السلام عليكم

যে ব্যক্তি নিয়মিত ইস্তেগফার (তওবা) করবে আল্লাহ তাকে সব বিপদ থেকে উত্তরণের পথ বের করে দেবেন, সব দুশ্চিন্তা মিটিয়ে দেবেন এবং অকল্পনীয় উৎস থেকে তার রিজিকের ব্যবস্থা করে দেবেন। [আবূ দাঊদ: ১৫২০; ইবন মাজা: ৩৮১৯]
Showing posts with label রোজা. Show all posts
Showing posts with label রোজা. Show all posts

রোজাদারের পুরস্কার

| comments

সারাদিন উপোস থাকার পর ইফতার আনন্দের একটি মুহূর্ত। ইফতারের মাধ্যমে রোজার পূর্ণতা আসে। এ সময়টি আল্লাহ মুমিনের পুরস্কারের জন্য নির্ধারণ করেছেন। নানা ধরনের খাবার সামনে পড়ে থাকা সত্ত্বেও আল্লাহর বিধান না থাকায় খাচ্ছে না-এটা আল্লাহর কাছে খুবই পছন্দের। রাসুল সা. বলেছেন, রোজাদারের খুশির মুহূর্ত দুটি :

এক. ইফতারের মুহূর্ত,

দুই. তাকে যেদিন জান্নাতে স্বাগত জানানো হবে।

বান্দা যখন ইফতার সামনে নিয়ে বসে থাকে, আল্লাহ তখন ফেরেশতাদের কাছে গর্ব করেন। ইফতারের সময় দোয়া করলে তা কবুল হওয়ার বিশেষ সম্ভাবনা থাকে। ইফতারের কোনো দোয়া বৃথা যায় না। হাদিসে আছে, রাসুল সা. বলেছেন, ‘‘আল্লাহ তায়ালা রমজান মাসে প্রতিদিন ইফতারের সময় দশ লাখ লোককে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন।’

ইফতারের সময় এ দোয়াটি পড়ার কথা হাদিসে আছে : ‘আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু ওয়া আলা রিজকিকা আফতারতু।’ ‘হে আল্লাহ! আমি তোমার জন্যই রোজা রেখেছিলাম এবং তোমার রিজিক দ্বারাই ইফতার করলাম।’

রোজাদারকে ইফতার করানোর মধ্যেও বিশেষ সওয়াব রয়েছে। রাসুল সা. বলেছেন, ‘‘যিনি কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবেন, তা তার অপরাধ ক্ষমা এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তির কারণ হবে। তিনি রোজাদারের সমান সওয়াব পাবেন।’’ তবে রোজাদারের সওয়াব থেকে সামান্যও কমানো হবে না। সামান্য খেজুর বা পানি দিয়ে ইফতার করালেও পুরো সওয়াব পেয়ে যাবে।

সময় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইফতার করে নেয়া সুন্নত। অযথা ইফতারে দেরি করতে নেই। তবে সূর্যাস্থের বিষয়টি অবশ্যই নিশ্চিত হয়ে নিতে হবে। কেউ যদি সময় হয়ে গেছে মনে করে সময়ের আগেই খেয়ে ফেলে তার রোজা ভেঙে যাবে। তাকে এ রোজার কাজা করতে হবে।

ইফতারের মুহূর্তে অযথা গল্প-গুজবে লিপ্ত না হওয়াই ভালো। এ সময় মনে মনে জিকির ও তওবা করা উচিত। অনেকে এক সঙ্গে ইফতার করলে সম্মিলিতভাবে দোয়াও করা যেতে পারে।

