السلام عليكم

যে ব্যক্তি নিয়মিত ইস্তেগফার (তওবা) করবে আল্লাহ তাকে সব বিপদ থেকে উত্তরণের পথ বের করে দেবেন, সব দুশ্চিন্তা মিটিয়ে দেবেন এবং অকল্পনীয় উৎস থেকে তার রিজিকের ব্যবস্থা করে দেবেন। [আবূ দাঊদ: ১৫২০; ইবন মাজা: ৩৮১৯]
Showing posts with label নামাজ. Show all posts
Showing posts with label নামাজ. Show all posts

অপরিসীম ফজিলতপূর্ণ ইবাদত নামাজ

| comments

দু'রাকা'আত নামাজই জান্নাত প্রাপ্তির জন্য যথেষ্ট (বুখারী)। নবী (স.) কর্তৃক বেলাল (রা.) কে জান্নাতে সম্মূখে চলার সময় জুতার শব্দ শ্রবণের ব্যাখ্যা জানতে চাইলে বিলাল (রা.) জবাবে বললেন, আমি যখন অজু করি রাত্রে অথবা দিনে তখন সেই অজু দ্বারা সালাত আদায় করি (বুখারী, মুসলিম মেশকাত হা. ১৩২২)। এটাই হল তাহিয়্যাতুল অজু নামাজের ফজিলাত যা জান্নাতী হওয়ার সহায়ক। আর ইবাদতের জগতে সর্বোত্তম ইবাদত হল (ফরজ) সালাত। কেয়ামতের প্রথম হিসাব হবে নামাজের, যার নামাজের হিসাব ঠিক-ঠিক কাঁটায়-কাঁটায় মিলে যাবে তার পরবর্তী হিসাব সহজ হবে বা জান্নাতের রাস্তা সহজ হবে।

মহিলা (মা-বোনদের) ৪টি আমলে, ৮টি জান্নাতের দরজা খোলা থাকবে তন্মোদ্ধে ৫ওয়াক্ত সালাতই অন্যতম। "যদি তোমাদের বাড়ির সামনে কারো নদী থাকে এবং সে দৈনিক পাঁচবার গোসল করে, তবে কি তার শরীরে কোন ময়লা থাকবে? সাহাবায়ে কেরামগণ জবাবে বললেন না; রসূলুল্লাহ (স.) বললেন, এটাই পাঁচ ওয়াক্ত (ফরজ) নামাযের উদাহরণ (বুখারী হা. ৫২৮ ও মুসলিম হা.৬৬৭)।

ইবনে মাস্উদ (রা.) -এর প্রশ্নের জবাবে আমাদের প্রিয়নবী (স.) বললেন,আল্লাহর নিকট সর্বাপেক্ষা অধিক পছন্দনীয় আমল হল সময়মত সালাত আদায় করা (মুসলিম১/৮৯)।
"নামাজ দ্বীন ইসলামের স্তম্ভ অতএব নামাজ কায়েমকারীই দ্বীন কায়েমকারী, নামাজ ধ্বংসকারীই দ্বীন ধ্বংসকারী। ঘুটঘুটে অন্ধকার, চতুর্দিক চুলের মত চিকন ধারালো অস্ত্রের ফলার মত পথ; তুমি সামনে অগ্রসর হতে পারবেনা সেদিন মানুষ পলায়ন করবে তাঁর ভাই, মাতা-পিতা, স্ত্রী, সন্তান হতে (আবাসা-৩৪-৩৬) এমন সময় সালাতকে তুমি হেফাজত করে থাকলে সে-ই তোমাকে আলোকবর্তিকা হয়ে জান্নাতে নিয়ে যাবে।

