السلام عليكم

যে ব্যক্তি নিয়মিত ইস্তেগফার (তওবা) করবে আল্লাহ তাকে সব বিপদ থেকে উত্তরণের পথ বের করে দেবেন, সব দুশ্চিন্তা মিটিয়ে দেবেন এবং অকল্পনীয় উৎস থেকে তার রিজিকের ব্যবস্থা করে দেবেন। [আবূ দাঊদ: ১৫২০; ইবন মাজা: ৩৮১৯]

কোরআনে দেয়া জীবনব্যবস্থা মানলে ডায়াবেটিস হবে না

| comments (1)

বেঁচে থাকার জন্য মানুষকে পানাহার করতে হয়। খাদ্য ও পানীয় গ্রহণ ছাড়া মানুষ বাঁচতে পারে না। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা মানব জাতির উদ্দেশে বলেছেন, তোমরা খাও এবং পান কর, তবে অপচয় কর না। অবশ্যই আল্লাহ অপচয়কারীকে পছন্দ করেন না। (সূরা আরাফ : ৩১)

এ আয়াতের ব্যাখ্যায় আল্লামা ইবনে কাসির এক হাদিস উদ্ধৃত করেছেন। হজরত আনাস ইবনে মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত হজরত নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমার মনে যা চায় তা-ই খাওয়া অপচয় ও সীমা লঙ্ঘনের অন্তর্ভুক্তি। (তাফসিরে ইবনে কাসির : ২/৭২৭)

উপরোক্ত আয়াত ও হাদিস থেকে আমরা বুঝতে পারি যে, মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সা.) পানাহারের ক্ষেত্রে পরিমিতিবোধ ও সংযমের নির্দেশ দিয়েছেন। মনের লোভ বা চোখের ক্ষুধাবশত অতিরিক্ত ভূরিভোজন, খাদ্যগ্রহণে সীমা লঙ্ঘন কিংবা ভোজনরসিক হওয়ার ব্যাপারটি ইসলাম নিরুৎসাহিত করেছে। পানাহারে সীমা লঙ্ঘনকারীকে আল্লাহ পছন্দ করেন না। চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের দৃষ্টিতেও অতিভোজন মানুষের জন্য বিশেষ ক্ষতিকর বলে প্রমাণিত। ডায়াবেটিস, উচ্চারক্তচাপ, হৃদরোগসহ নানা ধরনের মারাত্মক রোগের জন্যও অপরিমিত খাবারকে দায়ী করা হয়। উন্নত দেশগুলোতে অতিরিক্ত মোটা বা মেদবহুল হওয়া আজ এক অভিশাপরূপে দেখা দিয়েছে। অতিরিক্ত খাদ্যগ্রহণ মুখরোচক খাবার নিয়ন্ত্রণহীনভাবে খেয়ে চলা, অধিক পরিমাণে ফাস্টফুড নেয়া ইত্যাদি কারণে পাশ্চাত্যের একটি প্রজন্ম নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ছে। বিশ্বব্যাপী প্রধানত অধিক খাবার গ্রহণ, সঞ্চিত ক্যালোরি খরচ করার ব্যবস্থা না রেখেই আরও ক্যালোরি সঞ্চয় প্রভৃতি কারণেই কোটি কোটি মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে পূর্ব সতর্কতা ও পানাহারে শৃংখলা পালন করলে ডায়াবেটিস থেকে আত্মরক্ষা সম্ভব। বাংলাদেশের শতকরা প্রায় ৯০ ভাগ মানুষ ইসলামে বিশ্বাসী। অপরাপর সব নাগরিকই ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি আস্থাশীল। অতএব পবিত্র ইসলাম তথা কোরআন ও হাদিসের আলোকে পানাহারে সংযম-শৃংখলা ও পরিমিতিবোধ বিষয়ক কিছু দিকনির্দেশ বাংলাদেশের সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্যসচেতন এবং ডায়াবেটিস প্রতিরোধে উদ্বুদ্ধ করতে পারে।


