السلام عليكم

যে ব্যক্তি নিয়মিত ইস্তেগফার (তওবা) করবে আল্লাহ তাকে সব বিপদ থেকে উত্তরণের পথ বের করে দেবেন, সব দুশ্চিন্তা মিটিয়ে দেবেন এবং অকল্পনীয় উৎস থেকে তার রিজিকের ব্যবস্থা করে দেবেন। [আবূ দাঊদ: ১৫২০; ইবন মাজা: ৩৮১৯]
Showing posts with label আল্লাহ. Show all posts
Showing posts with label আল্লাহ. Show all posts

আল্লাহর অস্তিত্ব নিয়ে নাস্তিকদের বিতর্ক

| comments

একবার বাগদাদ শহরে আল্লাহর অস্তিত্ব নিয়ে এক বিরাট বিতর্ক আয়োজন করা হল যেখানে তৎকালের অন্যতম সেরা ইসলামীবিদ শেখ হামাদ কে আসার জন্য বলা হল । কিন্তু তখন শেখ হামাদ এর বদলে একজন তরুন এসে বলল যে এইরকম সভায় শেখ হামাদ এর মত মানুষের এত সাধারন সভাই মানায় না তাই তিনি তার সব থেকে ছোট ছাত্র আল-নুমান ইবন তাহবিত (আবু হানিফা) কে পাঠিয়েছেন ।তখন সে শেখ হামাদের জায়াগায় বসলেন আর তখনি অজস্র প্রশ্ন আসা শুরু করল নাস্তিকের কাছ থেকে ।

নাস্তিকঃ"তোমার খোদা কবে জন্মগ্রহন করেছেন ?"
আবু হানিফাঃ"আল্লাহ সময়, কাল,যুগের
আগে থেকে আছেন।(তার কোন শুরু নেই)"
নাস্তিকঃ"পার্থি-ব জীবনের নমুনা থেকে বল"
আবু হানিফাঃ"৩ এর আগে বাস্তব কত সংখ্যা"
নাস্তিকঃ"২"
আবু হানিফাঃ"২ এর আগে বাস্তব কত সংখ্যা"
নাস্তিকঃ"১"
আবু হানিফাঃ"১ এর আগে কত বাস্তব সংখ্যা"
নাস্তিকঃ"নাই"
আবু হানিফাঃ"যদি তোমার পার্থিব সংখ্যা ১ এর
আগে কোন বাস্তব কিছু না থাকে তাহলে যিনি শাশ্বত
তার আগে কি কিছু থাকতে পারে ?"
নাস্তিকঃ"তোমার খোদা কোন দিকে মুখ
করে আছেন ?"
আবু হানিফাঃ"যদি কোন অন্ধকার
স্থানে মোমবাতি আনা হয় সেটা কোন দিকে মুখ
করে থাকে ?"
নাস্তিকঃ"সব দিকে"
আবু হানিফাঃ"যদি তোমার পার্থিব কৃত্রিম আলো সব
দিকে মুখ
করে থাকতে পারে তাহলে যিনি আলো তৈরী করেছেন
তিনি কি পারেন না?"
নাস্তিকঃ"তোমার খোদা কী কঠিন, তরাল
না বায়বীয়?"
আবু হানিফাঃ"মৃত ব্যক্তির পাশে কখনো ছিলেন ?"
নাস্তিকঃ"হ্যাঁ"
আবু হানিফাঃ"মৃত্যুর-পর সে কথা বলে ?"
নাস্তিকঃ"অবশ্যি-না"
আবু হানিফাঃ"মৃত্যুর-
আগে সে বলতে ,কথা বলতে পারে কিন্তু মরার পর
সে নির্জীব আর বরফ হয় কেন ?কে তার এই
অবস্থা করে ?"
নাস্তিকঃ"তার আত্মা চলে যায়"
আবু হানিফাঃ"আত্মা কেমন
আমাকে বলতো কঠিন ,তরল না বায়বীয় ?"
নাস্তিকঃ"আমি জানি না"
আবু হানিফাঃ"যদি পার্থিব আত্মার কোন
সংজ্ঞা না দিতে পার তাহলে কিভাবে আল্লাহ র
আল্লাহর অবস্থা বলা সম্ভব"
নাস্তিকঃ"তোমার খোদা কোথায় থাকে ?"
আবু হানিফাঃ"তুমি বাটিতে যদি এক গ্লাস দুধ
নিয়ে আস"
নাস্তিকঃ"ঠিক আছে"
আবু হানিফাঃ"বল এর মধ্যে মাখন কোথায় থাকে ?"
নাস্তিকঃ"সব খানে"
আবু হানিফাঃ"যদি মাখনের মত সৃষ্ট বস্তু দুধের সব
জায়গায় থাকে তাহলে আল্লাহ
কিভাবে একটি স্থা্নে থাকতে পারে?এটা তো বিরট
আশ্চর্য!"
নাস্তিকঃ"জান্নাতে তো টয়লেট নাই তাহলে খাবার পর
শৌচ কাজ করবে মানুষ কিভাবে ?"
আবু হানিফাঃ"মায়ের পেটে বাচ্চা ৯ মাস কিভাবে শৌচ
কাজ করে , সেটার তো দরকার হয় না।
তাহলে জান্নাতে দরকার হবে কিভাবে ?"
নাস্তিকঃ"কিভাবেজান্নাতে খাওয়ার আর উপভোগ
করার পর এর জিনিস বাড়বে"
আবু হানিফাঃ"যেভাবে জ্ঞান যত দান করা হয় তত
বাড়ে"
এভাবে যুগে যুগে নাস্তিকেরা অপমানিত হচ্ছে ও হবে .