রোজা তাকওয়া ও বেহেশত

| comments

মুক্তির এই দশকেই রোজাদার লাভ করে বেহেশতের আশ্বাস। এই আশ্বাস বয়ে আনে আল্লাহর ভয়। একজন ঈমানদারের শ্রেষ্ঠ গুণ হলো তাকওয়া। তাকওয়া ও আল্লাহভীতি অর্জনের শুভপ্রহর এই রমজান_ এ কথা জেনেছি আমরা রোজার শুরুতে। তারপর কী বয়ে আনে এই তাকওয়া? আল্লাহতায়ালা স্পষ্ট করে বলেছেন_ 'তোমরা এগিয়ে যাও তোমাদের প্রতিপালকের ক্ষমার প্রতি এবং সেই বেহেশতের প্রতি_ যার বিস্তৃতি আসমান ও জমিনের ন্যায়_ যা প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে মুত্তাকীদের জন্য। যারা সচ্ছল ও অসচ্ছল অবস্থায় ব্যয় করে এবং যারা ক্রোধ সংবরণকারী ও মানুষের প্রতি ক্ষমাশীল; আল্লাহ সৎকর্মপরায়ণদেরকে ভালোবাসেন।' (আলেইমরান :১৩৩-১৩৪)
তাকওয়ার জন্য রমজান_ এ কথা আমরা জানি। উলি্লখিত আয়াত দুটিতে আল্লাহতায়ালা জানিয়েছেন_ এ গুণে যারা বিভূষিত হবে তাদের নিবাস হবে বেহেশত। অধিকন্তু মুত্তাকী হতে হলে নিজের মধ্যে কী কী গুণ ও চরিত্র ধারণ করতে হয় তাও বলে দিয়েছেন আল্লাহতায়ালা। দান, ধৈর্য ও মানুষের প্রতি সদয়প্রাণ হওয়া তন্মধ্যে অন্যতম। আবু মালিক আশয়ারী (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন_ বেহেশতে এমন অনেক কক্ষ আছে যার ভেতর থেকে বাইরের সবকিছু এবং বাইরে থেকে ভেতরের সবকিছু দেখা যাবে। এর অধিকারী হবে তারাই যারা মানুষকে খেতে দেয়, নিয়মিত রোজা রাখে আর মানুষ যখন ঘুমিয়ে থাকে তারা তখন থাকে নামাজে মশগুল (মাজমাউয যাওয়াইদ_ আননিহায়া ফিলকিতাব : ইবনে কাছর :৪৭৮ পৃ.)
সুরা যুমার-এ আল্লাহতায়ালা তাকওয়া অর্জনকারীদের পুরস্কার সম্পর্কে বলেছেন_ 'যার ওপর দণ্ডাদেশ অবধারিত হয়েছে; তুমি কি সেই ব্যক্তিকে রক্ষা করতে পারবে যে দোজখে আছে? তবে যারা তাদের প্রতিপালককে ভয় করে (মুত্তাকীগণ)_ তাদের জন্য রয়েছে অনেক প্রাসাদ_ যার পাদদেশে প্রবাহিত নদীর পর নদী। এটা আল্লাহর অঙ্গীকার। আল্লাহতায়ালা অঙ্গীকার ভঙ্গ করেন না। (যুমার :১৯-২০)
কী মান ও মর্যাদায় বেহেশতে প্রবেশ করবে এই মুত্তাকীগণ তাও বর্ণিত হয়েছে পাক কোরআনের পবিত্র পাতায়। আল্লাহতায়ালা বলেছেন_ 'যারা তাদের প্রতিপালককে ভয় করত (মুত্তাকীগণ) তাদেরকে দলে দলে বেহেশতের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। যখন তারা বেহেশতের কাছে উপনীত হবে এবং তার দ্বারসমূহ খুলে দেওয়া হবে তখন বেহেশতের রক্ষীরা তাদেরকে বলবে_ সালামুন আলাইকুম_ তোমাদের প্রতি সালাম! তোমরা সুখী হও এবং স্থায়ীভাবে থাকার জন্য বেহেশতে প্রবেশ করো। তারা বেহেশতে প্রবেশ করে বলবে : সকল প্রশংসা আল্লাহর_ যিনি আমাদের প্রতি তার অঙ্গীকার পূর্ণ করেছেন এবং আমাদেরকে অধিকারী করেছেন এই ভূমির_ আমরা বেহেশতের যেখানে খুশি বসবাস করব। সদাচারীদের পুরস্কার কত উত্তম! (যুমার :৭৩-৭৪)।
মানবজীবনের এই তো সফলতা। সফলতা ও সৌভাগ্যের এই রাজ আশীর্বাদ নিয়েই এসেছে রমজান। আজ পঁচিশতম দিন। এই আশীর্বাদ কতটুকু অর্জন করতে পেরেছি আমি_ এটাই এখন বড় জিজ্ঞাসা! 

