السلام عليكم

যে ব্যক্তি নিয়মিত ইস্তেগফার (তওবা) করবে আল্লাহ তাকে সব বিপদ থেকে উত্তরণের পথ বের করে দেবেন, সব দুশ্চিন্তা মিটিয়ে দেবেন এবং অকল্পনীয় উৎস থেকে তার রিজিকের ব্যবস্থা করে দেবেন। [আবূ দাঊদ: ১৫২০; ইবন মাজা: ৩৮১৯]
Showing posts with label মসজিদ. Show all posts
Showing posts with label মসজিদ. Show all posts

ভাসমান মসজিদ, মরক্কো

| comments

প্রাচীন পৃথিবীর সপ্তাশ্চর্যের একটি ব্যাবিলনের ঝুলন্ত উদ্যানের কথা শুনলে মনে হয় বিশাল এক বাগান যেন শূন্যে ঝুলে আছে আর বাতাসে দোল খাচ্ছে। আসলে ব্যাপারটা কিন্তু তা নয়। তেমনি দূর থেকে দেখলে মনে হবে ভেসে আছে কিন্তু আসলে ভেসে নেই, এমন একটি মসজিদ আছে মরক্কোয়। বাদশাহ দ্বিতীয় হাসান এ মসজিদটি তৈরি করেছেন কাসাব্লাঙ্কা শহরে। মসজিদটির নির্মাণ কাজ করেছেন ফরাসি কোম্পানি বয়গিসের প্রকৌশলীরা। আর এর নকশা তৈরি করেছিলেন বাদশা হাসানের ফরাসি স্থপতি মিশেল পিনচিউ। মসজিদটিকে যে কারণে ভাসমান মসজিদ বলা হয় সেটি হলো মসজিদটির তিনভাগের একভাগ আটলান্টিক মহাসাগরের ওপর অবস্থিত। দূরের কোনো জাহাজ থেকে দেখলে মনে হয়, ঢেউয়ের বুকে যেন মসজিদটি দুলছে আর মুসল্লিরা যেন নামাজ পড়ছেন পানির ওপর। মসজিদটি কিন্তু ছোটখাটো নয়। এখানে প্রায় ১ লাখ মানুষ একসঙ্গে নামাজ পড়তে পারেন। এর মিনারের উচ্চতা ২০০ মিটার! আর মেঝে থেকে ছাদের উচ্চতা ৬৫ মিটার। মসজিদের ছাদটি প্রতি ৩ মিনিট পরপর যান্ত্রিকভাবে খুলে যায়। ফলে মসজিদের ভেতরে প্রাকৃতিক আলো ও মুক্ত বাতাস প্রবেশ করতে পারে। তবে বৃষ্টির সময় ছাদটি খোলা হয় না।
মসজিদটি এতই বড় যে, এর মূল কাঠামোর ভেতরে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় গির্জা সেন্ট পিটার্সকেও অনায়াসে বসিয়ে দেওয়া যাবে। ২২.২৪ একর জায়গার ওপর অবস্থিত এ মসজিদের মূল ভবনের সঙ্গেই আছে লাইব্রেরি, কোরআন শিক্ষালয়, ওজুখানা এবং কনফারেন্স রুম। ২৫০০ পিলারের ওপর স্থাপিত এ মসজিদের ভেতরের পুরোটাই টাইলস বসানো। শুধু তাই নয়, কোথাও কোথাও আবার সোনার পাত দিয়ে মোড়া। মসজিদ এলাকার আশপাশে সাজানো আছে ১২৪টি ঝরনা এবং ৫০টি ক্রিস্টালের ঝাড়বাতি। এর নির্মাণকাজ শুরু হয় ১৯৮৭ সালের আগস্টে। প্রায় ২৫ হাজার শ্রমিক ও কারুশিল্পীর দিনে দুই শিফট শ্রমের ফলে প্রায় সাত বছরে নির্মিত হয় এ মসজিদ। মসজিদটির উদ্বোধন করা হয় ১৯৯৩ সালের ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)-এর দিনে। বিলাসবহুল এ মসজিদটি নির্মাণ করতে ব্যয় হয়েছে তত্কালীন ৮০ কোটি ডলার। বর্তমানে বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা!