আল্লাহ তায়ালার নিরানব্বইটি নাম

| comments

আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্নিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াছাল্লাম) বলেনঃ আল্লাহ তায়ালার নিরানব্বইটি (এক কম একশ) নাম রয়েছে, যে উহা গণনা করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।(বুখারী হাদীস নং-২৫৩১, মুসলিম হাদীস নং-৪৮৩৬) এ হাদীস থেকে জানতে পারলাম যে আল্লাহ সুবহানাহু তা'য়ালার মাত্র নিরানব্বইটি নাম। আপনি যখন বিভিন্ন কিতাব পাঠ করবেন তখন, কিছু কম বেশী পাবেন তার কারণ হল কোন কোন লেখক আল্লাহর একটি নামকে দুইবার উল্লেখ করেছে এবং অন্য একটি নাম ছেড়ে দিয়েছে। আমি আপনাদের বুঝার সুবিধার্থে কিছু নাম সংযুক্ত করেছি যার শব্দ ভিন্ন, কিন্তু অর্থ একই। আল্লাহর এই যে নিরানব্বইটি নাম তা কিন্তু আল্লাহর গুণ, প্রকৃত স্বরূপ নয়; কেননা গুণ হতে বস্তু পৃথক। যেমনঃ একজন মানুষ তাঁর নাম আব্দুল্লাহ সে প্রফেসার এবং গাড়ীর চালক, তাহলে কি বলতে পারি প্রফেসার যিনি তিনিই আব্দুল্লাহ অথবা গাড়ীর চালক যিনি তিনিই আব্দুল্লাহ। বরং এভাবে বলাটা ভূল, কারণ অনেকেই প্রফেসার হতে পারে আবার অনেকেই গাড়ীর চালক হতে পারে। এগুলো মানুষের গুণ। কিন্তু আল্লাহর গুণ সবকিছুর চেয়ে উর্দ্ধে। শিখার জ্যোতি যেমন প্রকৃত শিখা নয়, আল্লাহর গুণ ও তেমনি আল্লাহ নয়। আল্লাহ হচ্ছেন আসল সত্ত্বা (ইসমে যাত), বাকি নামগুলো তাঁর বিশেষণ (ইসমে সিফাত)। আল্লাহকে কেন্দ্র করে নামগুলি চতুর্দিকে ছড়িয়ে আছে। প্রশ্ন উঠতে পারে তবে কি আল্লাহ তা'য়ালা নিরানব্বই নামের মধ্যে সীমাবদ্ধ? নিশ্চয় নয়। গুণের সংখ্যা নির্ণয় করলে তো আল্লাহ সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েন। আল্লাহ তাই শুধু এগুণগুলোর মধ্যেই সীমিত নহেন; এর বাইরে ও তিনি। মানুষের জ্ঞান সসীম; কাজেই আমাদের জ্ঞানবুদ্ধি যতদুর নাগাল পায় ততদুর পর্যন্তই আল্লাহ নিজের পরিচয় দিয়েছেন। এবং সকল পরিচয়ের উর্দ্ধে (আল্লাহ) নিজের স্বরুপ বর্ণনা করেছেনঃ- *কোন কিছুই তাঁর (আল্লাহ) সদৃশ নহে; তিনি সর্বশ্রোতা সর্বদ্রষ্টা।(সূরাঃ শুরা, আয়াত-১১) আল্লাহর আসলিয়াৎ বুঝবার শক্তি মানুষের নেই; গুণ দ্বারা সেই পরম সত্ত্বাকে বুঝতে হবে। কাজেই আল্লাহর স্বরুপ উপলব্ধির জন্য তাঁর নামগুলো ও তার অর্থ জানা দরকার। এছাড়াও আল্লাহ তা'য়ালার অনেক নাম আছে। আল্লাহর প্রকৃত নাম (ইসম যাত) সঠিকভাবে উচ্চারণ করুন, আল্লাহর নামের গুরুত্ব অনুধাবন করুন, আল্লাহর প্রকৃত সত্তা ও গুণাবলী উপলব্ধি করতে চেষ্টা করুন।
(আল-খালেক) স্রষ্টা, সমস্ত বিশ্বজগতের সৃষ্টিকর্তা।
(আল-কাদের) মহাশক্তিধর, তিনি সর্বশক্তিমান এবং সমস্ত কিছুর উপর সামর্থবান।
(আল-আহাদ (ওয়াহেদ) আমরা যে আল্লাহ সম্পর্কে আলোচনা করছি তিনি একক, অদ্বিতীয়।
(আস-সামী'য়) শ্রোতা, তিনিই আল্লাহ যিনি সবকিছুর শ্রবণকারী।
(আল-বাসীর) মহাদ্রষ্টা, মহাদর্শনকারী, তিনি আল্লাহ যিনি সবকিছু দেখেন।
(আল-হাইউ)(আল-কাইয়ুম) চিরস্থায়ী, তিনি সেই আল্লাহ যার মৃত্যু নেই, চিরঞ্জীব, চিরজীবন্ত, অমৃত।
(আর-রাকীব) অতন্দ্র প্রহরী অর্থাৎ তিনি এমন এক আল্লাহ যার কোন তন্দ্রা (ঘুম) নেই।