রোজার ত্রুটি-বিচ্যুতি লাঘবে ফিতরা

| comments

মাহে রমজানের পূর্ণাঙ্গ একটি মাস মুমিন মুসলমানরা সিয়াম সাধনা করে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর ইবাদত বন্দেগিতে মশগুল হন। রোজাদার ব্যক্তি ফরজ, সুন্নত ও নফল ইবাদতগুলো যথাসাধ্যভাবে আদায় করার আপ্রাণ চেষ্টা করেন। কিন্তু এসব দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে অজান্তে কোনো সময় ভুলভ্রান্তি হয়ে যায়, রমজান মাসে রোজা পালনে বা সিয়াম সাধনায় অত্যন্ত সতর্কতা সত্ত্বেও যেসব ত্রুটি-বিচ্যুতি হয় তার প্রতিকার ও প্রতিবিধান বা ক্ষতিপূরণের জন্য ইসলামি শরিয়তে মাহে রমজান শেষে ‘সাদাকাতুল ফিতর’ প্রদানকে ওয়াজিব করে দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় হিজরিতে উম্মতে মুহাম্মদীর ওপর মাহে রমজানের রোজা ফরজ করার সঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.) মুসলমানদের ‘সাদাকাতুল ফিতর’ আদায় করার নির্দেশ দেন। একে সাধারণত ‘ফিতরা’ বলা হয়। এটা মূলত মাহে রমজানেরই নির্ধারিত সাদকা বা দান। ইসলামের পরিভাষায় রমজান মাস শেষে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্যাপন উপলক্ষে মাথাপিছু যে নির্দিষ্ট পরিমাণ আর্থিক সাহায্য গরিব-মিসকিনদের সাদকা করা হয়, একে ‘সাদাকাতুল ফিতর’ বলে।
‘ফিতরা’র অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য হচ্ছে ঈদের খুশিতে গরিব শ্রেণীর লোককেও শামিল করে নেওয়া। কেননা, ঈদের নামাজের আগে যখন একজন অভাবী, অনাহারি লোক কিছু নগদ অর্থ পায়, তখন তা তার চরম আনন্দের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ‘ফিতরা’ দ্বারা রোজার ত্রুটি-বিচ্যুতির ক্ষতিপূরণও হবে এবং গরিব-দুঃখী মুসলমান নিশ্চিন্ত মনে খাওয়া-পরার জিনিসপত্র সংগ্রহ করে অন্যান্য মুসলমানের সঙ্গে ঈদের জামাতে শরিক হতে পারবে। ‘ফিতরা’র মাধ্যমে ধনী-গরিবের মধ্যে অর্থনৈতিক ব্যবধান কমে আসে এবং সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি গড়ে ওঠে।
রমজান মাসে দান-খয়রাত বা সাদকা করলেও অধিক সওয়াব বা পুণ্য লাভ করা যায়। যেমন, মাহে রমজানে সব ইবাদতের সওয়াব অনেক গুণ বৃদ্ধি পায়, নফল ইবাদত ফরজের সমান এবং একটা ফরজে ৭০টি ফরজের সমান সওয়াব পাওয়া যায়। একদা রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে সর্বোত্তম দান-সাদকা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ‘দাতার কাছে যা সর্বোৎকৃষ্ট এবং যার মূল্যমান বেশি।’ (বুখারি) রমজান মাসে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সাদকা করার ব্যাপারে উৎসাহ-উদ্দীপনা বেড়ে যেত। তিনি মাহে রমজানকে সহানুভূতির মাস বলে আখ্যায়িত করেছেন। যে ব্যক্তির কাছে ঈদের দিন সুবহে সাদিকের সময় জীবিকা নির্বাহের অত্যাবশ্যকীয় উপকরণ ব্যতীত সাড়ে সাত তোলা সোনা অথবা সাড়ে ৫২ তোলা রুপা অথবা সমমূল্যের অন্য কোনো সম্পদ থাকে, তার ওপর সাদাকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব। এ পরিমাণ সম্পদকে শরিয়তের পরিভাষায় নিসাব বলা হয়। প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমানের ওপর সাদাকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব। কেউ যদি নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক নাও হন, অথচ আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য সাদাকাতুল ফিতর আদায় করেন, তা হলে তিনি অশেষ সওয়াব পাবেন।