প্রিয়নবী (স.) মহাররম ও সফর মাসে অসুস্থ (মাথা ব্যথা) হলে সতের ওয়াক্ত নামাজ আবু বকর (রা.) কে ইমামতির আদেশ করেন। ইবনে আব্বাস ও আলীর (রা.) ধরাধরির মাধ্যমে এক ওয়াক্ত নামাজ আবু বকরের (রা.) পাশে বসে ইমাম হয়ে আদায় করেন। আয়েশা (রা.) বলেন, আমার দু'চোখ এখনো সাক্ষী দেয়, (অসুস্থতার কারণে) তাঁর দু'টি পা মাটি দিয়ে হেঁচড়ে যাচ্ছিল (বুখারী-২য় হা. ৬৩১,৬৩২) এ অবস্থায় তিনি জামা'আতে সালাত আদায় করেছেন কারণ "সালাতই ছিল তাঁর চক্ষু ঠান্ডাকারী" ক্রমেই অসুস্থতা বেড়ে গেলো। হাসান-হুসাইনকে (রা.) কাছে ডেকে আদর করে চুম্বন দিলেন। সকল স্ত্রীগণকে ডেকে নসীহত করলেন। তিনি উম্মতকে সর্বশেষ উপদেশ দিয়ে বারবার বললেন, "নামাজ, নামাজ আর তোমাদের অধীনস্থ দাসদাসিগণ (সম্বন্ধে সতর্ক হও)। হিজরি সনের ১১বর্ষের রবিউল আওয়াল মাসের ১২তারিখ সোমবার তাঁর আদর্শ জীবনের চিরঅবসান ঘটে। মৃত্যুকালীন অসিয়াত পালনে গুরুত্ব বেশি আর মহানবীর (স.) মৃত্যুকালীন অসিয়াত নামাজ।

আল্লাহকে অন্তরে হাজির-নাজির জেনে, যথাযথ ভয় রেখে শুধু তাঁরই সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য চরম আনুগত্যের ধ্যানসহ রসূলুল্লাহর দেখানো পদ্ধতিতে এই নামাজ আদায় করতে হবে তাহলেই আসল ফজিলত জান্নাত লাভ হবে। এই নামাজের আসল ফজিলত প্রাপ্যদের সম্পর্কে কুরআনে (সূরা মু'মিনুনের- ১,২,৯,১১ আয়াতে) বলা হয়েছে "অবশ্যই সফলকাম হয়েছে মুমিনগণ, যারা বিনয়-নম্র, যত্নবান থাকে নিজের নামাজে। তাঁরাই হবে জান্নাতুল ফিরদউসের অধিকারী যেস্থানে তাঁরা স্থায়ী হবে।" নবী (স.) বলেছেন, তোমরা আল্লাহর নিকট জান্নাতের জন্য প্রার্থনা করলে ফেরদাউসের জন্য প্রার্থনা কর" যা নামাজ হিফাজত-কারীদের জন্য নির্ধারিত। এধরনের নামাজ নিশ্চিতভাবে মানুষকে অন্যায়-অপকর্ম থেকে বিরত রেখে আত্মাকে কলুষমুক্ত করে (সূরা আনকাবুত-৪৫)। রসূলুল্লাহ (স.) বলেছেন, "পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, এক জুমু'আ হতে অন্য জুমু'আ এক রমজান থেকে অপর রমজান এবং এক ঈদ থেকে পরবর্তী ঈদের মধ্যে সে সকল গুনাহ মার্জনাকারী, যে সকল গুনাহ্ মধ্যবর্তী সময়ে হয়ে থাকে। যদি কবীরা গুনাহ্সমূহ থেকে বেঁচে থাকা হয়, আর "যে ব্যক্তি দিনে-রাতে ১২রাক'আত (সুন্নত) নামাজ পড়বে, তার জন্য জান্নাতে একটি গৃহ নির্মাণ করা হবে (তিরমিযী, ইবনে মাজাহ ও সহীহুল জামে)।