(আর-রাব) প্রতিপালক, তিনিই সেই স্রষ্টা যিনি আপনাকে আমাকে এবং সমস্ত জীবকে আলো-বাতাস, অক্সিজেন, পানি ইত্যাদি দিয়ে প্রতিপালন করছেন।
(আল-আওয়াল) আদি, প্রথম, যখন এই বিশ্বজগতের কিছুই ছিল না তখনও আল্লাহ ছিল প্রথম।
(আল-আখের) অনন্ত, শেষ, এই বিশ্বজগতের সবকিছুই একদিন ধ্বংস হয়ে যাবে একমাত্র আল্লাহ (স্রষ্টা) ব্যতীত।
(আস-সামাদ) অভাবহীন, অমুখাপেক্ষী, তিনিই একমাত্র আল্লাহ যার কোন কিছুর অভাব নেই। তিনি সয়ংসম্পূর্ণ অমুখাপেক্ষী।
(আল-ওয়াজেদ) সর্ব বিষয়ে ইচ্ছা করা মাত্র প্রাপ্ত, তিনি এমন এক আল্লাহ যিনি কোন কিছু সম্পর্কে ইচ্ছা করা মাত্র হয়ে যায়।
(আল-মুহয়ী) জীবনদাতা, তিনি সে আল্লাহ যিনি সমস্ত জীবের জীবনদাতা।
(আল-মুমীত) মৃত্যুদাতা, তিনি সে আল্লাহ যিনি সমস্ত জীবের মৃত্যুদাতা।
(আল-হাক) চরমসত্য, সবার উপরে আল্লাহ সত্য তাহার উপরে নাই।
(আল-বা'য়েছ) পুনরূথানকারী, সমস্ত কিছুকে ধ্বংস করার পর আবার আল্লাহ তা'য়ালা পুনরূথান করবেন।
(আল-ওয়াসে'য়) মহা প্রশস্ত, অর্থাৎ তার চেয়ে বড় কেউ নেই।
(আল-আলীউ (আল-আলা) সুউচ্চ, সুমহান, সর্বোচ্চ, তিনি এমন এক আল্লাহ যার স্থান সবার উপরে।
(আল-আযীম (আস-সুব্বুহ) সুমহান, মহা মহিম তিনি তাঁর চেয়ে মহান কেউ নেই।
(আল-মুবদী) প্রথম আবিষ্কারক, পৃথিবীর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যত নব আবিস্কৃত হবে সমস্ত কিছুর প্রথম আবিষ্কারক আল্লাহ তা'য়ালা। তিনিই নির্দিষ্ট কিছু মানুষের মস্তিস্কে জ্ঞান দান করেন যেন নতুন কিছু আবিস্কার করে মানব জাতির রোজগার করার ব্যবস্তা করে দেন। তাই তাঁর (আল্লাহর) আরেকটি গুনঃ
(আল-মু'য়তি) (আল-যাওয়াদ) পরমদাতা, দয়াশীল, তিনি সমস্ত জীবের উপর দয়া করেন, যেন তারা আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে।
(আর-রাযযাক) রিযিকদাতা, তিনি এমন এক আল্লাহ যিনি সমস্ত জীব-জন্তুকে রিযিক দান করেন। এমনকি যারা এক আল্লাহকে অস্বিকার করে, যারা আল্লাহ ব্যতিত অন্যের ইবাদত করে তাদেরকেও আল্লাহ তা'য়ালা রিযিক দান করেন। কেননা তিনি হলেনঃ- আল-মান্নান (আল-মুহসিন) মহাঅনুগ্রহকারী।
(আল-খাবীর) সর্বজ্ঞানময়, মহাসংবাদ রক্ষক আল্লাহ, তাঁর অজানতে কোন কিছুই হয় না।
(আল-কুদ্দুস (আত-তাইব) মহা পবিত্র, তিনি এমন এক আল্লাহ যিনি সমস্ত দোষ ত্রুটি থেকে পবিত্র।
(আল-মালিক) মহাবাদশা, তিনিই একমাত্র বিশ্ব জগতের সম্রাট বা প্রভূ।
(আর-রাহমান) পরম করুণাময়, অতন্ত করুণাময় তিনি, তারই করুণায় অবিশ্বাসিরা বেঁচে আছে। যারা আল্লাহকে অস্বিকার করে।
(আল-ইলাহ) মা'বুদ, উপাস্য, একমাত্র তিনিই উপাসনার যোগ্য, তিনি ছাড়া কারো কাছে মাথা নত করা যাবে না।
(আল-মুগণী) অভাবমোচনকারী, হে মানুষ! কিসের অভাব আপনার? আপনার জীবনের সমস্ত চাওয়া-পাওয়া একমাত্র তিনি (আল্লাহ) পূর্ণ করতে পারেন। আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো কাছে এমন কিছু চাইতে পারেন না, যাহা আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ দিতে অক্ষম। (বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন আল-কুরআনুল কারীম)
এভাবে আমরা আল্লাহ তা'য়ালার গুণাবলী জেনে নিতে পারি।

