السلام عليكم

যে ব্যক্তি নিয়মিত ইস্তেগফার (তওবা) করবে আল্লাহ তাকে সব বিপদ থেকে উত্তরণের পথ বের করে দেবেন, সব দুশ্চিন্তা মিটিয়ে দেবেন এবং অকল্পনীয় উৎস থেকে তার রিজিকের ব্যবস্থা করে দেবেন। [আবূ দাঊদ: ১৫২০; ইবন মাজা: ৩৮১৯]

কেয়ামত সংঘটিত হওয়ার পূর্ব নিদর্শনসমূহ

| comments

কুফর, অজ্ঞতা আর কুপ্রথার সয়লাব বিস্তর লাভের সাথে সাথে আল্লাহতায়ালা তাঁর আরও নিদর্শন পৃথিবীবাসীকে প্রত্যক্ষ করাবেন। সেইসব নিদর্শনের মাঝে অন্যতম একটি হল পৃথিবীর পূর্ব প্রান্তের একটি এবং পশ্চিম প্রান্তের একটি স্থান ধসে পড়া।’ এই ভূমি ধসের ফলে তাকদীর অস্বীকারকারীরা ধ্বংস হয়ে যাবে। (১) এছাড়া এ সময়েই পৃথিবীবাসী এক বিশাল ধোঁয়ার কুন্ডলী প্রত্যক্ষ করতে পারবে। (২) এই ধোঁয়ার কুন্ডলী ক্রমশ: সমগ্র বিশ্বকে গ্রাস করে ফেলবে। ধোঁয়ার তীব্রতায় মানবকুল অতিষ্ঠ হয়ে পড়বে। সকলের মাঝে এক চরম অস্থিরতা বিরাজ করতে থাকবে। ফলে মুসলমানরা স্থূল বুদ্ধিসম্পন্ন, অনুভূতিশূন্য, ব্যুত্পত্তিহীন হয়ে পড়বে। ঠাণ্ডা বা সর্দিজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে তারা একেবারে দুর্বল ও ক্ষীণ হয়ে যাবে। কিন্তু কাফের এবং মুনাফেকরা এই ধোঁয়ায় আক্রান্ত হয়ে কেউ একদিন, কেউ দুইদিন, আবার কেউ তিনদিন অচেতন থেকে পুনরায় চৈতন্য ফিরে পাবে। চল্লিশ দিন পর্যন্ত এই ধোঁয়া সমগ্র পৃথিবীকে অন্ধকারে আচ্ছন্ন করে রাখবে। এরপর ধীরে ধীরে আকাশ পরিষ্কার হয়ে যাবে (বুখারী, মুসলিম)।
পশ্চিম আকাশে সূর্যোদয়: ধোঁয়ার আচ্ছাদন কেটে যাওয়ার পর জিলহজ্ব মাসের নয় তারিখ দিবাগত রাতটি খুব দীর্ঘতর হবে। রাতের দীর্ঘতা দেখে মুনাফিকরা আতংকগ্রস্ত, শিশু বাচ্চারা নিদ্রা থেকে জাগ্রত, পশুপাখিরা আহারের জন্য ছটফট করবে, সর্বোপরি সারা দুনিয়ার মানবকুল ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে জোরে জোরে কান্নাকাটি শুরু করে দেবে। তারা মুখে ‘তওবা-তওবা’ শব্দ উচ্চারণ করতে থাকবে। হতাশা এবং নিরাশাগ্রস্ত মানুষ দিনের আলোর জন্য অস্থির হয়ে পড়বে। এমনি হতাশা ও নিরাশার মাঝে প্রায় তিন-চার রাতের মত দীর্ঘ হওয়ার পর চন্দ্রগ্রহণের ন্যায় সূর্য একেবারে ক্ষীণ ও সামান্য রৌশনীসহ পশ্চিমাকাশে উদিত হবে। (৩) এই অবস্থা দেখে সমস্ত মানুষ আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাসী হবে এবং মুখেও তা স্বীকার করতে থাকবে। কিন্তু ঐ সময় আর তাদের এই বিশ্বাস স্বীকারের কোন মূল্যই থাকবে না। তওবার দরজা তখন সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যাবে। এরপর থেকে সূর্য আবার পূর্বদিক থেকে তার পূর্ণ উজ্জল্যতা ও আলোকরশ্মি নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই উদিত হতে থাকবে (আবু দাউদ, তিরমিজি)।