শীতের মৌসুমে গাছের পাতা ঝরতে ঝরতে গাছ যেমন পাতা শূন্য হয়ে যায় ঠিক তেমনি নিয়মিত নামাজ আদায়কারীর নামাজই তার আমলনামা পাপশূন্য করে দেয়। ঈশা ও ফজরের নামাজ জামা'আতে পড়ার কত ফযিলত তা যদি তারা জানত তা হলে হামা গুঁড়ি দিয়ে হলেও জামা'আতে উপস্থিত হতো।

আবদুল আলিম আল-আসাদ

নামাজের অবিশ্বাস্য ১১ টি উপকারিতা

| comments

নামাজের অবিশ্বাস্য ১১ টি উপকারিতাঃ
১/ নামাজে যখন সিজদা করা হয় তখন আমাদের মস্তিস্কে রক্ত দ্রুত প্রবাহিত হয়। ফলে আমাদের স্মৃতি শক্তি অনেকবৃদ্ধি পায়।

২/ নামাজের যখন আমরা দাড়াই তখন আমাদের চোখ জায়
নামাজের সামনের ঠিক একটি কেন্দ্রে স্থির অবস্থানে থাকে ফলে মনোযোগ বৃদ্ধি পায়।

৩/ নামাজের মাধ্যমের আমাদের শরীরের একটি ব্যায়াম সাধিত
হয়। এটি এমন একটি ব্যায়াম যা ছোট বড় সবাই করতে পারে।

৪/ নামাজের মাধ্যমে আমাদের মনের অসাধারন পরিবর্তন আসে।

৫ নামাজ সকল মানুষের দেহের
কাঠামো বজায় রাখে। ফলে শারীরিক বিকলঙ্গতা লোপ পায়।

৬/ নামাজ মানুষের ত্বক পরিষ্কার রাখে যেমন ওজুর সময় আমাদের
দেহের মূল্যবান অংশগুলো পরিষ্কার করা হয় এর ফলে বিভিন্ন প্রকার
জীবানু হতে আমরা সুরক্ষিত থাকি।

৭/ নামাজে ওজুর সময় মুখমন্ডল ৩বার ধৌত করার ফল আমাদের মুখের ত্বক উজ্জল হয় এবং মুখের দাগ কম দেখা যায়।

৮/ ওজুর সময় মুখমন্ডল যেভাবে পরিস্কার করা হয় তাতে আমাদের
মুখে একপ্রকার মেসেস তৈরি হয়
ফলে আমাদের মুখের রক্ত প্রবাহ
বৃদ্ধি পায় এবং বলিরেখা কমে যায়।

৯/ কিশোর বয়সে নামাজ আদায় করলে মন পবিত্র থাকে এর ফলে নানা প্রকার অসামাজিক কাজ সে বিরত থাকে।

১০/ নামাজ আদায় করলে মানুষের
জীবনি শক্তি বৃদ্ধি পায়।

১১/ কেবল মাত্র নামাজের মাধ্যমেই চোখের নিয়ম মত যত্ন নেওয়া হয় ফলে অধিকাংশ নামাজ আদায়
কারী মানুষের দৃষ্টি শক্তি বজায় থাকে।

পুরুষদের নামাজ চিত্রসহকারে

| comments



















উৎস: আলহাজ্ব ডক্টর শাহ মোহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম রচিত ইসলাম, নামাজ ও তাসাউফ শিক্ষা