00 সোনালী কিরণ 00

আল্লাহ ছাড়া আর কারও নামে শপথ করা গুনাহ

| comments

আল্লাহ সকল শক্তির উৎস। সেহেতু যদি শপথ নিতে হয়, যদি কোনো কিছুতে ভরসা করতে হয় তা আল্লাহর নামে করাই যুক্তিযুক্ত। অন্য কারোর নামে শপথ ইসলামী দৃষ্টিতে চূড়ান্তভাবে অগ্রহণযোগ্য। এমনকি নবীর, কা'বার, ফেরেশতার, আকাশের, পানির, জীবনের, আমানতের, মাথার, রূহের, রাজার, জানের, মাজার ইত্যাদির নামে শপথ করাও কবীরা গুনাহ।

হজরত ইবনে ওমর (রা.) বলেন, রাসূল (সা.) বলেছেন : 'আল্লাহ পাক তোমাদের বাপ-দাদার নামে শপথ করতে নিষেধ করেছেন। একান্তই যদি শপথ করতে হয়, তবে (শুধু) আল্লাহর নামে শপথ করবে, না হয় নীরব থাকবে।'

_বোখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসায়ী

সহীহ বোখারী বর্ণিত আর এক হাদিসে রাসূল (সা.) বলেন : 'যে কসম করবে, সে যেন আল্লাহর নাম ছাড়া আর কারও নামে কসম না করে, না হয় চুপ থাকবে।'

হজরত আবদুর রহমান বিন সামুরা (রা.) বর্ণনা করেন : রাসূল (সা.) বলেছেন : তোমরা প্রতিমা কিংবা তোমাদের বাপ-দাদার নামে কসম খেয়ো না। _সহীহ্ মুসলিম

হজরত বুরায়দা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) বলেছেন : যে ব্যক্তি আমানতের শপথ করে সে আমার দলভুক্ত নয়। _আবু দাউদ

আবু বোরদা (রা.) বর্ণিত এক হাদীসে রাসূল (সা.) বলেন : যে ব্যক্তি এই বলে শপথ করে যে, আমার কথা যদি সত্য না হয়, তবে আমি মুসলমান নই। সে মিথ্যাবাদী হলে সে যা বলেছে তাই হবে (অর্থাৎ ঈমানহারা হয়ে যাবে)। আর সত্যবাদী হলেও আর কখনোই পরিপূর্ণ নিরাপদে ইসলামের পথে ফিরে আসবে না। _আবু দাউদ, ইবনে মাজা ও হাকেম

হজরত ইবনে ওমার (রা.) জনৈক ব্যক্তিকে 'কাবার শপথ' করতে শুনে বললেন : 'আল্লাহ ছাড়া আর কারও নামে শপথ করিও না। কেননা আমি শুনেছি, রাসূল (সা.) বলেছেন : যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া আর কারও নামে শপথ করল, সে কুফরী কিংবা শিরক করল। _তিরমিযী, ইবনে হেব্বান ও হাকেম

কোনো কোনো আলেমের মতে : কুফরী ও শিরকের অর্থ হচ্ছে কবীরা গুনাহ। যেমন রাসূল (সা.) বলেছেন : রিয়া হচ্ছে শিরক।

আর এক হাদিসে রাসূল (সা.) বলেন : যে ব্যক্তি শপথ করতে গিয়ে ভুলক্রমে 'লাত ও উযযার' (আল্লাহ ছাড়া আর কারও নামে) শপথ করে বসে, তবে (এর কাফফারাস্বরূপ) সঙ্গে সঙ্গে তাকে 'লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু' বলতে হবে'। _বোখারী ও মুসলিম

নও মুসলিম সাহাবায়ে কেরাম যখন শপথ করতেন, তখন অনেক সময় পূর্ব অভ্যাস অনুযায়ী তাদের মুখে প্রতিমাসমূহের নামে শপথ বাক্য উচ্চারিত হয়ে যেত। নবী পাক (সা.) সে সব সাহাবাকে নির্দেশ দিলেন, পূর্ব অভ্যাস অনুযায়ী কারও মুখে যদি এ ধরনের বাক্য উচ্চারিত হয়ে যায়, তবে সে যেন তৎক্ষণাৎ 'লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু' পাঠ করে নেয়, যাতে তার কাফফারা আদায় হয়ে যায়।