‘দাব্বাতুল আর্দ’-এর আত্মপ্রকাশ:পশ্চিমাকাশে সূর্য উদয়ের পরের দিন মানুষ এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনায় লিপ্ত থাকবে। এরই মাঝে কাবা শরীফের পূর্বপার্শ্বে অবস্থিত ‘সাফা’ পর্বত এক ভয়াবহ ভূমিকম্পে ফেটে খান খান হয়ে যাবে। আর এর ভেতর থেকে বেরিয়ে আসবে এক অদ্ভুত প্রজাতির প্রাণী। দুনিয়ার সাতটি প্রাণীর বিভিন্ন অংগ-প্রত্যঙ্গের সাথে এই অদ্ভুত প্রাণীর সাদৃশ্য থাকবে। সেই অদ্ভুত প্রাণীর মুখাবয়ব হবে মানুষের মত। আর পা হবে উটের মত। গর্দান বা ঘাড় হবে ঘোড়ার গর্দানের ন্যায়। লেজ থাকবে গরুর লেজের মত। নিতম্ব হবে ঠিক হরিণের নিতম্বের মত। হাত বানরের হাতের সাদৃশ্যপূর্ণ হবে। আর শিং থাকবে সর্বমোট ১২টি। অত্যন্ত পরিমার্জিত হবে তার ভাষা। তার এক হাতে থাকবে হযরত মূসা (আ.)-এর লাঠি। অপর হাতে থাকবে হযরত সুলাইমান (আ.)-এর আংটি। সে প্রচণ্ড দ্রুতগতিতে এবং তীব্রবেগে গোটা পৃথিবী পরিভ্রমণ করবে। কোন মানব সন্তানের পক্ষে তার অনুসরণ করা সম্ভব হবে না। আর কেউ পালিয়ে গিয়েও তার হাত থেকে নিস্তার পাবে না। প্রত্যেক ব্যক্তিকে সে একটি বিশেষ চিহ্ন লাগিয়ে দেবে। ঈমানদার ব্যক্তিদের কপালে হযরত মূসা (আ.)-এর লাঠি দ্বারা একটি নূরানী চিহ্ন’ অঙ্কিত করে দেবে। এই চিহ্নের কারণে ঐ ব্যক্তির চেহারা আলোকজ্জ্বল হয়ে উঠবে। আর অবিশ্বাসী ব্যক্তির গর্দান বা নাকে হযরত সুলাইমান (আ.)-এর আংটি দ্বারা ‘কালো মোহর’ লাগিয়ে দেবে। এই মোহরের কারণে তার চেহারা বিষণ্নতা ও অনুজ্জ্বলতায় অন্ধকারাচ্ছন্ন মনে হবে। এমন কি একই দস্তরখানে চার-পাঁচজন খেতে বসলে কে ঈমানদার আর কে ঈমানহীন, তা সহজেই পার্থক্য করা যাবে। এই প্রাণীটির নাম হলো ‘দাব্বাতুল আর্দ’। ঈমানদার ও ঈমানহীনদের এই চিহ্ন লাগানোর কাজ শেষ হলে হঠাত্ করেই সে উধাও হয়ে যাবে (মুসলিম)।

দখিনা বায়ু প্রবাহ:পশ্চিমাকাশে সূর্য উদয় এবং দাব্বাতুল আরেদর আত্মপ্রকাশ থেকে হযরত ইস্রাফীলের শিঙ্গা ফুঁকা পর্যন্ত সময়ের ব্যবধান হবে একশত বিশ বত্সর। দাব্বাতুল আর্দ উধাও হয়ে যাওয়ার পর দক্ষিণ দিক থেকে অত্যন্ত আরামদায়ক একটি বায়ু প্রবাহিত হবে। যাকে দখিনা বায়ু হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়েছে (তিরমিযী)।