খেরুয়া মসজিদ, শেরপুর, বগুড়া

| comments

অনেক ঝড়-বৃষ্টি, রৌদ্র-দহন সয়ে টিকে আছে ৪৩০ বছর ধরে। মহাকাল তার গতিপ্রবাহের চিহ্ন রেখে গেছে দেয়ালে-খিলানে-গম্বুজে। ক্ষয়ে গেছে ইটে খোদাই করা নকশা, ঝরে গেছে চুন-সুরকির প্রলেপ। হয়তো হুমড়ি খেয়ে পড়েই যেত এত দিনে। কিন্তু তা হয়নি সম্ভবত চার কোণের প্রকাণ্ড আকারের মিনার আর চওড়া দেয়ালের শক্তির জন্যই। চুন-সুরকি দিয়ে গাঁথা পাতলা লাল ইটের দেয়ালগুলো ১.৮১ মিটার চওড়া। তার ওপর ভর করেই ছাদের ওপর টিকে আছে খেরুয়া মসজিদের তিনটি গম্বুজ। দেশের পুরাকীর্তিগুলোর যে গড়পড়তা বিধ্বস্ত চেহারা, সে তুলনায় খেরুয়া মসজিদের অবস্থা যথেষ্ট ভালো বলেই মনে হলো। সামনে সবুজ ঘাসে ঢাকা আয়তাকার মাঠ। কিনার দিয়ে তাল, নারকেল, আম, কদমগাছের সারি। মৌসুমি ফুলের গাছও আছে এক পাশে। ইটের প্রাচীরের ওপর লোহার রেলিং দিয়ে পুরো চত্বর ঘেরা। মোট ৫৯ শতাংশ জায়গা। নামাজের সময় মুসল্লিরা ছাড়া সাধারণত কেউ ভেতরে প্রবেশ করে না। ফলে প্রাঙ্গণটি নিরিবিলি এবং খুবই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। গাছগাছালিঘেরা সবুজ পরিবেশে তিন গম্বুজওয়ালা প্রাচীন স্থাপত্যটিকে মনোরম দেখায়। চার শতাধিক বছরের পুরানো বগুড়া শেরপুরের খেরুয়া মসজিদ খেরুয়া মসজিদ প্রত্ননিদর্শন হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মোগল-পূর্ব সুলতানি আমলের স্থাপত্যশৈলীর সঙ্গে মোগল স্থাপত্যশৈলীর সমন্বয়ে এই মসজিদটি নির্মিত। বগুড়া শহর থেকে ২০ কিলোমিটার দক্ষিণে শেরপুর উপজেলা সদরের খোন্দকার টোলা মহল্লায় এর অবস্থান। মসজিদের সামনের দেয়ালে উৎকীর্ণ শিলালিপি থেকে জানা যায়, ১৫৮২ সালে জওহর আলী কাকশালের পুত্র মির্জা মুরাদ খান কাকশাল এটি নির্মাণ করেছিলেন। ‘কাকশাল’ উপাধি ছিল তুর্কিদের। ঘোড়াঘাট অঞ্চল ছিল তুর্কি জায়গিরদারদের অধীন। মির্জা মুরাদ খান কাকশালের বিশদ পরিচয় পাওয়া যায় না। সে সময় শেরপুর ঘোড়াঘাটের অধীনে একটি প্রশাসনিক কেন্দ্র ছিল। মির্জা মুরাদ খান কাকশাল শেরপুরের জায়গিরদার বা ফৌজদার ছিলেন বলে ঐতিহাসিকদের অনুমান। খেরুয়া মসজিদের নামকরণও স্পষ্ট নয়। আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়া তাঁর বাংলাদেশের প্রত্নসম্পদ বইতে উল্লেখ করেছেন ‘এ মসজিদের “খেরুয়া” নামের কোনো ইতিবৃত্ত পাওয়া যায়নি। আরবি বা ফার্সি ভাষায় খেরুয়া বলে কোনো শব্দ পাওয়া যায় না।’ তবে ফার্সিতে ‘খায়ের গাহ্’ বলে একটি শব্দ আছে। এর অর্থ ‘কোনো স্থানের ভেতরে’। রাজা মানসিংহ যখন বাংলার সুবাদার, তখন তিনি শেরপুরে একটি দুর্গ নির্মাণ করেছিলেন। এই দুর্গের কোনো অস্তিত্ব এখন নেই। তবে মসজিদটি যদি শেরপুর দুর্গের ভেতরে নির্মিত হয়ে থাকে, তবে ‘খায়ের গাহ্’ থেকে খেরুয়া নাম হতে পারে বলে যাকারিয়া অনুমান করেছেন। খেরুয়া মসজিদ বাইরের দিক থেকে উত্তর-দক্ষিণে লম্বা ১৭.২৭ মিটার, প্রস্থ ৭.৪২ মিটার। পূর্ব দেয়ালে তিনটি খিলান দরজা। মাঝেরটি আকারে বড়। উত্তর-দক্ষিণে একটি করে খিলান দরজা। কোনোটিতেই চৌকাঠ নেই। ফলে দরজার পাল্লা ছিল না। পূর্বের বড় দরজাটির নিচে কালো পাথরের পাটাতন। পূর্বের দরজা বরাবর পশ্চিমের দেয়ালের ভেতরের অংশে তিনটি মেহরাব। মেহরাবগুলোর ওপরের অংশ চমৎকার কারুকাজখচিত। মসজিদটির নিচের অংশে ভূমি পরিকল্পনা মোগল স্থাপত্যরীতির। ওপরের অংশ মোগল-পূর্ব সুলতানিরীতিতে। চার কোণে দেয়াল থেকে খানিকটা সামনে চারটি বিশাল মিনার। ছাদের ওপর তিনটি ৩.৭১ মিটার ব্যাসের অর্ধ গোলাকৃতির গম্বুজ। কার্নিশ ধনুকের মতো বাঁকা। তার তলায় সারিবদ্ধ খিলান আকৃতির প্যানেলের অলংকরণ। অত্যন্ত সুন্দর এর দেয়ালের গাঁথুনি। নান্দনিক বৈচিত্র্য আনা হয়েছে ইটের বিন্যাস ও খাড়া প্যানেল তৈরি করে। সামনের অংশের ইটে আছে ফুল-লতা-পাতা খোদাই করা নকশা। মিনার, গম্বুজ, নকশা ও ইটের বৈচিত্র্যময় গাঁথুনিতে পুরো স্থাপত্যটি অত্যন্ত নান্দনিক হয়ে উঠেছে।
এবার ঈদুল আজহার ছুটিতে বাড়ি গিয়ে এক ফাঁকে খেরুয়া মসজিদে ঘুরে আসা গেল। স্থানীয় বাসিন্দারা জানালেন, গত বছর প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর মসজিদটির সীমানাপ্রাচীর তৈরি করে দেওয়ায় পরিবেশটি ভালো আছে। এখনো নিয়মিত নামাজ আদায় হয়। তা ছাড়া দেশের প্রাচীন ঐতিহ্য, ইতিহাস বিষয়ে আগ্রহী অনেকেই আসেন মসজিদটি দেখতে। ছবি তোলার চেষ্টা করা গেল। তবে প্রাচীন এই স্থাপত্যের অনন্য সৌন্দর্য তুলে ধরার মতো দক্ষতা তো নেই, উপরন্তু তেমন ক্যামেরাও ছিল না সঙ্গে। অগত্যা দায় ঠেকানোর যন্ত্রটিতে যে ছবি উঠল, তাতে খেরুয়া মসজিদের কাঠামোরই একাংশ ধরা পড়ল শুধু, স্বরূপে পাওয়া গেল না তাকে। (সৌজন্যে- প্রথম আলো)