লেখক : হাফেজ শেখ মিরাজ, ইসলামী গবেষক।

নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের উপায়

| comments

নামাজ ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি বুনিয়াদ। নামাজ ফার্সী শব্দ। আরবী প্রতিশব্দ হলো সালাত। যার অর্থ হল- প্রার্থনা, দোয়া, দুরুদ, অনুগ্রহ, রহমত। পরিভাষায় সালাত বলতে নির্দিষ্ট কতকগুলো কার্যের নাম যা নির্দিষ্ট সময়ে কতকগুলো নির্দিষ্ট শর্ত, সিফাত ও পদ্ধতির মাধ্যমে পালিত হয়। ইমাম ইবন জাবির (রা.) বলেছেন, সালাতের মাধ্যমে একজন মানুষ আল্লাহ তায়ালার নিকট স্বীয় কার্যের জন্য পুণ্য প্রার্থনা করে। আর ইসলাম আল্লাহর কাছে সবচেয়ে মনোনীত ধর্ম। ফলে ইসলাম ধর্ম মানুষ ও স্রষ্টার মাঝে প্রত্যক্ষ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় অনন্য ভূমিকা পালন করে। ইসলাম ধর্মের অন্তর্নিহিত তাৎপর্য অত্যন্ত গভীর। এটি শুধু আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং গভীরভাবে অনুশীলনের মাধ্যমে এটাকে অনুসরণ করতে হয়।

ইসলাম শব্দটি সিলমুন ধাতু থেকে এসেছে। অর্থ হলো- সমর্পণ, আত্মসমর্পণ, বশ্যতা। এ সমর্পণ সেই প্রভুর কাছে, যার উদ্দেশ্যে সকল অহংকার, আমিত্বকে ধূলিসাৎ করে বিনম্রচিত্তে একজন মুসলিম নি:শর্ত আত্মসমর্পণ করবে। একজন মুসলিম আল্লাহর অস্তিত্বে ও একত্বে বিশ্বাস করে এবং সকল কাজের মধ্যে তাকে উপলব্ধি করে। দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামায তাঁর সেই উপলব্ধিকে উৎসাহিত করে। এজন্য নামাজই আল্লাহর কাছে আত্মনিবেদনের অন্যতম মাধ্যম। একজন সাহাবী রাসুল (স.) কে জিজ্ঞেস করেছিলেন কোন ইবাদাত আল্লস্নাহর কাছে অধিক পছন্দনীয়? তিনি প্রশ্নোত্তরে বলেছিলেন, যথাযথ সময়ে নামাজ আদায় করা। নামাজ মানুষকে সত্য সুন্দর ও কল্যাণের পথে আহবান করে। আর কুপ্রবৃত্তির মানুষকে অকল্যাণের দিকে ধাবিত করে। কুপ্রবৃত্তির ছোবল থেকে নামাজ মানুষকে সুন্দর মুক্তি দিতে পারে। ইসলামে সালাত হচ্ছে ইবাদাতের প্রথম পর্যায় । এ ইবাদাত সকল প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানকে অবশ্যই গ্রহণ করতে হয়। সালাত ধনী-দরিদ্র, যুবক-বৃদ্ধ, পুরুষ-নারী ও সুস্থ-অসুস্থ সকলেরওপর অবশ্য পালনীয়। কোন অবস্থাতেই সালাত থেকে প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানের মুক্তি নেই।

সালাত এতটাই গুরত্বপূর্ণ ইবাদাত যে, দণ্ডায়মান অবস্থায় আদায় করতে না পারলে বসে আদায় করবে। অসুস্থতা বা শারীরিক বিকলতার জন্য বসে আদায় করতে না পারলে শায়িত অবস্থায় ইশারায় আদায় করবে। তবে আমরা প্রতিনিয়ত সালাতের পরিবর্তে নামাজ শব্দটি ব্যবহার করি। এটি দিয়ে সালাতের মূল আবেদন যথার্থভাবে আদায় হয় না। কারণ সালাত শব্দটির ব্যঞ্জনা যত গভীর এবং ব্যাপক নামাজ শব্দটির ব্যঞ্জনা ততটা নয়। কিন্তু দীর্ঘকাল নামাজ শব্দটি ব্যবহারের ফলে সালাতের প্রতিশব্দ নামাজ আমাদের ভাষায় গ্রাহ্য হয়ে গেছে। অথচ আল্লাহতায়ালা পবিত্র কুরআনে এভাবে বর্ণনা করেছেন- "ইন্না সালাতি ওয়া নুসুকী ওয়া মাহইয়ায়িয়া ওয়া মামাতি লিল্লস্নাহি রাবি্বল আলামীন"। এর অর্থ হচ্ছে- অবশ্য আমার সালাত, আমার কুরবানী, আমার জীবন এবং আমার মৃতু্য কেবলমাত্র আল্লস্নাহর জন্যই নিবেদিত। সামগ্রিকভাবে সালাত হচ্ছে আল্লাহ তায়ালাকে স্মরণ করা। আল্লাহতায়ালা আরোও বলেন- এবং সালাত কায়েম কর, অবশ্যই সালাত লজ্জাশীলতা এবং গর্হিত কাজ হতে বিরত রাখে এবং আল্লাহর স্মরণই সর্বোত্তম বস্তু।