সালাত মুমিনের মিরাজ

| comments

নামাজ ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি বুনিয়াদ। নামাজ ফার্সি শব্দ। আরবি প্রতিশব্দ হলো সালাত। যার অর্থ হলো প্রার্থনা, দোয়া, দরুদ, অনুগ্রহ, রহমত। পরিভাষায় সালাত বলতে নির্দিষ্ট কতকগুলো কার্যের নাম যা নির্দিষ্ট সময়ে কতকগুলো নিদিষ্ট শর্ত, সিফাত ও পদ্ধতির মাধ্যমে পালিত হয়। ইমাম ইবনে জাবির রা: বলেছেন, সালাতের মাধ্যমে একজন মানুষ আল্লাহ তায়ালার নিকট স্বীয় কার্যের জন্য পুণ্য প্রার্থনা করে। আর ইসলাম আল্লাহর কাছে সবচেয়ে মনোনীত ধর্ম। ফলে ইসলাম ধর্ম মানুষ ও স্রষ্টার মাঝে প্রত্য সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় অনন্য ভূমিকা পালন করে। ইসলাম ধর্মের অন্তর্নিহিত তাৎপর্য অত্যন্ত গভীর। এটি শুধু আচার অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বরং গভীরভাবে অনুশীলনের মাধ্যমে এটাকে অনুসরণ করতে হয়।
ইসলাম শব্দটি সিলমুন ধাতু থেকে এসেছে। অর্থ হলো সমর্পণ, আত্মসমর্পণ, বশ্যতা। এ সমর্পণ সেই প্রভুর কাছে, যাঁর উদ্দেশে সব অহঙ্কার, আমিত্বকে ধূলিসাৎ করে বিনম্রচিত্তে একজন মুসলিম নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করবে। একজন মুসলিম আল্লাহর অস্তিত্বে ও একত্বে বিশ্বাস করে এবং সব কাজের মধ্যে তাঁকে উপলব্ধি করে। দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ তার সেই উপলব্ধিকে উৎসাহিত করে। এ জন্য নামাজই আল্লাহর কাছে আত্মনিবেদনের অন্যতম মাধ্যম। একজন সাহাবি রাসূল সা:কে জিজ্ঞেস করেছিলেন কোন ইবাদত আল্লাহর কাছে অধিক পছন্দনীয়? তিনি বলেছিলেন যথাযথ সময়ে নামাজ আদায় করা। নামাজ মানুষকে সত্য সুন্দর ও কল্যাণের পথে আহ্বান করে। আর কুপ্রবৃত্তির মানুষকে অকল্যাণের দিকে ধাবিত করে। কুপ্রবৃত্তির ছোবল থেকে নামাজ মানুষকে মুক্তি দিতে পারে। ইসলামে সালাত হচ্ছে ইবাদতের প্রথমপর্যায়। এ ইবাদত সব প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানকে অবশ্যই গ্রহণ করতে হয়। সালাত ধনী-দরিদ্র, যুবক-বৃদ্ধ, পুরুষ-নারী ও সুস্থ-অসুস্থ সবার ওপর অবশ্যপালনীয়। কোনো অবস্থাতেই সালাত থেকে প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানের মুক্তি নেই।
সালাত এতটাই গুরত্বপূর্ণ ইবাদত যে, দণ্ডায়মান অবস্থায় আদায় করতে না পারলে বসে আদায় করবে। অসুস্থতা বা শারীরিক বিকলতার জন্য বসে আদায় করতে না পারলে শায়িত অবস্থায় ইশারায় আদায় করবে। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে এভাবে বর্ণনা করেছেন ইন্না সালাতি ওয়া নুসুকি ওয়া মাহইয়ায়িয়া ওয়া মামাতি লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন। এর অর্থ অবশ্য আমার সালাত, আমার কোরবানি, আমার জীবন এবং আমার মৃত্যু শুধু আল্লাহর জন্যই নিবেদিত। সামগ্রিকভাবে সালাত হচ্ছে আল্লাহ তায়ালাকে স্মরণ করা। আল্লাহ তায়ালা আরো বলেন সালাত কায়েম করো, অবশ্যই সালাত লজ্জাশীলতা ও গর্হিত কাজ থেকে বিরত রাখে এবং আল্লাহর স্মরণই সর্বোত্তম বস্তু।
সালাতের সাথে অন্য সব ইবাদত অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে আছে। সালাত সঠিকভাবে আদায় করতে না পারলে অন্য ইবাদত তেমন কাজে লাগতে নাও পারে। এ জন্য সালাতের গুরুত্ব বর্ণনা করতে গিয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেন নিশ্চয় সালাত সব অশ্লীল ও খারাপ কাজ থেকে মানুষকে বিরত রাখে (সূরা আনকাবুত- ৪৫)।