খাজা শাহবাজ মসজিদ

| comments

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে তিন নেতার মাজারের পেছনে খয়েরি রঙের বেশ পুরনো একটি মসজিদ ও সমাধিসৌধ রয়েছে। মোগল স্থাপত্যরীতি অনুসরণ করে হাজি খাজা শাহবাজ (র.)-এর নামে এক ব্যবসায়ী ৩০০ বছর আগে এ মসজিদটি নির্মাণ করেন। সুবেদার শাহ আজমের সময় (১৬৭৭-৭৮) খাজা শাহবাজ কাশ্মীর থেকে ঢাকায় এসে ব্যবসা শুরু করেন। অচিরেই তিনি বিপুল ধনসম্পত্তির মালিক হন। মিতব্যয়ী এ ব্যক্তি থাকতেন টঙ্গী। প্রতিদিন হেঁটে যাওয়া-আসা করতেন। তিনি রমনা এলাকায় একটি চিত্তাকর্ষক মসজিদ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন। ১৬৭৯ সালে তিনি রমনায় তিন গম্বুজবিশিষ্ট এ মসজিদটি নির্মাণ করেন। রমনার পূর্ব দিকে ছিল খাজা শরফুদ্দিন চিশতি (র.)-এর মাজার এবং মাঠের মাঝখানে ছিল ৫০০ বছরের পুরনো কালীমন্দির। এমন স্থানে মসজিদটি নির্মিত হওয়ার পরে এ এলাকার সৌন্দর্য আরো বেড়ে যায়। প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে লোকজন আসত নামাজ পড়তে। খাজা শাহবাজও টঙ্গী যাওয়া-আসার পথে নামাজ পড়তেন এ মসজিদে। ভূমি থেকে তিন ফুট উঁচুতে নির্মিত এ মসজিদটি প্রায় এক বিঘা জমির ওপর অবস্থিত। এর দক্ষিণ ও পূর্ব দিক নিচু প্রাচীর দিয়ে ঘেরা এবং পশ্চিম ও উত্তর প্রান্তটি লোহার রেলিং দিয়ে ঘেরা। মসজিদে প্রবেশের জন্য পাঁচটি আকর্ষণীয় দরজা রয়েছে। এর প্রতি কোণে একটি বড় মিনার ও দুটি ছোট মিনার রয়েছে। মসজিদের ২০ গজ দূরে এক গম্বুজবিশিষ্ট সমাধিসৌধে শায়িত আছেন খাজা শাহবাজ (র.)। মৃত্যুর আগেই তিনি এটি নির্মাণ করেন।