রমজান মাসের শেষ দশক আসার সঙ্গে সঙ্গে রোজাদারের অপরিহার্য কর্তব্য হলো নির্ধারিত পরিমাণে ‘সাদাকাতুল ফিতর’ বা ‘ফিতরা’ আদায় করা। খেজুর, কিশমিশ, মুনাক্কা এবং যব দ্বারা সাদাকাতুল ফিতর আদায় করা হলে ১ সা অর্থাৎ তিন কেজি ৩০০ গ্রাম অথবা এর মূল্য আদায় করতে হবে। আটা বা গম দ্বারা সাদাকাতুল ফিতর আদায় করা হলে অর্ধ সা অর্থাৎ এক কেজি ৬৫০ গ্রাম বা এর সমান মূল্য আদায় করতে হবে। মাথাপিছু এক কেজি ৬৫০ গ্রাম গম বা আটা অথবা এর স্থানীয় বাজারমূল্যের সমান ফিতরা দিতে হয়। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক এবারের ফিতরা জনপ্রতি সর্বনিম্ন ৫৫ ও সর্বোচ্চ এক হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সামর্থ্যবান বাবার ওপর তার নাবালক ছেলেমেয়েদের পক্ষ থেকেও সাদাকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব। সুতরাং নিজের ও নাবালেগ সন্তানদের পক্ষ থেকে সাদাকাতুল ফিতর আদায় করতে হবে। নারীদের কেবল নিজের পক্ষে ফিতরা দেওয়া ওয়াজিব। নাবালেগ সন্তানের নিজের সম্পদ থাকলে তা থেকেই ফিতরা দেওয়া হবে। আর বালেগ সন্তানের পক্ষ থেকে ফিতরা আদায় করা মুস্তাহাব। গৃহকর্তা এবং তার পোষ্যদের সংখ্যাকে হিসাব করে প্রতিজনের বিপরীতে নির্ধারিত অর্থমূল্যে সাদাকাতুল ফিতর আদায় করা বাঞ্ছনীয়। ফিতরা সেসব গরিব-মিসকিনই পাবে, যারা জাকাত পাওয়ার উপযুক্ত। ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই সাদকা বা জাকাত দরিদ্র, মিসকিন, জাকাত আদায়কারী কর্মচারী, ইসলামের প্রতি যাদের মন আকৃষ্ট করার প্রয়োজন, বন্দী, ঋণগ্রস্ত, আল্লাহর রাস্তায় নিয়োজিত বিপদগ্রস্ত পথিকের জন্য (ব্যয়িত হবে), এটি আল্লাহর নির্ধারিত বিধান, আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।’ (সূরা আত-তওবা, আয়াত: ৬০)
ফিতরা ঈদের দুই-তিন দিন আগে আদায় করলে অধিক সওয়াব পাওয়া যায়। সাদাকাতুল ফিতর ঈদের নামাজে যাওয়ার আগে আদায় করা সুন্নত। তবে ঈদের নামাজের আগে আদায় করতে না পারলে ঈদের নামাজের পর অবশ্যই আদায় করতে হবে। হজরত ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) সাদাকায়ে ফিতরের ব্যাপারে নির্দেশ দিয়েছেন, যেন তা লোকেরা সালাতের উদ্দেশে বের হওয়ার আগেই আদায় করে। নবী করিম (সা.) নিজেও ঈদের দু-এক দিন আগে ফিতরা আদায় করে দিতেন।’ (আবু দাউদ)
ফিতরা ঈদের নামাজের আগেই দিয়ে দেওয়া উত্তম, নতুবা পরে আদায় করতে হবে। নবী করিম (সা.) ঈদের দুই-তিন দিন আগেই লোকদের একত্র করে ফিতরা বের করার নির্দেশ দিতেন। এতে করে গরিব-মিসকিনরা নিজ নিজ প্রয়োজন পূরণে সক্ষম হবেন এবং ঈদের দিনে তাঁরাও পানাহারের ব্যবস্থা করতে সমর্থ হবেন। হাদিসে উল্লেখ আছে যে, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) রোজাদার ব্যক্তির অসৎ কাজকর্ম থেকে সিয়ামকে পবিত্র করার জন্য এবং অভাবীদের ঘরে খাদ্য পৌঁছে দেওয়ার জন্য সাদাকাতুল ফিতরের বিধান দিয়েছেন। যে ব্যক্তি ঈদের নামাজের আগে এ ফিতরা আদায় করে দেবে তা জাকাত হিসেবে কবুল হবে আর নামাজের শেষে আদায় করা হলে তখন তা সাদকা হিসেবে কবুল হবে।’ (আবু দাউদ, ইবনে মাজা)
সাদকা-ফিতরা যাদের দেওয়া হবে তাদের এ কথা জানানোর প্রয়োজন নেই যে তোমাকে ফিতরা দিচ্ছি অথবা এটা জাকাতের টাকা প্রভৃতি। বরং গরিব আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, পাড়া-প্রতিবেশীকে জাকাত-ফিতরা বা দান-সাদকা প্রদানের সময় তা কিসের বাবদ দেওয়া হচ্ছে তা না বলাই শ্রেয়। দাতার কথাবার্তা বা কার্যকলাপ দ্বারা যেন এ কথা প্রকাশ না পায় যে সে গ্রহীতাকে সাহায্য করছে। এ সাদকা তো দাতার দান নয়, বরং সাদকা দিয়ে সে ত্রুটিমুক্ত হলো মাত্র। গ্রহীতা তা গ্রহণের ফলেই দাতা দায়িত্বমুক্ত হতে পেরেছেন। এ অর্থে বরং গ্রহীতাই দাতার উপকার করেছেন। এ জন্য মাহে রমজানে সাদাকাতুল ফিতর বা ফিতরা যথাসম্ভব রোজা শেষ হওয়ার আগেই দিয়ে দেওয়া উচিত।

ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও কলাম লেখক।

রোজার প্রধান শিক্ষা 'তাকওয়া'

| comments

মানুষ পৃথিবীতে মহান আল্লাহর খলিফা। জীবন ও জগতের যাবতীয় কাজ আল্লাহর বিধান অনুযায়ী পরিচালনা করবে- এটাই মানবজীবনের মূল লক্ষ্য। কিন্তু এ লক্ষ্যে পৌঁছাতে শয়তান, তার নিজের প্রবৃত্তি ও পার্থিব মোহ বাধা হয়ে দাঁড়ায়। সব বাধার প্রাচীর ডিঙিয়ে, সব প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে আত্মার যে গুণটি তাকে দুর্বার গতি ও অক্ষত শক্তি জোগায় এর নাম হলো তাকওয়া। আর এই তাকওয়া হলো রোজার প্রধান শিক্ষা। আল্লাহ এ মর্মে ইরশাদ করেছেন, 'হে ইমানদাররা তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন তা ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যেন তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।' (সুরা বাকারা : ১৮৩ আয়াত)
তাকওয়া আরবি শব্দটির আভিধানিক অর্থ হলো ভয় করা, আত্মরক্ষা করা, বিরত থাকা ইত্যাদি। তাকওয়া শব্দটির বাংলা অনুবাদের ক্ষেত্রে বেশির ভাগ উলামা খোদাভীতি শব্দটি ব্যবহার করে থাকেন। ইসলামী শরিয়তের পরিভাষায় তাকওয়া বলতে মুমিন ব্যক্তির হৃদয়ের এমন অবস্থাকে বোঝায়, যা তাঁকে সর্বদা আল্লাহর ভয়ে ভীত রাখে। অর্থাৎ তাকওয়া মুমিন ব্যক্তিকে তাঁর জীবনের প্রতিটি কাজে এ কথা ভাবতে বাধ্য করে, জীবনের ছোট-বড় সব কাজের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে হিসাব দিতে হবে। জীবনের কোনো ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর বিধান লঙ্ঘিত হলে, এর জন্য মৃত্যুর পরে ভীষণ শাস্তি ভোগ করতে হবে। অর্থাৎ তাকওয়া সব সময় মুমিন ব্যক্তিকে আল্লাহর নির্দেশ পালনে ও নিষেধাজ্ঞা থেকে বিরত থাকতে বাধ্য করে। অন্যভাবে বললে, তাকওয়া হলো আত্মার এমন এক শক্তি, যা ব্যক্তির আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে। মুত্তাকি ব্যক্তি হয় আত্মনিয়ন্ত্রিত। সে সব সময় প্রতিটি পদক্ষেপে নিজের আত্মার শাসনাধীন থাকে। যে কাজটি মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি বিধানে সহায়ক হবে বলে তার আত্মা অনুমোদন দেয়, কেবল সে কাজটিই সে করতে পারে। আর যে কাজ দ্বারা মহান মাওলার অসন্তোষ নেমে আসবে, জাহান্নামের শাস্তির কারণ হবে, সে কাজ সে কিছুতেই করতে পারে না। তাই মুত্তাকি ব্যক্তির জন্য জাগতিক অনুশাসন আর বিধিবিধানের কোনো প্রয়োজন পড়ে না। অতএব বলা যায়, জীবনের পবিত্রতা ও মুক্তি আর সামাজিক শৃঙ্খলা ও শান্তির মূল চাবিকাঠি হলো তাকওয়া। কারণ ব্যক্তির আত্মা যদি কলুষিত হয়, তার অভ্যন্তরীণ শক্তি যদি তাকে কুপথে পরিচালিত করে, তাহলে কোনো অনুশাসনই তার আচরণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। ফলে সামাজিক বিশৃঙ্খলা ও অশান্তিও কোনো উপায়েই বন্ধ করা যায় না।
মহান আল্লাহ মানুষের জীবন ও সমাজকে শান্তিপূর্ণ করতে, সাফল্য ও পূর্ণতার সর্বোচ্চ শিখরে উন্নীত করতে, মহামূল্যবান গুণ তাকওয়ার শক্তি অর্জন করতে রমজানের মাসব্যাপী রোজা পালন ফরজ করে দিয়েছেন। একজন রোজাদারের জন্য সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত খাদ্য-পানীয় ও যৌনতা হারাম। তাই সে রমজান মাসের দিনের বেলায় জীবনের সব থেকে হালাল খাদ্য ও পানীয় যদিও তা মদিনার সর্বোৎকৃষ্ট আজওয়া খেজুর বা জমজমের পানিই হোক না কেন এবং বিবাহিত স্ত্রীকেও বর্জন