অর্থ-বিতশয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাচ্ছি ।


তাসমিয়াঃ বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম ।
অর্থ-পরম দাতা ও দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি ।


এরপর সূরা ফাতিহা পাঠ করতে হয়, সূরা ফাতিহা তিলাওয়াতের পর পবিত্র কোর আনের যে কোন জায়গা থেকে তিলাওয়াত করতে হয় ।


রুকুর তাসবীহঃ
উচ্চারণ-সুবহা-না রব্ বি ইঃয়াল্ আ'জ্বীম। অর্থ-মহান প্রতিপালকের পবিত্রতা ও মহাত্মতা ঘোষণা করছি ।


তাসমীঃ (রুকু থেকে দাঁড়ানোর সময় পড়তে হয়) সামি আল্লা হুলিমান হামিদাহ,
অর্থ-প্রশংসাকারীর প্রশংসা আল্লাহ শোনেন ।


তাহমীদঃ(রুকু থেকে দাঁড়িয়ে পড়তে হয়) রাব্বানা লাকাল হামদ । অর্থ-হে আমার প্রভু, সমস্ত প্রশংসা আপনারই ।


সিজদার তাসবীহঃ
উচ্চারণ-সুবহা-না রাব্বিয়াল আ'লা। অর্থ-আমার প্রতিপালক যিনি সর্বশ্রেষ্ট, তারই পবিত্রতা বর্ণনা করছি ।


দু'সিজদার মাঝখানে পড়ার দোয়াঃ
উচ্চারণ-আল্লাহু ম্মাগ ফিরলী ওয়ার হামনি ওয়ার যুক্কনী ।
অর্থ- হে আল্লাহ, আমাকে ক্ষমা করুন, আমাকে রহম করুন, আমাকে রিজিক দিন ।
তাশাহুদ বা আত্তাহিয়্যাতুঃ
উচ্চারণঃ আত্তাহিয়্যাতু লিল্লা-হি, ওয়াছ ছালা-ওয়াতু, ওয়াত-তাইয়্যিবা তু, আচ্ছালা মু আ'লাইকা, আইয়্যুহান নাবিয়্যু, ওয়ারাহ মাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ, আচ্ছালামু আলাইনা, ওয়া আ'লা ইবাদিল্লা হিছ-ছা লিহীন। আশহাদু আল লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহু, ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসুলুহু ।


অর্থঃ আমাদের সব সালাম শ্রদ্ধা, আমাদের সব নামাজ এবং সকল প্রকার পবিত্রতা একমাত্র আল্লাহর উদ্দেশ্যে। হে নবী, আপনার প্রতি সালাম, আপনার উপর আল্লাহর রহমত এবং অনুগ্রহ বর্ষিত হউক । আমাদের ও আল্লাহর নেক বান্দাদের উপর আল্লাহর রহমত এবং অনুগ্রহ বর্ষিত হউক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া আর কেউ নেই, আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, হযরত মুহাম্মদ (সঃ) আল্লাহর বান্দা এবং রাসুল ।
দরুদ শরীফঃ
উচ্চারণ-আল্লহুম্মা ছাল্লি আ'লা মুহাম্মাদিওঁ ওয়া আ'লা আ-লি মুহাম্মাদিন কামা ছাল্লাইতা আ'লা ইব্রহীমা ওয়া আ'লা আ-লি ইব্রহীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজী-দ্ ।আল্লাহুম্মা বারিক্ আ'লা মুহাম্মাদিওঁ ওয়া আ'লা আ'লি মুহাম্মাদিন, কামা বা-রাকতা আ'লা ইব্রহীমা ওয়া আ'লা আ'লি ইব্রহীমা ইন্নাকা হামিদুম মাজীদ ।