হযরত ইস্রাফীলের শিঙ্গায় ফুঁক:কেয়ামত সংঘটিত হওয়ার সর্বপ্রথম নিদর্শন বা আলামত হলো মানুষ তিন-চার বত্সর পর্যন্ত অলসতার মাঝে কাটিয়ে দেবে। দুনিয়ার প্রাচুর্য ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পাবে। ব্যক্তিস্বার্থ মানুষের মাঝে চরম আকার ধারণ করবে। সম্পদের লোভে মানুষ অন্ধ হয়ে যাবে। এমন এক নৈরাজ্যকর পরিস্থিতিতে মুহররম মাসের দশ তারিখে শুক্রবার মানুষ সকাল সকাল স্ব-স্ব কর্মস্থলে বের হয়ে পড়বে। (১) হঠাত্ ক্ষীণ স্বরে এক দীর্ঘ আওয়াজ মানুষের কানে ভেসে আসবে। এই আওয়াজই হল হযরত ইস্রাফীলের শিঙ্গার আওয়াজ। বিশ্বের সব স্থান থেকে এই আওয়াজ একই ধরনের শোনা যাবে। সকল মানুষ হতচকিত হয়ে বুঝার চেষ্টা করবে এ কিসের আওয়াজ? কোত্থেকে আসছে এ আওয়াজ? মানুষ কিছু বুঝে ওঠার আগেই ক্রমে ক্রমেই এই আওয়াজ বৃদ্ধি পেতে থাকবে। সময় যতই গড়াতে থাকবে আওয়াজ তীব্র থেকে তীব্রতর হয়ে বজ্রের ন্যায় বিকট আকার ধারণ করবে। সকল মানুষের মাঝে চরম অস্থিরতা বিরাজ করতে থাকবে। আওয়াজ যখন তার বিকটতার ভয়াবহ ও চূড়ান্ত রূপ ধারণ করবে, তখন ভীত-সন্ত্রস্ত মানবজাতি একে একে মৃত্যুরকোলে ঢলে পড়বে। ভূ-পৃষ্ঠে ভূমিকম্পন শুরু হবে। (২) ভূমিকম্প শুরু হলে ঘরের মানুষ পাগলের মত ছুটে এসে খোলা মাঠে আশ্রয় নেবে। জঙ্গলের পশুপাখি ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে মানুষের দিকে ছুটে আসবে। (৩) ভূ-পৃষ্ঠের বিভিন্ন স্থান ফেটে চৌচির হয়ে যাবে। আর সাগরের পানি উথলিয়ে উঠে আশেপাশে গড়িয়ে পড়বে। আগুন নিমজ্জিত হয়ে যাবে। সুউচ্চ, সুদীর্ঘ, সুবিশাল, সুদৃঢ়, মজবুত পাহাড়গুলো চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে ধূলিকণার মত বাতাসে উড়তে থাকবে। প্রচণ্ড ঘূর্ণিঝড় এবং ধূলাবালি উড়ার কারণে সমগ্র দুনিয়া লণ্ডভণ্ড হয়ে যাবে। এদিকে হযরত ইস্রাফীলের শিঙ্গার আওয়াজ প্রচণ্ড থেকে প্রচণ্ডতর হতে থাকবে। আওয়াজের তীব্রতায় ও প্রচণ্ডতার এক পর্যায়ে আকাশ ভেঙে খান খান হয়ে যাবে। তারকারাজি টুকরো টুকরো হয়ে খসে পড়বে (সুরা যিলযাল, তাকভীর ও কারিয়া)।