করে। কারণ মহান আল্লাহ তাঁর ফরমান দ্বারা এসব হালাল বিষয়কে সাময়িকভাবে হারাম করে দিয়েছেন। আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করলে জাহান্নামে কঠিন শাস্তি ভোগ করতে হবে। এভাবে ৩০ দিন রোজার অনুশীলনের মাধ্যমে রোজাদার সত্যিকার মুমিন ভাবতে বাধ্য হয়, যে বিষয়গুলোকে মহান আল্লাহ সারাটি জীবনের জন্য হালাল করেছেন, যে বিষয়গুলোকে আল্লাহর রাসুল সাওয়াবের কারণ বলেছেন, সাময়িক নিষেধাজ্ঞার কারণে ওই বিষয়ে আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করলে যদি জাহান্নামের এত কঠিন শাস্তি অবধারিত হতে পারে, তাহলে যে বিষয়গুলো গোটা জীবনের জন্য হারাম, জীবনের কোনো ক্ষেত্রে কোনো সময়ে যা হালাল হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই, সে বিষয়ে যদি আল্লাহর বিধান লঙ্ঘন করা হয়, তা হলে তার শাস্তিটা কত ভয়াবহ হতে পারে! অর্থাৎ এক মাস রোজা পালনের মাধ্যমে প্রত্যেক রোজাদার তাঁর গোটা জীবনে হালাল অর্জন ও হারাম বর্জনের নৈতিক শিক্ষা অর্জন করবে তথা তাকওয়া অর্জন করবে- এটাই রোজার আসল শিক্ষা।
তাকওয়া চারটি বর্ণের সমষ্টি ছোট্ট একটি শব্দ হলেও জড়বাদী, দুনিয়া পূজারির কাছে তা অত্যন্ত কঠিন একটি বিষয়। যখন মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে রঙিন জীবনের হাতছানি দেখা যায়, যখন চরম দারিদ্র্য, জঠরজ্বালা আর চরম উপেক্ষার মধ্যে বিপুল বিত্ত-বৈভব আর নেতৃত্বের আহ্বান শোনা যায়, যখন প্রচণ্ড যৌন উত্তেজনার মধ্যে সুন্দরী ষোড়শীর যৌনাবেগ দুর্বার আকর্ষণ করে, তখন নীতির বিষয়টি ভাববার সাধ্য আছে কার? হ্যাঁ, একজন জড়বাদীর কাছে যে বিষয়টি সব থেকে কঠিন অসম্ভব, একজন খাঁটি ইমানদারের কাছে সেটাই সব থেকে সহজ এবং তাতেই তার তৃপ্তি। কারণ তাকওয়া তাকে শক্তি জোগায় অন্যায়কে এড়িয়ে চলার ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকার। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন, 'যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তাকে সব সংকট উত্তরণের পথ বের করে দেন। আর তাকে এমনভাবে রিজিকের ব্যবস্থা করেন, যা সে ভাবতেও পারে না। আর যে আল্লাহর ওপর ভরসা করে আল্লাহই তার জন্য যথেষ্ট।' (সুরা আত্-ত্বালাক : ২ ও ৩ আয়াত)। একজন মহিলা সাহাবি ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার পর নিজেকে ইসলামী দণ্ড- প্রস্তরাঘাতে মৃত্যুর জন্য এগিয়ে দিয়েছিলেন তাকওয়ার কারণেই। কারণ পৃথিবীর মৃত্যু যন্ত্রণার চেয়ে জাহান্নামের শাস্তি অনেক বেশি যন্ত্রণাদায়ক, ভয়াবহ ও চিরস্থায়ী। তবুক অভিযানে অংশগ্রহণ না করার কারণে রাসুল (সা.) প্রদত্ত শাস্তি সামাজিক বয়কট চলাকালে হজরত কাব ইবনে সালেকের পক্ষে গায়সান গোত্রের নেতৃত্বের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা সম্ভব হয়েছিল তাকওয়ার কারণে। পূর্ণ যৌবনে হজরত ইউসুফ (আ.)-এর পক্ষে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সুন্দরী-যুবতী জুলেখার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে কারাবরণ করা সম্ভব হয়েছিল তাকওয়ার কারণে।
রোজার আসল শিক্ষা হলো তাকওয়া। আর তাকওয়ার সার কথা হলো ব্যক্তির ওপর তার আত্মার নিয়ন্ত্রণ। রমজানের একটি মাস সিয়াম সাধনার মাধ্যমে প্রতিটি রোজাদারের অন্তর ভরে উঠুক তাকওয়ার গুণে, দেশে-দেশে গড়ে উঠুক পাপাচারমুক্ত সুশৃঙ্খল-শান্তিপূর্ণ সমাজব্যবস্থা।