সালাত ছাড়া জাকাত পবিত্র হয় না, রোজার ফজিলত পাওয়া যায় না, হজের গুরুত্ব অনুধাবন করা যায় না। সালাত ছাড়া অন্য সব ভালো কাজের মূল্য অর্থহীন। সালাত এমন একটা ইবাদত যা স্রষ্টার সাথে সম্পর্ক তৈরির েেত্র কোনো মধ্যবর্তীর প্রয়োজন হয় না।
প্রত্যেক মুসলিম দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ অবশ্যই পড়বেন। জেনে বুঝে উচ্চারণ করে নামাজ পড়লে তবে নামাজ আদায়কারীর মনে সব সময় আল্লাহর স্মরণ থাকার কথা, স্রষ্টার সাথে নিবিড় সম্পর্ক স্থাপনের কথা। কিন্তু বাস্তবে কী দেখছি আমরা? মুসলিম দেশগুলো সব চেয়ে বেশি অসুবিধার সম্মুখীন, বিপদগ্রস্ত। মানুষের মধ্যে সাধারণভাবে দুই ধরনের প্রবৃত্তিগত মানুষ পাওয়া যায়। স্বার্থাকাক্সী ও পরার্থকারী। যারা স্বার্থাকাক্সী তারা কখনোই সালাত আদায় করার মুহূর্তে একাগ্র হতে পারে না। অনেক সময় দেখা যায়, অনেক মানুষ রুকু-সেজদা ঠিক মতো শেষ না করে তাদের কর্মেেত্র ছুটে যাচ্ছে। এসব মানুষের কাছে নামাজ একটি প্রথামাত্র। এ জন্যই রাসূল সা: আদেশ দিয়েছেন যে নামাজের মধ্যে থেকে নামাজের প্রকরণগুলো চুরি করবে না। নামাজে সামগ্রিক একাগ্রতা বিধানের জন্য এ কথা বলা হয়েছে। কারণ নামাজের মধ্যেই রয়েছে সর্বাঙ্গীণ কল্যাণ ও মঙ্গল।
সঠিকভাবে নামাজ আদায়ের ব্যাপারে রাসূল সা: তাগিদ দিয়েছেন। এ জন্য নামাজের মধ্যে কিছু শর্ত রয়েছে। এই শর্তগুলো ঠিক মতো আদায় করতে হবে। কেননা আল্লাহর দরবারে হাজির হতে হবে নামাজ আদায়কারীকে। নামাজ আবার যখন ইচ্ছা আদায় করলে হবে না। আল্লাহর বিধান অনুযায়ী এর জন্য পাঁচটি নির্দিষ্ট সময় আছে। রাসূল সা: বলেন জিব্রাইল আ: কাবাঘরের কাছে এসে দুইবার আমার সালাতের ইমামতি করেন। তিনি আমাকে জোহরের সালাত পড়ালেন যখন সূর্য মাথার ওপর থেকে একটু ঢলে যায় আর ছায়াটা জুতোর চামড়ার মতো হয়। এরপর তিনি আমাকে আসরের নামাজ পড়ালেন যখন প্রত্যেক জিনিসের ছায়া তার সমান হয়। এরপর তিনি আমাকে মাগরিবের সালাত পড়ালেন যখন রোজাদাররা ইফতার করে অর্থাৎ সূর্য ডোবার সাথে সাথেই। এরপর তিনি আমাকে এশার সালাত পড়ালেন যখন ‘শাফাক’ বা সন্ধ্যা বেলার পশ্চিম আকাশের লাল আভা দূর হয়ে যায়। এরপর তিনি আমাকে ফজরের সালাত পড়ালেন যখন রোজাদারদের ওপর খাওয়া ও পান করা হারাম হয়ে যায়। এরপর দ্বিতীয় দিন তিনি আমাকে জোহরের সালাত পড়ালেন যখন তার ছায়া সমান হয় এবং আসর যখন পড়ালেন তখন তার ছায়া দ্বিগুণ হয় আর মাগরিব পড়ালেন যখন রোজাদাররা ইফতার করে এবং এশা পড়ান যখন তিন ভাগের একভাগ রাত গত হয়ে যায়। আর ফজর তখন পড়ান যখন ফর্সা হয়ে যায়। এরপর তিনি আমার দিকে মুখ করে বললেন হে মুহাম্মদ, এটা আপনার পূর্বের নবীদের সময় এবং এই দুই ওয়াক্তের মধ্যবর্তী সময়ই হলো প্রকৃত ওয়াক্ত। (মিশকাত)
এভাবে নামাজকে জীবনের অংশ হিসেবে বিবেচনা করে একজন মুসলিম আদর্শ জীবন পরিচালনা করতে পারে। পৌঁছাতে পারে আল্লাহর অনেক কাছাকাছি, হতে পারে আল্লাহর প্রিয়পাত্র, লাভ করতে পারে তাঁর সান্নিধ্য। আল্লাহর প্রতি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস স্থাপন করে প্রত্যেক মুমিন সঠিকভাবে নামাজ আদায়ের মাধ্যমে ইহকাল ও পরকালে শান্তি ও কল্যাণ লাভ করতে পারে।