নামাজের সাথে অন্য সকল ইবাদাত অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে আছে বিধায় নামাজ সঠিকভাবে আদায় করতে না পারলে অন্য ইবাদাত তেমন কাজে লাগতে নাও পারে। এজন্য নামাজের গুরুত্ব বর্ণনা করতে গিয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেন- নিশ্চয় নামাজ সকল অশস্ন্লীল ও খারাপ কাজ থেকে মানুষকে বিরত রাখে। (সুরাহ আনকাবুত- ৪৫)

নামাজ ছাড়া যাকাত পবিত্র হয় না। রোজার ফজিলত পাওয়া যায় না। হজ্জের গুরুত্ব অনুধাবণ করা যায় না। নামাজ ছাড়া অন্য সকল ভাল কাজের মূল্য অর্থহীন বিধায় নামাজ এমন একটা ইবাদত যা স্রষ্টার সাথে সম্পর্ক তৈরীর ক্ষেত্রে কোন মধ্যবতর্ীর প্রয়োজন হয় না।

নামাজ এমন একটা পদ্ধতি যা একজন মানুষের শরীরগত প্রক্রিয়াজাতের সাথে সম্পর্কিত। কোন মানুষ যদি সঠিকভাবে নামাজ আদায় করে তাহলে অশস্ন্লীলতা তাকে স্পর্শ করতে পারে না। মানুষকে সালাত আদায়ের মুহূর্তে বহির্বিশ্বের কার্যক্রমের চিন্তা থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রাখে এবং একটি অন্তলর্ীন বোধের মধ্যে সালাত আদায়কারীকে প্রতিষ্ঠিত করে। আমাদের দেহ নানা অবয়বযুক্ত হলেও মূলত এক বা অখন্ড। হস্তপদ ও মস্তকাদি নানা অঙ্গ ভেদে বহুরূপ বিশিষ্ট এ দেহে আমাদের এক ভেবে যেমন পালন করতে হয়, তেমনি নামাজ বা সালাতের সময় সকল অঙ্গের বিশিষ্টার্থক সঞ্চালনের মধ্য দিয়ে আমরা একটি অভিন্ন একাগ্রতা নিমর্াণ করি। ফলে নামাজ আদায়কারীকে এমন মন নিয়ে নামাজে দাঁড়াতে হয় যে, তিনি আল্লস্নাহর সম্মুখে হাজির হয়েছেন। তিনি (আল্লাহ) তাকে দেখছেন যদিও নামাজ আদায়কারী তাকে প্রত্যক্ষ করছে না। কিন্তু তিনি (আল্লাহ) তার অন্তর ও বাহিরের সব খবর রাখেন।

নামাজের মধ্যে সূরাহ ফাতিহা পাঠ করা আবশ্যক। সূরাহ ফাতিহা এমন একটি সূরা যার মাধ্যমে আল্লাহর সানি্নধ্য লাভ করা যায়। সূরা ফাতিহা আসলে একটি দোয়া। তবে যে সত্তার কাছে প্রার্থনা করতে চাচ্ছি তাঁর প্রশংসাবাণী দিয়ে দোয়া শুরু করা হচ্ছে। এভাবে যেন দোয়া চাওয়ার পদ্ধতি শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ দোয়া চাইতে হলে ভদ্র ও শালীন পদ্ধতিতে দোয়া চাইতে হবে। কারোও সামনে গিয়ে মুখ খুলেই প্রথমে নিজের প্রয়োজনটা পেশ করে দেয়া কোন সৌজন্য ও ভদ্রতার পরিচায়ক নয়। যার কাছে প্রার্থনা করা হচ্ছে প্রথমে তাঁর গুণাবলী বর্ণনা করা এবং তাঁর দান, অনুগ্রহ ও মযর্াদার স্বীকৃতি দেয়াই ভদ্রতার রীতি।