শয়তানের করুণ মৃত্যু:মানবজাতি যখন ধ্বংস হয়ে যাবে, তখন মালাকুল মাউত হযরত আজরাঈল (আ.) শয়তানের রূহ্ কব্জ করার জন্য অগ্রসর হবেন। অবস্থা বেগতিক বুঝে অভিশপ্ত শয়তান চতুর্দিকে দৌড়াদৌড়ি শুরু করে দেবে। ফেরেশতাদল আগুনের মুগুর দিয়ে পিটিয়ে পিটিয়ে তাকে ধরাশায়ী করে দেবে এবং তার রূহ্ কব্জ করে দেবে। মৃত্যু যন্ত্রণার যতটুকু কষ্ট সমগ্র আদম সন্তানের ওপর দিয়ে অতিবাহিত হয়েছে, একা শয়তানের ততটুকু মৃত্যু যন্ত্রণা সহ্য করতে হবে। একাধারে ছয় মাস পর্যন্ত শিঙ্গা ফুত্কারের পর না আকাশের অস্তিত্ব থাকবে, না তারকারাজির, না পাহাড়ের অস্তিত্ব থাকবে, না সমুদ্র বা অন্যকিছুর। সবকিছু একেবারে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়ে যাবে। ফেরেশতাকুল মৃত্যুরকোলে ঢলে পড়বে। তবে সবকিছু ধ্বংস হয়ে গেলেও আটটি জিনিস ধ্বংস হবে না। সেই আটটি জিনিস হলো ১. আরশ ২. কুরছী ৩. লাওহ কলম ৪. বেহেশ্ত ৫. দোযখ ৬. সূর বা শিঙ্গা ৭. আরওয়াহ্ বা আত্মাসমূহ। ৮. এবং কাবা ও মসজিদসমূহ। আল্লাহ আমাদের সকলকে সেই আখেরাতের জীবনে মুক্তির লক্ষ্যে আমল গড়ার তাওফীক দান করুন, আমীন!

লেখক: জাকির হোসাইন আজাদী | ইত্তেফাক

স্বস্তিপুর মসজিদ, ঝিনাইদহ

| comments

কুষ্টিয়া জেলা শহর থেকে ঝিনাইদহগামী সড়ক ধরে প্রায় ১১ কিলোমিটার এগিয়ে স্বস্তিপুর গ্রামে পৌঁছলাম। সামান্য হাঁটতেই স্বস্তিপুর শাহী মসজিদ। তিন গম্বুজবিশিষ্ট এ মসজিদটি যে মোগল যুগের, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। এটি যে একটি পুরনো মসজিদ, তারও অনেক প্রমাণ রয়েছে। এর দেয়ালের পুরুত্ব ০.৯১ মিটার এবং পিলারসহ তা ১.০১ মিটার। এটি একটি ছোট মসজিদ এবং তাতে মাত্র এক সারি মানুষ দাঁড়িয়ে নামাজ পড়তে পারেন। এখন অবশ্য মসজিদের পূর্ব দেয়াল সংলগ্ন বড় একটি বারান্দা যুক্ত করে আয়তন বাড়ানো হয়েছে। মসজিদটিতে যথেষ্ট সংস্কার কাজ হয়েছে। একজন মুসলি্লর কাছে জানা গেল, মসজিদের পশ্চিম দেয়ালে বর্তমানে যে তিনটি মেহরাব দেখা যাচ্ছে তার মধ্যে কেন্দ্রীয়টি শুধু আদি মেহরাব, অন্য দুটি পরে নির্মিত হয়েছে। তবে এ কথার সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায় না। কারণ মোগল আমলের ৩ গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদগুলোর সাধারণ বৈশিষ্ট্য হিসেবে পূর্ব দেয়ালে ৩টি প্রবেশপথ ও পশ্চিম দেয়ালে ৩টি মেহরাব দেখা যায়। কিন্তু এমন মসজিদের পশ্চিম দেয়ালে একটি মাত্র মেহরাব থাকার ব্যাপারটা খুব স্বাভাবিক নয়।
মসজিদের দেয়ালের গায়ে উত্তর ও দক্ষিণ দিকে ২টি করে মোট ৪টি জানালা এবং প্রতি পাশে দুটি জানালার মাঝখানে এটি করে কুলুঙ্গি আছে। মুসলি্লদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, এ জানালা ও কুলুঙ্গি সবই দেয়াল কেটে হাল আমলে বানানো হয়েছে। মসজিদের ৪ কোণে ৪টি মিনার ছিল, যা এখন ধ্বংস হয়ে গেছে। আর পূর্ব দেয়ালের প্রবেশপথগুলোও সংস্কারের সময় দেয়াল কেটে বড় করা হয়েছে। আগেকার প্রবেশপথগুলো এতই ছোট ছিল যে, তা দিয়ে কুঁজো না হয়ে ঢোকা যেত না। তবে মসজিদটির পূর্ব দেয়ালে যে ৩টি প্রবেশপথ রয়েছে, তা পত্রাকার খিলান আকৃতির এবং আধুনিক প্রবেশপথের চেয়ে পুরোপুরি আলাদা। কাজেই দেয়াল কেটে প্রবেশপথ বড় করার ব্যাপারটা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া কঠিন বলে মনে হলো।
'কুষ্টিয়ার ইতিহাস' প্রণেতা শ ম শওকত আলীর মতে, মূল মসজিদে একটি বড় মসজিদের পাশে ৪টি ছোট গম্বুজ ছিল। বাংলাদেশ জেলা গেজেটিয়ার কুষ্টিয়া (১৯৯১, পৃ. ৩৯৪) থেকে জানা যায়, কুষ্টিয়ার আলামপুর ইউনিয়নের স্বস্তিপুর গ্রামে নবাব শায়েস্তা খানের আমলে এ মসজিদটি নির্মাণ সম্পর্কে জনপ্রবাদ আছে। আদি মসজিদটি আকারে ছোট ছিল। সেটি ধ্বংস হয়ে গেলে নতুন করে মসজিদটি নির্মিত হয়েছে। এসব বক্তব্যের সর্বাংশে সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়েও বলা যায়, বর্তমান মসজিদটিও মোগল আদলকে কিছুটা হলেও ধরে রেখেছে।