লেখক :মোহাম্মদ মাকছুদ উল্লাহ, পেশ ইমাম ও খতিব, রাজশাহী কলেজ কেন্দ্রীয় মসজিদ

পবিত্র রমজানের ফজিলত ও মাহাত্ম্য

| comments

পবিত্র রমজানুল মুবারক আমাদের মাঝে সমাগত। রসূল (স.) রোজা শুরু হওয়ার আগে তার সাহাবীদেরকে কিভাবে সচেতন করতেন নিম্নের হাদীস হতে আমরা তা উপলব্ধি করতে পারি। হযরত সালমান ফারসী (রা.) প্রমুখ হতে বর্ণিত হয়েছে যে, শা’বান মাসের শেষ দিন রসূলুল্লাহ (স.) আমাদিগকে খুত্বা শুনালেন, যাতে তিনি বললেন—‘হে জনগণ! তোমাদের ওপর একটি মহান ও পবিত্র মাস আসছে, যার মধ্যে এমন একটি রাত্র রয়েছে যা হাজার রাত্র হতেও উত্তম।’ ‘যে মাসের দিনগুলোতে আল্লাহ রোযাকে ফরয করেছেন এবং রাত্রিতে নামাযকে (তারাবীহকে) নফল করেছেন (উম্মতের জন্য সুন্নত)।’ ‘যে ব্যক্তি ঐ মাসে কোন একটি সদভ্যাস (বা সত্কাজ) করে তা ছওয়াবের দিক দিয়ে অন্য মাসের একটি ফরয কার্যের সমতুল্য হয়ে থাকে।’ আর একটি ফরয আদায় করলে, তা অন্য মাসের ৭০টি ফরয আদায়ের সমতুল্য ছওয়াবের হয়ে থাকে। ‘এটা হল ধৈর্যের মাস। আর ধৈর্য অবলম্বনের প্রতিদান হচ্ছে বেহেশতে। এটা পরোপকার ও সহানুভূতির মাস এবং এটা এমন একটি মাস যাতে ঈমানদারগণের রুযী বৃদ্ধি করা হয়ে থাকে।’ ‘এ মাসে যে ব্যক্তি কোন রোযাদারকে ইফতার করায়, ইহার বিনিময়ে তার সমস্ত গুণাহ মাফ হয়ে যায় এবং সে জাহান্নাম হতে মুক্ত হয়।’ ‘তাছাড়া সে উক্ত রোযাদার ব্যক্তির তুল্য ছওয়ারও পাবে। এতে অবশ্য উক্ত রোযাদারের ছওয়াবে একটুও কমতি করা হবে না।’ আমরা বললাম ইয়া রসূলুল্লাহ (স.)! আমাদের এমন কিছু সংস্থান নাই যা দ্বারা আমরা রোযাদারকে ইফতার করাতে পারি। তদুত্তরে হুযুর (স.) বললেন, ‘এই ছওয়াব আল্লাহতায়ালা ঐ ব্যক্তিকেও প্রদান করবেন, যে ব্যক্তি কোন রোযাদারকে এক ঢোক দুধ বা একটি খোরমা কিংবা সুমিষ্ট পানি দ্বারা ইফতার করাবে।’ ‘আর যে ব্যক্তি কোন রোযাদারকে পরিতৃপ্ত করে খাওয়াবে, আল্লাহ তাকে আমার ‘হাউজ কাওছার’ হতে এমনভাবে পর্যাপ্ত করে পান করাবেন যে, বেহেশতে না যাওয়া অবধি তার আর পিপাসা লাগবে না। আর ঐ মাসের প্রথম দশক রহমতের, দ্বিতীয় দশক ক্ষমার ও তৃতীয় দশক জাহান্নাম হতে মুক্তির জন্য নির্ধারিত।’ ‘যে ব্যক্তি ঐ মাসে স্বীয় চাকরের ওপর কার্যভার লাঘব করে, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন এবং জাহান্নাম হতে আযাদ করে দেন।’ প্রিয় রসূলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘রামাজান মাসের প্রথম রাত্রি সমাগত হতেই শয়তান ও দুষ্টমতি জ্বিনগুলো শৃঙ্খলিত হয় এবং জাহান্নামের দ্বারগুলো রুদ্ধ করে দেয়া হয়, একটি দরোজাও মুক্ত থাকে না। আর বেহেশতের দ্বারগুলো খুলে দেয়া হয়, ইহার একটাও বন্ধ থাকে না।’ আর কোন একজন গায়েবী আহ্বানকারী উচ্চৈঃস্বরে বলতে থাকেন যে, ‘হে পুণ্যার্থীগণ—অগ্রসর হও! হে পাপাত্মার দল—পিছিয়ে যাও! এইসময় আল্লাহর পক্ষ হতে বহু দোযখী মুক্তিপ্রাপ্ত হয়। এমনি করে প্রত্যেক রাত্রিতেই আহ্বান করা হয়।’ রসূলুল্লাহ (স.) আরো বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রামাজান মাসে ঈমানের সাথে ও ছওয়াবের আশায় রোযা রাখে, তার অতীত গোণাহ মাফ হয়ে যায়।’ ‘আর যে ব্যক্তি এই মাসে ঈমানসহ ছওয়াবের আশায় রাত জেগে (তারাবীহ) নামায পড়ে, তার অতীত সকল গোনাহ মাফ করে দেয়া হয়।’ ‘যে ব্যক্তি শবে ক্বদর রাতে ঈমানের সাথে ছওয়াবের আশায় রাত জাগরণ করে নামায পড়ে, তারও অতীত সকল গোনাহ মাফ করে দেয়া হয়।’ হযরত নবীয়ে করীম (স.) বলেছেন, ‘মানুষের প্রত্যেক সত্কর্মের ছওয়াব দশ হতে সাতশত গুণ বৃদ্ধি হয়ে থাকে।’ তবে আল্লাহ বলেন, ‘কেবল রোযা ব্যতীত। কেননা ইহা একমাত্র আমার জন্য সুতরাং ইহার পুরস্কার আমিই স্বহস্তে প্রদান করব। যেহেতু রোযাদার স্বীয় কামপ্রবৃত্তিকে দমন ও আহারাদি পরিহার করে থাকে কেবলমাত্র আমারই জন্য।’ হুযুর (স.) বলেছেন, ‘রোযাদারের জন্য দুইটি আনন্দ। একটি ইফ্তার কালে এবং অপরটি আল্লাহর সাথে দীদারকালে।’ তিনি আরো বলেন, ‘রোযাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর নিকট মেশ্ক হতেও অধিক সুগন্ধময়। তিনি বলেন, (রোযাদারগণের পক্ষে) রোযা হচ্ছে ঢালস্বরূপ।’ ‘সুতরাং তোমাদের মধ্যে কেউই রোযা অবস্থায় নির্লজ্জ কথা বলবে না এবং বাজে বকবে না। যদি কেউ রোযাদারকে গালি দেয় অথবা তার সাথে লড়াই করতে আসে, তবে সে যেন বলে দেয় যে, আমি রোযাদার।’ হযরত নবীয়ে করীম (স.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রোযা অবস্থায় মিথ্যা কথা ও মিথ্যা কাজ হতে বিরত রইল না, তার উপবাসে আল্লাহর কিছুই যায় আসে না।’ তিনি সাবধান করে বলেন যে, ‘বহু রোযাদার এমনও রয়েছে যে, ক্ষুধায়-পিপাসায় কষ্ট পাওয়া ব্যতীত তাদের রোযা রাখায় আর কোন ফল নেই। এমনিভাবে বহু রাতজাগা নামাযী রয়েছে, যাদের রাত জাগরণ ব্যতীত অন্য কোন লাভ হয় না।’ হযরত নবীয়ে করীম (স.) বলেছেন যে, ‘আল্লাহ রব্বুল আ’লামীন বলেন, যে রোযাদারের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ আমার নিষিদ্ধ বস্তুসমূহ হতে বিরত থাকল না, তার শুধু পানাহার হতে বিরত থাকায় কোন লাভ নেই।’ আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা তোমাদের রবের দেয়া ক্ষমার দিকে দ্রুত অগ্রসর হও। আর ঐ বেহেশতের দিকে যার প্রশস্ততা আসমান ও জমীনব্যাপী! যা তিনি কেবল মুত্তাকীন বা পরহেজগারদের জন্যই প্রস্তুত করে রেখেছেন।

লেখক: প্রফেসর ড. মুমতাজুল বুখারী
 
Support : Creating Website | Johny Template | Mas Template
Copyright © 2011. ইসলামী কথা - All Rights Reserved
Template Created by Creating Website Published by Mas Template
Proudly powered by Premium Blogger Template