অর্থ-হে আল্লাহ, দয়া ও রহমত করুন হযরত মুহাম্মাদ (সঃ) এর প্রতি এবং তার বংশধরদের প্রতি, যেমন রহমত করেছেন হযরত ইব্রাহীম (আঃ) ও তার বংশধরদের উপর। নিশ্চই আপনি উত্তম গুনের আধার এবং মহান। হে আল্লাহ, বরকত নাযিল করুন হযরত মুহাম্মাদ (সঃ) এর প্রতি এবং তার বংশধরদের প্রতি, যেমন করেছেন হযরত ইব্রাহীম (আঃ) ও তার বংশধরদের উপর।নিশ্চই আপনি প্রশংসার যোগ্য ও সম্মানের অধিকারী ।


দোয়ায়ে মাসূরাঃ
উচ্চারন-আল্লা-হুম্মা ইন্নী জ্বলামতু নাফসী জুলমান কাছীরও ওয়ালা ইয়াগফিরু যুনূবা ইল্লা আনতা ফাগ্ ফিরলী মাগফিরাতাম মিন ইনদিকা ওয়ার হামনী ইন্নাকা আনতাল গাফুরুর রাহীম।


অর্থ-হে মহান আল্লাহ, আমি আমার নিজের উপর অনেক জুলুম করেছি (অর্থাৎ অনেক গুনাহ/পাপ করেছি) কিন্তু আপনি ব্যতীত অন্য কেহ গুনাহ মাফ করতে পারে না। অতএব হে আল্লাহ অনুগ্রহ পূর্বক আমার গুনাহ মাফ করে দিন এবং আমার প্রতি সদয় হোন; নিশ্চই আপনি অতি ক্ষমাশীল ও দয়ালু ।
দোয়ায়ে কুনুতঃ (বিতরের নামাজের পর ৩য় রাকায়াতে সূরা ফাতিহা ও অন্য কিরআত পড়ার পর এই দোয়া পড়তে হয় )।


উচ্চারণ-"আল্লাহুম্মা ইন্না নাসতা'ঈনুকা ওয়া নাসতাগ ফিরুকা, ওয়া নু'মিনু বিকা ওয়া না তা ওয়াক্কালু আলাইকা ওয়া নুছনি আলাইকাল খাইর। ওয়া নাশকুরুকা, ওয়ালা নাকফুরুকা, ওয়া নাখ লা, ওয়া নাত রুকু মাইয়্যাফ জুরুকা। আল্লাহুম্মা ইয়্যাকা না'বুদু ওয়ালাকা নুছাল্লি ওয়া নাসজুদু ওয়া ইলাইকা নাস'আ, ওয়া নাহফিদু ওয়া নারজু রাহমাতাকা ওয়া নাখ'শা আযাবাকা ইন্না আযা-বাকা বিল কুফফা-রি মুল হিক ।"


অর্থ-হে আল্লাহ, আমারা আপনার নিকট সাহায্য চাই। আপনার নিকট গোনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করি। আপনার প্রতি ঈমান এনেছি। আমরা কেবল মাত্র আপনার উপরেই ভরসা করি। সর্বপ্রকার কল্যান ও মংগলের সাথে আপনার প্রশংসা করি। আমরা আপনার শোকর আদায় করি, আপনার দানকে অস্বীকার করি না।আপনার নিকট ওয়াদা করছি যা, আপনার অবাধ্য লোকদের সাথে আমরা কোন সম্পর্ক রাখব না-তাদেরকে পরিত্যাগ করব । হে আল্লাহ, আমরা আপনারই দাসত্ব স্বীকার করি। কেবলমাত্র আপনার জন্যই নামাজ পড়ি, কেবল আপনাকেই সিজদা করি এবং আমাদের সকল প্রকার চেষ্টা-সাধনা ও কষ্ট স্বীকার কেবল আপনার সন্ততুষ্টির জন্যই । আমরা কেবল আপনার ই রহমত লাভের আশা করি, আপনার আযাবকে আমাওরা ভয় করি। নিশ্চই আপনার আযাবে কেবল কাফেরগনই নিক্ষিপ্ত হবে।

 
Support : Creating Website | Johny Template | Mas Template
Copyright © 2011. ইসলামী কথা - All Rights Reserved
Template Created by Creating Website Published by Mas Template
Proudly powered by Premium Blogger Template