প্রত্যেক মুসলিম দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ অবশ্যই পড়বেন। জেনেবুঝে উচ্চারণ করে নামাজ পড়লে তবে নামাজ আদায়কারীর মনে সব সময় আল্লাহর স্মরণ থাকার কথা। স্রষ্টার সাথে নিবিড় সম্পর্ক স্থাপনের কথা। কিন্তু বাস্তবে কি দেখছি আমরা? মুসলিম দেশগুলো সবচেয়ে বেশী অসুবিধার সম্মুখীন, বিপদগ্রস্ত। মানুষের মধ্যে সাধারণভাবে দুই ধরনের প্রবৃত্তিগত মানুষ পাওয়া যায়। স্বার্থাকাঙ্ক্ষী এবং পরার্থকারী। যারা স্বার্থাঙ্ক্ষী তারা কখনই সালাত আদায় করার মুহূর্তে একাগ্র হতে পারে না। অনেক সময় দেখা যায়, অনেক মানুষ রুকু-সেজদা ঠিকমত শেষ না করে তাদের কর্মক্ষেত্রে ছুটে যাচ্ছে। এসব মানুষের কাছে নামাজ একটি প্রথা মাত্র। এজন্যই রাসূল (সা.) আদেশ দিয়েছেন যে, নামাজের মধ্যে থেকে নামাজের প্রকরণগুলি চুরি করবে না। নামাজে সামগ্রিক একাগ্রতা বিধানের জন্য একথা বলা হয়েছে। কারণ নামাজের মধ্যেই রয়েছে সর্বাঙ্গীন কল্যাণ ও মঙ্গল।

-ড. মুহা. বিলাল হুসাইন

আল্লাহ যাকে ইচ্ছা ক্ষমতা দেন, যাকে ইচ্ছা অপমানিত করেন

| comments

গোটা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান বিক্ষোভে বিপর্যস্ত ক্ষমতাসীনরা। বিক্ষোভের অনলে পুড়ে এরই মধ্যে ক্ষমতা ছেড়েছেন তিউনিসিয়ার প্রেসিডেন্ট বেন আলি ও মিসরের প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারক। লিবিয়ায় প্রেসিডেন্ট গাদ্দাফির মসনদও টলমল করছে; যে কোনো মুহূর্তে তাকেও ক্ষমতা ছাড়তে হতে পারে। এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের দেশ আলজেরিয়া, জর্ডান, ইয়েমেন ও সুদানে রাজনৈতিক অচলাবস্থা বিরাজ করছে। এর ধাক্কা ইরান ও সৌদি আরবেও লাগতে পারে। এক কথায় গোটা মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতাসীনদের তখত এখন হুমকির মুখে। দীর্ঘদিন ধরে যারা ক্ষমতায় ছিলেন তারাই আজ জনগণের প্রতিরোধের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছেন। হায় নিয়তি! কাল বাদশা; আজ পলাতক আসামি।
মধ্যপ্রাচ্যে এই বিক্ষোভের পেছনে অনেকেই পশ্চিমা শক্তি, বিশেষ করে আমেরিকাকে দায়ী করছে। এটা নেপথ্যের কারণ হলেও মূলত গণবিক্ষোভের পেছনে রয়েছে অগণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, সীমাহীন দুর্নীতি ও বেকারত্ব সমস্যার সমাধানে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া।

তবে এটা সত্য, বিরোধীদের কণ্ঠরোধ; দমননীতি আর দীর্ঘদিন ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার মানসিকতাই তাদের পতনের মূল কারণ। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট একটা সময়ের পর জনগণের ভোটে ক্ষমতার পালাবদল হলেও এই একনায়কদের স্বৈরতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় ছিল না জনগণের কোনো অধিকার। এরপরও যে কথাটা বলতে হয় তা হলো, সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক আল্লাহ। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা ক্ষমতা দেন, যার থেকে ইচ্ছা ক্ষমতা কেড়ে নেন। আল্লাহপাক রাব্বুল আলামিন বান্দাকে ক্ষমতা দিয়ে পরীক্ষা করেন। কেউ এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে সক্ষম হন, অনেকেই পারেন না। বস্তুত ক্ষমতা ও ইজ্জত-সম্মান সবকিছুই আল্লাহর হাতে। এর একচ্ছত্র মালিক আল্লাহ। মধ্যপ্রাচ্যে গঠিত সরকারপ্রধানদের পতন থেকে আমাদের অনেক কিছু শিক্ষণীয় আছে। যারা বুদ্ধিমান তারা এর থেকে শিক্ষা নেবেন, এটাই সময়ের দাবি।

ক্ষমতার নিরঙ্কুশ মালিক আল্লাহ। এ প্রসঙ্গে কুরআনুল কারিমে ইরশাদ হয়েছে, 'বলুন, ইয়া আল্লাহ! তুমিই সার্বভৌম শক্তির অধিকারী। তুমি যাকে ইচ্ছা রাজ্য দান কর এবং যার কাছ থেকে ইচ্ছা রাজ্য ছিনিয়ে নাও এবং যাকে ইচ্ছা সম্মান দান কর আর যাকে ইচ্ছা অপমানে পতিত কর। তোমারই হাতে রয়েছে সব ধরনের কল্যাণ। নিশ্চয়ই তুমি সর্ববিষয়ে ক্ষমতাশালী। (সূরা : আল ইমরান : ২৬)
আয়াতে আল্লাহর সর্বময় ক্ষমতার প্রকৃতি বর্ণনা করা হয়েছে। আল্লাহ যাকে চান সাম্রাজ্য দান করেন, আবার যার কাছ থেকে চান সাম্রাজ্য কেড়ে নেন। যাকে চান সম্মান দান করেন, আবার যাকে চান অপমানিত করেন, সব কল্যাণ তাঁর কাছে।