শোলাকিয়া ঈদগা, কিশোরগঞ্জ

| comments

কিশোরগঞ্জ শহরের পূর্বপাশে নরসুন্দা নদের তীরে ছয় একর জায়গাজুড়ে শোলাকিয়া ময়দান। মাঠটিকে ঘিরে আছে বেশ কিছু বয়স্ক জলকড়ই। প্রায় দেড় লাখ মুসলি্ল এখানে স্বচ্ছন্দে নামাজ পড়তে পারেন। শোনা যায়, সোয়া লাখ থেকে শোলাকিয়া শব্দটি এসেছে। কিশোরগঞ্জের হয়বতনগর জমিদার বাড়ির লোকজন ময়দানটি প্রতিষ্ঠা করেন। জানা গেছে, ১৯২৮ সালে এখানে প্রথম ঈদের জামাত হয়। বর্তমানে মাঠের পশ্চিম দিকে দ্বিতল মিম্বরটি সংস্কার করা হয়েছে, সাউন্ড সিস্টেম উন্নত করা হয়েছে, অজুখানাও নতুনভাবে নির্মিত হয়েছে। ঢাকার মহাখালী থেকে অনন্যা ক্লাসিক ও সায়েদাবাদ থেকে হাওড় বিলাস, যাতায়াতসহ অনেক পরিবহনের বাস কিশোরগঞ্জ যায়। সময় লাগে সাড়ে ৩ ঘণ্টা। ভাড়া ১২০-১৩০ টাকা।
লেখা: শফিক আদনান

বড় মসজিদ, সুনামগঞ্জ

| comments

প্রায় ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৩৩১ বাংলা সনে মসজিদটি নির্মাণ করেন মহাজন ইয়াসীন মির্জা। বলা হয়, ১০ বছর ধরে এর নির্মাণকাজ চলে। প্রধান মিস্ত্রিকে কলকাতা থেকে নিয়ে এসেছিলেন ইয়াসীন মীর্জা। মসজিদের অভ্যন্তর সাজানো হয়েছে ইতালি থেকে আনা মার্বেল পাথরে। সুনামগঞ্জবাসীর কাছে তিন গম্বুজবিশিষ্ট এ মসজিদটির নাম পাগলার বড় মসজিদ। ঢাকার সায়েদাবাদ থেকে সুনামগঞ্জগামী শ্যামলী, মামুনসহ আরো কিছু পরিবহনের বাসে ছয় ঘণ্টায় পাগলা পেঁৗছানো যায়। ভাড়া ৩৫০ টাকা।
লেখা ও ছবি: শামস শামীম