বারডেম সভাকক্ষে রাজধানীর শীর্ষস্থানীয় উলামায়ে কেরাম ও ইসলামী চিন্তাবিদদের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বর্ষীয়ান আলেমেদ্বীন শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক (রহ.)। সভায় পানাহার সম্পর্কিত কোরআন-হাদিসের দিকনির্দেশনা সংবলিত কিছু তথ্য উঠে আসে। বক্তারা কিছু পরামর্শ ও প্রস্তাব পেশ করেন। এর ভেতর দেশের আলেম সমাজ, মসজিদের ইমাম, খতিব ও ধর্মীয় প্রচারকদের হাতে একটি বুকলেট তুলে দেয়ার প্রস্তাব রাখেন। পুস্তিকাটি পাঠ করে এর আলোকে আলেম ও ইমাম-খতিবরা জুমার খুতবায় এবং অন্য সময়ও আলোচনা করতে পারেন। সুবিধা মনে করলে কোনো ব্যক্তি এটি বা এর নির্বাচিত অংশ সমবেত মুসল্লিদের সামনে পাঠ করেও শোনাতে পারেন। কোরআন-সুন্নাহর আলোকে রচিত এই পুস্তিকার আলোকে দেশের সম্মানিত ওয়ায়েজরা যদি জনগণকে পানাহারের শৃংখলা সম্পর্কে সচেতন করেন তাহলেও জাতি ডায়াবেটিসসহ অপরাপর বহু রোগব্যাধি থেকে নিরাপদ থাকতে পারবে। পানাহারের ক্ষেত্রে ইসলামী আদর্শের অনুসরণে জাতির খাদ্য ও অর্থও সাশ্রয় হবে।


ইতিহাসে পাওয়া যায়, একবার হজরত ওমর (রা.)-এর শাসনামলে সিরিয়া থেকে একটি চিকিৎসক দল মদিনা সফরে আসে। খ্রিস্টধর্মাবলম্বী এ চিকিৎসকরা মুসলিম সমাজের নাগরিকদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দিতে মনস্থ করলেন। কিন্তু ঘোষণা সত্ত্বেও আশানুরূপ রোগী চিকিৎসা নিতে এলেন না। কদিন পর চিকিৎসক দলের সদস্যরা বিস্মিত হয়ে মদিনায় এক রাখালকে প্রশ্ন করলেন, বিনা পয়সায় উন্নত চিকিৎসা সেবা পেয়েও তোমরা কেন আমাদের শিবিরে আসছ না। এখানে রাখাল তরুণটি যে উত্তর দিয়েছিল তা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ সে বলেছিল, আমরা মদিনাবাসী সাধারণত কোনো রোগ-ব্যাধির শিকার হই না। কারণ আমরা আমাদের প্রিয়নবী (সা.)-এর শিক্ষার ওপর আমল করি, তার কথামতো আমরা তৃপ্ত হয়ে খাওয়ার সময়ও পেটকে তিন ভাগে ভাগ করি। এক ভাগ খাদ্য, এক ভাগ পানীয় আর এক ভাগ আরামে শ্বাস-প্রশ্বাস নেয়ার জন্য খালি রাখি। তা ছাড়া ক্ষুধা লাগলেই শুধু আমরা খাবার গ্রহণ করি আর কিছু ক্ষুধা থাকা অবস্থায়ই খাওয়া শেষ করি।


পরবর্তীকালে খলিফা হারুনর রশীদের শাসনামলেও একটি ঘটনা ইতিহাসে পাওয়া যায়। সেখানে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক খলিফার কৌতূহলের জবাবে বলেছিলেন, সুস্থতার জন্য বড় পরামর্শ হচ্ছে ইসলামের খাদ্যগ্রহণ রীতি। সেখানে বলা হয়েছে, পূর্ণ ক্ষুধা না পেলে খাবার খেও না। আর কিছু ক্ষুধা থেকে যাওয়া অবস্থায়ই খাওয়া শেষ কর। খলিফা হারুনর রশীদ তখন এ পরামর্শটি গ্রহণের জন্য সবাইকে উৎসাহিত করেন।


কৃত্রিম খাদ্য সংকটের কথা বাদ দিলে বলতে হয় যে, পৃথিবীতে মানুষ যত না খেয়ে মরে তার চেয়ে বেশি মারা যায় অধিক খাওয়ার কারণেই। অনিয়ন্ত্রিত খাদ্য গ্রহণের ফলেই সাধারণত মানুষ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে কিংবা ডায়াবেটিস এবং ডায়াবেটিস সজ্ঞাত অন্যান্য রোগে মৃত্যুবরণ করতে দেখা যায়। অতিভোজনের ফলে বাড়তি মেদ ও অতিশয় মোটা হয়ে যাওয়ার দরুন দুর্বিষহ জীবনযাপনের নজিরও পৃথিবীতে কম নয়। এক্ষেত্রে পবিত্র কোরআনের এই আয়াতটি জানা জরুরি। মহান আল্লাহ বলেন, আমার দেয়া পবিত্র সামগ্রী থেকে আহার কর, তবে এতে সীমা লঙ্ঘন কর না। তাহলে তোমাদের ওপর আমার অসন্তোষ নেমে আসবে। আর আমার অসন্তোষ বা ক্রোধ যার ওপর আপতিত হয় সে বরবাদ হয়ে যায়। (সূরা তোয়াহা : ৮১)। বেশি খাওয়ার ফলে যত রোগ হয় সেসবকেও আমরা মহান আল্লাহর গজব বা ক্রোধ তথা প্রকৃতির প্রতিশোধ বলে আখ্যায়িত করতে পারি।


