السلام عليكم

যে ব্যক্তি নিয়মিত ইস্তেগফার (তওবা) করবে আল্লাহ তাকে সব বিপদ থেকে উত্তরণের পথ বের করে দেবেন, সব দুশ্চিন্তা মিটিয়ে দেবেন এবং অকল্পনীয় উৎস থেকে তার রিজিকের ব্যবস্থা করে দেবেন। [আবূ দাঊদ: ১৫২০; ইবন মাজা: ৩৮১৯]

ছুটি খাঁ জামে মসজিদ, চট্টগ্রাম

| comments

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের সবচেয়ে প্রাচীন স্থাপত্যের নিদর্শন ঐতিহাসিক ছুটি খাঁ জামে মসজিদ। ঢাকা-চট্টগ্রাম পুরনো মহাসড়কের পশ্চিম পাশে উপজেলার জোরারগঞ্জ বাজারের আধাকিলোমিটার উত্তরে ছুটি খাঁ দীঘির পূর্ব পাড়ে এ মসজিদের অবস্থান।

এ মসজিদের ইতিহাস সম্বন্ধে জানা যায়, গৌড়ের সুলতান হোসেন শাহের আমলে পঞ্চদশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে উত্তর চট্টগ্রামের শাসনকর্তা ছিলেন লস্কর পরাগল খাঁ ও পরবর্তীতে তার ছেলে ছুটি খাঁ। পরাগল খাঁর পিতা রাস্তি খাঁ ও গৌড়ের শাসনকর্তা রুকুনুদ্দীন বারবাক শাহের শাসনামলে চট্টগ্রামের শাসনকর্তা ছিলেন। পরাগল খাঁ ও ছুটি খাঁ'র শাসনামলে চট্টগ্রামের শাসন কেন্দ্র ছিল পরাগলপুর। এ সময় এখানে বেশ কিছু দিঘি ও কয়েকটি মসজিদ প্রতিষ্ঠা করা হয়। ছুটি খাঁ মসজিদের মূল মসজিদটি বহুদিন আগে ভেঙে পড়েছে। পরবর্তীতে একটি মসজিদ নতুনভাবে নির্মিত হয়েছে। যেখানে মূল মসজিদের বেশকিছু ছোট-বড় পাথর ও শিলালিপি দেখতে পাওয়া যায়। পুরনো মসজিদের কিছু ধ্বংসাবশেষ প্রত্নতাত্তি্বক নিদর্শন হিসাবে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় জাদুঘর কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণ করেছে বলে জানা যায়। পাথরগুলো ভারতের রাজস্থান বা অন্যান্য প্রদেশ থেকে আনা হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। কৃষ্ণবর্ণের নানা ডিজাইন ও সাইজের পাথরগুলো মসজিদ প্রাঙ্গণে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে এখনো। স্থানীয়রা জানান, ছুটি খাঁ দিঘির অভ্যন্তরে ও মসজিদের ভেতরে একাধিক শিলালিপি রয়েছে। তার মধ্যে একটি শিলালিপিতে পবিত্র কোরআন শরিফের আয়াতুল কুরসি লিখা আছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ছুটি খাঁ মসজিদ লিপি খোদিত পাথরের ব্লক দিয়ে নির্মিত ছিল। সেগুলো ইতস্তত পড়ে আছে বর্তমান মসজিদের আঙিনায়। কিন্তু সবগুলোতেই দেখা গেছে তোগরা হরফে কোরআনের নানা আয়াত ও আরবি দোয়া। তবে ঐতিহাসিক মূল্যবিশিষ্ট কোনো লিপি পাওয়া যায়নি। ছুটি খাঁ কর্তৃক এ মসজিদ স্থাপন করা হয় ১৫১৫ খ্রিস্টাব্দে।

তবে মসজিদটির নির্মাতা পরাগল খাঁ নাকি ছুটি খাঁ, তার কোনো লিখিত সাক্ষ্য-প্রমাণ নেই। নির্মাতা যেই হোন, এ মসজিদটি অদ্যাবধি পাঁচশ বছর ধরে এ অঞ্চলের কীর্তিমান শাসক, পার্শ্ববর্তী ত্রিপুরা ও আরাকানী অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াকু সৈনিক ছুটি খাঁ'র স্মৃতি হিসেবে টিকে আছে। প্রতি শুক্রবার ও ঈদের নামাজে এ মসজিদে নামাজ পড়তে হাজার হাজার মুসলি্লর সমাগম ঘটে। আশপাশ এলাকা ছাড়াও দূর-দূরান্ত থেকে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ছুটে আসেন এ মসজিদে ইবাদত বন্দেগীর জন্য। বর্তমানে এ মসজিদে জুমা ও ঈদের নামাজ পরিচালনা করেন করেরহাট আলিয়া মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা নূরুল আলম তৌহিদী। জুমা ও ঈদের নামাজ ছাড়া প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের ইমামতি ও মসজিদের খাদেম হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মাওলানা রুহুল আমিন। মসজিদের পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করছেন যথাক্রমে সিরাজ-উদ-দৌলা চৌধুরী নয়ন ও আলহাজ নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

মসজিদ কমিটির সম্পাদক নজরুল ইসলাম চৌধুরী জানান, ঐতিহাসিক এ মসজিদের প্রাচীন নিদর্শনগুলো সংরক্ষণের জন্য সরকারিভাবে কখনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। আগামী প্রজন্মের জন্য যতটুকু সম্ভব স্থানীয় মসজিদ কমিটি তা সংরক্ষণের চেষ্টা করছে। তাই প্রত্নতত্ত্ব সম্পদ হিসাবে এ মসজিদটির ধ্বংসাবশেষ সংরক্ষণে সরকারি উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন এলাকার বিজ্ঞ মহল।

রিগান উদ্দিন
Share this article :

Post a Comment

 
Support : Creating Website | Johny Template | Mas Template
Copyright © 2011. ইসলামী কথা - All Rights Reserved
Template Created by Creating Website Published by Mas Template
Proudly powered by Premium Blogger Template