পবিত্র কোরআনের এই আয়াতে অত্যন্ত সাবলীলভাবে বলা হয়েছে, বিভিন্ন রাজশক্তির উত্থান-পতন আর সাম্রাজ্যের পটপরিবর্তন হয়ে থাকে আল্লাহতায়ালার ইচ্ছায়। আয়াতে জগতের বৈপল্গবিক ঘটনা সম্পর্কে অজ্ঞ এবং অতীতকালের শক্তিশালী জাতিগুলোর উত্থান-পতনের ইতিহাস সম্পর্কে উদাসীনদের হুশিয়ার করা হয়েছে। জগতের সব শক্তি ও রাষ্ট্রক্ষমতা একমাত্র আল্লাহতায়ালার করায়ত্ত। সম্মান ও অপমান তাঁরই নিয়ন্ত্রণাধীন। তিনি দরিদ্র ও পথের ভিখারিকে রাজসিংহাসন ও মুকুটের অধিকারী করতে পারেন এবং প্রবল প্রতাপান্বিত সম্রাটের হাত থেকে রাষ্ট্র ও ঐশ্বর্য ছিনিয়ে নিতে পারেন।

এই আয়াতের শেষাংশেই বলা হয়েছে, আল্লাহর হাতেই যাবতীয় কল্যাণ। আয়াতের প্রথমাংশে রাজত্ব দান করা ও ছিনিয়ে নেওয়া এবং সম্মান ও অপমান উভয় দিক উলেল্গখ করা হয়েছে। এর কারণে এখানে খায়ের বা কল্যাণ শব্দ ব্যবহার করে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে, যে বিষয়কে কোনো ব্যক্তি বা জাতি অকল্যাণকর বা বিপজ্জনক মনে করে, তা সংশিল্গষ্ট ব্যক্তি অথবা জাতির জন্য আপাতদৃষ্টিতে অকল্যাণকর ও বিপজ্জনক মনে হলেও পরিণামের সামগ্রিক দিক দিয়ে তা অকল্যাণকর নাও হতে পারে।

মোটকথা, আমরা যেসব বিষয়কে মন্দ বলি, সেগুলো পুরোপুরি মন্দ নয়_ আংশিক মন্দ মাত্র। আল্লাহপাক রাব্বুল আলামিনের দিকে সম্বন্ধ এবং সামগ্রিক উপযোগিতার দিক দিয়ে কোনো বস্তুই মন্দ নয়। আর এ বিশ্বাসই মুমিনের পথচলার অবলম্বন ও ইমানের দাবি।

রাষ্ট্র পরিচালনায় এখনও যারা শক্তিকেই অবলম্বন মনে করছেন, তারা স্পষ্টত ভুলের মধ্যে আছেন। কারণ ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য রক্তপাত ও অত্যাচারকে ইসলামে নিষেধ করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে হাদিসে ইরশাদ হয়েছে। হজরত আবু মুসা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহপাক অত্যাচারীকে অবকাশ দেন (অর্থাৎ তাকে তৎক্ষণাৎ ধরেন না, ঢিল দেন, সুযোগ দেন যাতে সে আরও জুলুম করতে পারে)। এরপর তাকে এমনভাবে পাকড়াও করেন, সে আর ছুটে যেতে পারে না। এরপর নবী (সা.) আয়াত পাঠ করেন; অর্থাৎ এইরূপ তোমার প্রভুর পাকড়াও যে যখন তিনি অত্যাচারী গ্রামবাসীকে পাকড়াও করেন...। (বুখারি ও মুসলিম)
বিশ্বব্যাপী চলমান ক্ষমতার দ্বন্দ্বে নিপতিত গোষ্ঠী বা সরকারপ্রধানরা ক্ষমতাকে আল্লাহ প্রদত্ত নিয়ামত মনে না করাই সব অনিষ্টের মূল। পৃথিবী এখন গতিময়; এগিয়েছে বেশ। এর পরও ক্ষমতাসীনরা নিজেদের মনোভাব শাসক দৃষ্টিভঙ্গির বাইরে ফেলতে পারেনি। তারা জনগণের বন্ধু হতে পারেনি। ক্ষমতার মোহ, সম্পদের লালসা আর কায়েমি স্বার্থে অন্ধ এসব শাসকের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের ঘটনা একটা জরুরি বার্তা।
মুফতি এনায়েতুল্লাহ(muftianaet@gmail.com)
 
Support : Creating Website | Johny Template | Mas Template
Copyright © 2011. ইসলামী কথা - All Rights Reserved
Template Created by Creating Website Published by Mas Template
Proudly powered by Premium Blogger Template