হজরত মিকদাদ (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি নবী করিম (সা.)-কে বলতে শুনেছি, মানুষ যত পাত্র তার শরীরে ধারণ করে এর ভেতর সবচেয়ে মন্দ পাত্র হচ্ছে তার পেট। আদম সন্তানের জন্য তো কয়েকটি লোকমাই যথেষ্ট, যা তার শিরদাঁড়া সোজা রাখতে পারে। আর যদি তৃপ্ত হয়েই খেতে হয় তাহলে পেটের এক ভাগ খাদ্য, এক ভাগ পানীয় আর এক ভাগ শ্বাস-প্রশ্বাস নেয়ার জন্য রাখবে। (তিরমিজি ২/৬৩)


বিজ্ঞানীরা বলেন, প্রয়োজনীয় খাদ্যটুকু ছাড়া বাকি খাবার মানুষের কোনো কাজে আসে না। অব্যাহতভাবে পেট ভরা থাকলে হজমশক্তিসহ মানবদেহের অনেক ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। মাঝে মাঝে রোজা রাখলে মানুষ সবদিক দিয়ে সুস্থ থাকে। নবী করিম (সা.) বলেছেন, তোমরা রোজা রাখ সুস্থ থাকবে। (আত তারগিব ওযাত তাহরিব ২/৮৩)। ইসলামী জীবনে প্রতি বছর এক মাস ফরজ রোজা ছাড়াও মাসিক ও সাময়িক নফল রোজার প্রশংসনীয় রীতি চালু রয়েছে।


কোরআনে আল্লাহ বলেছেন, যারা কাফের তারা ভোগবিলাসে মত্ত থাকে এবং চতুষ্পদ জন্তুর মতো যত পারে আহার করে। দোজখের আগুনই তাদের আবাসস্থল। (সূরা মুহাম্মাদ : ১২)


উন্নত ও আদর্শ জীবনবোধের ফলে মুমিনদের পানাহার তাদের পরকালীন বিশ্বাসের আলোকেই সংযত, নিয়ন্ত্রিত ও সুপরিমিত হওয়া স্বাভাবিক, যা কাফেরদের মাঝে পাওয়া খুবই দুষ্কর।


বাংলাদেশসহ পৃথিবীর সব অঞ্চলের মানুষ যদি ইসলাম নির্দেশিত খাদ্যরীতি গ্রহণ করে অল্পে তুষ্ট থাকে এবং জীবন চলার পরিমাণ রিজিকে সন্তুষ্ট হয়ে যায় তাহলে সীমিত সঞ্চয়েই বরকত হবে এবং সীমিত উৎপাদন এই বিশ্ববাসীর ক্ষুধা নিবৃত্তি সম্ভব হবে। মুসলিমরা যদি পরকালে পাওয়ার আশায় নিজের অংশ থেকে অপর ভাইকে খাবার দেন তাহলে সমাজে অভাবের তাড়নায় কৃত অন্যায়-অপকর্মও কমে আসবে। ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ, হৃদরোগসহ নানা ধরনের বড় রোগ থেকে বাঁচার উপায় হিসেবে পানাহার ও জীবনযাপনে শৃংখলা আনা একান্ত জরুরি। আসুন কোরআনের আলোকে খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার মাধ্যমে আমরা রোগ প্রতিরোধ করি। মহান আল্লাহ আমাদের সহায় হোন। আমিন।
- ফাতাহ মামুন
Share this article :

+ comments + 1 comments

February 20, 2014 at 2:11 AM


Every body need to gather Islamic knowledge.We can gather Islamic knowledge by reading Quran & Sohi Hadeed .This is the mordern era we can get islamic knowledge by visiting Islamic web site.There we can get Islamic book,
Islamic magazine & many islamic site in there.Islamic site help us to find out the importent knowledge about of Islam,Islamism & Muslim. So every body need to visit
Islamic site.We can also known about the Islamic culture
.So I request everybody please you will know about Islam.Make your life fully
Islamic.I think
Islam is true.

Post a Comment

 
Support : Creating Website | Johny Template | Mas Template
Copyright © 2011. ইসলামী কথা - All Rights Reserved
Template Created by Creating Website Published by Mas Template
Proudly powered by Premium Blogger Template