ছোট সোনামসজিদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ

| comments

সুলতানি আমলের অনন্য স্থাপনা ছোট সোনামসজিদ। ১৪৯৩ থেকে ১৫১৯ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহের আমলে এটি নির্মিত হয়। এ মসজিদে চৌচালা ঘরের চালের মতো তিনটি গম্বুজ এবং চার সারিতে তিনটি করে আরো ১২টি গোলাকৃতি গম্বুজ। গম্বুজের তলদেশ ফুল, ফল ও লতাপাতার নকশা। মসজিদের উত্তর-পশ্চিম কোণে মহিলাদের নামাজ পড়ার আলাদা জায়গা। কারুকার্যখচিত মিহরাব আছে একটি। মসজিদের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা যথাক্রমে ৮২, ৫২ ও ২০ ফুট। ইটের ইমারত হলেও এর বহির্গাত্র পাথর দিয়ে ঘেরা। মসজিদগাত্রের লতাপাতার কারুকাজও পাথরে খোদাই করা। একে গৌড়ের বড় সোনামসজিদের সঙ্গে তুলনা করে ছোট সোনামসজিদ বলা হয়। ঢাকার কল্যাণপুর থেকে হানিফ, মডার্নসহ আরো কিছু পরিবহনের বাসে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও শিবগঞ্জ যাওয়া যায়। সময় লাগে সাত ঘণ্টা, ভাড়া ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা। তারপর লোকাল বাসে ছোট সোনামসজিদ যেতে আরো এক ঘণ্টা লাগবে।
লেখা : শহীদুল হুদা অলক

আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ চট্টগ্রাম

| comments

চট্টগ্রামের আন্দরকিল্লা নামটির সঙ্গে মোগলদের চট্টগ্রাম বিজয়ের কাহিনী জড়িত আছে। এই কিল্লায় ছিল মগ ও পর্তুগিজ জলদস্যুদের আস্তানা। ১৬৬৬ সালের ২৭ জানুয়ারি শায়েস্তা খাঁর ছেলে উমেদ খাঁ অন্দরে প্রবেশ করেন। তখন থেকে চাটগছার কিল্লাটি আন্দরকিল্লা নামে পরিচিত হয়ে ওঠে। চট্টগ্রাম বিজয়ের স্মৃতি ধরে রাখতে সম্রাট আওরঙ্গজেবের নির্দেশে শায়েস্তা খাঁ ১৬৬৭ সালে এখানে আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ নির্মাণ করেন। ১৭২৩ খ্রিস্টাব্দে চট্টগ্রামের অন্য শাসনকর্তা নবাব ইয়াসিন খাঁ জামে মসজিদের কাছাকাছি পাহাড়ের দক্ষিণ-পূর্ব দিকের একটি টিলার ওপর আরেকটি পাকা মসজিদ নির্মাণ করে ভেতরের একটি কক্ষে মহানবী (সা.)-এর পাথরে খোদিত পদচিহ্ন 'কদমমোবারক' স্থাপন করেন। মুসলি্লরা তখন এই মসজিদে ভিড় করতে থাকে। একপর্যায়ে জামে মসজিদ জনশূন্য হয়ে যায়। ১৭৬১ খ্রিস্টাব্দ থেকে মসজিদটিকে ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানি গোলাবারুদ রাখার গুদাম হিসেবে ব্যবহার করতে থাকে। ১৮৫৫ সালে ঐতিহাসিক হামিদুল্লাহ খাঁর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মুসলমানরা মসজিদটি ফেরত পান। চট্টগ্রাম নিউমার্কেট থেকে রিকশায় আন্দরকিল্লা যেতে ভাড়া লাগে ১০-১৫ টাকা।
লেখা ও ছবি : প্রবীর বড়ুয়া
 
Support : Creating Website | Johny Template | Mas Template
Copyright © 2011. ইসলামী কথা - All Rights Reserved
Template Created by Creating Website Published by Mas Template
Proudly powered by Premium Blogger Template