গ্রন্থনা : মাহমুদুল হাসান

বিনত বিবির মসজিদ

| comments

ঢাকা শহর বিশ্বের দরবারে 'মসজিদের শহর' হিসেবে পরিচিত; কিন্তু এ ঐতিহ্য একদিনে গড়ে ওঠেনি। আমরা যদি একটু পেছনে ফিরে তাকাই তাহলেই দেখা যাবে ১৮৩২ সালে ঢাকার তৎকালীন ম্যাজিস্ট্রেট জর্জ হেনরী ওয়াল্টার এক রিপোর্টে উল্লেখ করেন যে, তৎকালীন ঢাকায় মসজিদের সংখ্যা ছিল ১৫৩টি। যার সংখ্যা ধীরে ধীরে আরো বাড়তে থাকে এবং ক্রমেই ঢাকা পরিণত হতে থাকে অসংখ্য মসজিদের শহররূপে। বর্তমানে যার সংখ্যা আনুমানিক প্রায় ১০,০০০ ছাড়িয়ে গেছে বলে ধারণা করা হয়। আর ঢাকার এসব মসজিদের বেশিরভাগই পুরান ঢাকায় অবস্থিত। ঢাকার সবচেয়ে পুরনো মসজিদ যা পুরান ঢাকার ৬নং নারিন্দা রোডে অবস্থিত। এটি পুরান ঢাকা তথা ঢাকার সবচেয়ে পুরনো স্থাপত্য নিদর্শনগুলোর মধ্যে একটি; যা আজ থেকে প্রায় ৬০০ বছর আগের। ১৪৫৬ খ্রিস্টাব্দে অর্থাৎ ইসলাম খাঁর আগমনের প্রায় দেড়শ বছর আগে বাংলার সুলতান নাসির উদ্দিন মাহমুদের আমলে এ মসজিদটি নির্মিত হয়। তখন পারস্য উপসাগরের আশপাশের অধিবাসীরা প্রায়ই জলপথে এখানে বাণিজ্য করতে আসতেন। তখন পুরান ঢাকার এ অঞ্চলটির (নারিন্দা-ধোলাই খাল) ওপর দিয়ে বয়ে যেতো বুড়িগঙ্গার একটি শাখা যা বুড়িগঙ্গা হয়ে শীতলক্ষ্যায় গিয়ে মিশত। আরাকান আলী নামক এক সওদাগর তৎকালীন বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে এ এলাকায় আসেন এবং বসবাস শুরু করেন। সওদাগরদের এ সময় নামাজ পড়তে অসুবিধা হতো বিধায় আরাকান আলী এখানে একটি মসজিদ নির্মাণ করেন।