লেখক : ড. মু. বিলাল হুসাইন; সহকারী অধ্যাপক, আরবি বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

জুমাবারের আমল সমূহ

| comments

: : : : : : : ১ম পর্ব (জুমার নামাজের আগ পর্যন্ত আমল): : : : : : :
অন্যদিনের তুলনায় ফযরের সময় ঘুম থেকে তাড়াতাড়ি ওঠা,

পরিস্কার পরিচ্ছন্ন হওয়া। নখ, চুল ও শরীরের অবাঞ্ছিত পশম পরিস্কার করা।

মিসওয়াক করা ।

উত্তমরুপে গোসল করা।

আতর বা খুশবু লাগানো ।

তাড়াতাড়ি মসজিদে যাওয়া। জুম'আর আযানের আগেই মসজিদে যাওয়া উত্তম। যে যত আগে মসজিদে যাবে সে তত বেশি সওয়াব পাবে।

কোন যানবাহন ব্যবহার না করে পায়ে হেটে মসজিদে যাওয়া।

ইমাম সাহেবের কাছাকাছি বসা ।

অহেতুক কথাবার্তা না বলা বা অন্য কিছু না করা ।

আত্তাহিয়াতু সুরতে মানে নামাযের মধ্যে বৈঠকের সময় যেভাবে বসতে হয়, সেইভাবে বসে মনোযোগ সহকারে খুতবা শোনা।

খুতবার চলাকালীন (যতই প্রয়োজনীয়ই হোক) কথা বলা হারাম। এমনকি ইশারায় কাউকে চুপ করতে বলা বা কোন কিছু করতে বারণ করাও হারাম।

জুমআর দিনে উপরোক্ত আমলগুলো করলে প্রতি কদমে এক বছরের নফল রোযা ও এক বছরের নফল নামাযের সওয়াব পাওয়া যায় ।

[আবু দাউদ, তিরমিযি, নাসায়ী ও ইবনু মাযা শরীফ]

: : : : : : : ২য় পর্ব (নামাজের পড়ে আমল): : : : : : :

: | : আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিনিন নাবিয়্যিল উম্মিয়্যি ওয়া আলা আলিহী ওয়াসাল্লিম
তাসলীমা : | :

হযরত আবু হুরাইরা রাযি. হতে বর্ণিত : রাসূল পাক সা. ইরশাদ করেন ,
যে ব্যক্তি জুম'আর দিন আসর নামাযের পর না উঠে ঐ স্থানে বসা অবস্থায়
৮০ বার উপরে উল্লেখিত দরুদ শরীফ পাঠ করবে , তার ৮০ বছরের গুনাহ
মাফ হবে এবং ৮০ বছরের নফল ইবাদতের সওয়াব তার আমল নামায়
লেখা হবে ।

¤ ¤ সূরা কাহাফ তিলাওয়াত করা:
জুম'আর দিনে সূরা কাহ্ফ তিলাওয়াত করলে কিয়ামতের দিন
আকাশতুল্য একটি নূর প্রকাশ পাবে ।
¤¤ বেশি বেশি দুরুদ শরীফ পাঠ করা এবং বেশি বেশি যিকির
করা মুস্তাহাব ।
¤¤জুম'আর রাত (বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত) ও জুম'আর দিনে নবী করিম সা. এর প্রতি বেশী বেশী দরুদ পাঠের কথা বলা হয়েছে । এমনিতেই যে কোন সময়ে একবার দুরুদ শরীফ পাঠ করলে আল্লাহ তায়ালা দরুদ শরীফ
পাঠকারীকে দশটা রহমত দান করেন এবং ফেরেশতারা তার
জন্য দশবার রহমতের দোয়া করেন ।
¤¤ দুই খুতবার মাঝখানে হাত না উঠিয়ে মনে মনে দোয়া করা ।
¤¤ সূর্য ডোবার কিছুক্ষণ আগ থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত গুরুত্বের
সাথে যিকির , তাসবীহ ও দুআয় লিপ্ত থাকা ।
↓↓↓↓
উপরের আলোচনা থেকে বোঝা যায় জুম'আ বার খুব গুরত্বপূর্ণ একটি দিন। হাদীসে আরও পাওয়া যায় , জুম'আ বার দিনে বিশেষ করে ফযরের সময় এবং আসরের নামায এর পর দোয়া কবুল হবার সম্ভবনা বেশী ।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে জুম'আ বারের গুরুত্ব বোঝার তৌফিক দান করুন এবং যথাযথভাবে জুম'আ বারের আমলগুলো করার তৌফিক দান করুন।আমীন।
↓↓↓↓↓↓↓↓
সেই সাথে কোন ওজরে যেন নামাজ পড়তে ভুলে না যাই। আল্লাহ, আমাদের সকলকে হেদায়েত দান করুন। আমীন। জুমা বারের ফজিলত সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে লেখাটি শেয়ার করার অনুরোধ রইলো। সেই সাথে পোস্টটি ভালো লাগলে লাইক করে জানাবেন। এতে আমরা আরও ভালো পোস্ট দিতে উৎসাহ পাই।

•• Online-এ "কুরআন ও হাদীস" ••

জুমুআ'র দিনে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর প্রতি বেশী বেশী দরূদ পাঠ করার জন্য আমাদের সকলকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
...
[নাসাঈ, ১৩৭৭]

রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, যে ব্যক্তি আমার উপর একবার দরূদ পাঠ করবে আল্লাহ্‌ তা'আলা তার উপর দশবার রহমত নাযিল করবেন, তার দশটি গুনাহ্‌ মিটিয়ে দেয়া হবে এবং তার দশটি মর্যাদা উন্নীত করা হবে।

[নাসাঈ, ১৩০০]

রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদেরকে এই দরূদ পড়তে শিখিয়েছেন-
"আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদ ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ কামা সাল্লাইতা আলা ইব্রাহিমা ওয়া আলা আলি ইব্রাহিমা, ইন্নাকা হামিদুম মাজিদ। আল্লাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মাদ ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ কামা বারাকতা আলা ইব্রাহিমা ওয়া আলা আলি ইব্রাহিমা, ইন্নাকা হামিদুম মাজিদ"

[বুখারী, মুসলিম]
 
Support : Creating Website | Johny Template | Mas Template
Copyright © 2011. ইসলামী কথা - All Rights Reserved
Template Created by Creating Website Published by Mas Template
Proudly powered by Premium Blogger Template