এখানে বসবাসকালীন আরাকান আলীর মেয়ে বিনত বিবির আকস্মিক মৃত্যু ঘটে। তাকে মসজিদের পাশেই সমাধিস্থ করা হয়। এর ঠিক ছয় মাস পরই আরাকান আলী মৃত্যুবরণ করেন এবং তার শেষ ইচ্ছা অনুসারে তাকে বিনত বিবির কবরের পাশে সমাধিস্থ করা হয়। পরবর্তীতে বিনত বিবির নামে এ মসজিদটির নামকরণ করা হয়। মসজিদটির দেয়ালে একটি কালো পাথরে এখনো ফার্সি ভাষায় পুরো ইতিহাসটির বর্ণনা করা আছে। হিজরি ৮৬১-তে নারিন্দা রোডস্থ এ মসজিদটির প্রথম সংস্করণ করা হয়। পরবর্তীতে ৮৬৬ হিজরিতে বিনত বিবি ও আরাকান আলীর সমাধিস্থলে বিনত বিবির মাজারটি স্থাপন করা হয়। বাংলা ১৩৩৭ সালে মসজিদটির দ্বিতীয় সংস্করণ করা হয় এবং দ্বিতীয় গুম্বুজটি স্থাপন করা হয়। প্রায় ২০০ বছর ধরে এলাকাবাসী একটি কমিটি গঠন করে এ মসজিদটির দেখাশোনা করে আসছেন। এছাড়াও এলাকাবাসী মসজিদটি বড় করে নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন যার জন্য এক/দেড় বছর আগে মিউনিসিপ্যালিটি প্রায় আড়াই কাঠা জায়গা প্রদান করে। বর্তমানে মসজিদটির মোট জায়গার পরিমাণ ৬-৭ কাঠা প্রায়। এছাড়াও এলাকাবাসীর উদ্যোগে এখানে একটি মেসও পরিচালিত হচ্ছে যার উপার্জিত অর্থ মসজিদ তহবিলে জমা করা হয়। বিনত বিবির মসজিদ এরকম একটি ঐতিহাসিক স্থাপত্য নিদর্শন যেখানে ইউরোপ, আমেরিকা থেকে বিভিন্ন পর্যটক এসে ভিড় জমায়; কিন্তু সেখানে আমরা ক'জনই বা জানি এর কথা।

মসজিদে নববী, মদিনা

| comments

পৃথিবীর অন্যতম সুন্দর এবং শান্তিময় শহর মদিনা যা 'মদিনা আল মনোয়ারা' নামে সুপরিচিত। মনোয়ারা শব্দটির শাব্দিক অর্থ সুখী, সমৃদ্ধ, উজ্জ্বল, জ্যোর্তিময়, রৌদ্রোজ্জ্বল ইত্যাদি। বাস্তাবিক অর্থে মদিনা এক সমৃদ্ধনগরী, যা ধারণ করে আছে ইসলাম ধর্মের প্রাচীনতম তিনটি মসজিদ। মসজিদ আল নববী, কুবা মসজিদ এবং মসজিদ আল কিবলাতইন। অন্যদিকে এ শহর ধন্য হয়েছে মহানবী হজরত মোহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র সমাধিকে বুকে ধারণ করে। মূলত এ সমাধিকে ঘিরেই গড়ে উঠেছে 'মসজিদ আল নববী' বা 'নবীর মসজিদ'।
মসজিদ আল নববীর যাত্রা শুরু হজরত মোহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র হাত ধরে। ৬২২ সালে মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের পর নিজ বাসস্থানের পাশেই মহানবী (সা.) তাঁর পবিত্র হাতে এই মসজিদ গড়ার কাজে অংশ নেন। খেজুর গাছের কাণ্ড আর মাটির দেয়াল ঘেরা এ মসজিদের তিনটি দরজা ছিল। যা যথাক্রমে রহমতের দরজা, জিবরাইল (আ.)-এর দরজা এবং মহিলাদের দরজা নামে পরিচিত ছিল। গবেষণায় জানা যায়, পরবর্তীকালে পৃথিবীতে যত মসজিদ গড়ে উঠেছে, তা মূলত 'মসজিদ আল নববীকে অনুসরণ করেছে।

মসজিদ আল নববীর বর্তমান অবয়বের পেছনে রয়েছে বহু ঘটনা, দুর্ঘটনা, যুদ্ধ, অবরোধ, ত্যাগ, তিতিক্ষা প্রভৃতি। প্রতিষ্ঠাকালীন আয়তন থেকে মসজিদের বর্তমান আয়তন প্রায় ১০০ গুণ বেশি। যেখানে একসঙ্গে প্রায় ৬ লাখ মুসলি্ল নামাজ আদায় করতে পারে। তবে হজ মৌসুমে মসজিদ ও পারিপাশ্বর্িক এলাকায় ১০ লাখ মুসলমান একত্রে নামাজ আদায় করতে পারে। এ মসজিদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো একটি সবুজ গম্বুজ। এ গম্বুজটির নিচেই হজরত মোহাম্মদ (সা.)-এর প্রিয়তমা স্ত্রী হজরত আয়েশা (রা.)-এর ঘর ছিল বলে অনেক ঐতিহাসিক ধারণা করেন। কালের পরিক্রমায় এ মসজিদের আয়তন বাড়তে থাকে। যার উল্লেখযোগ্য দিক ছিল কারুকার্যময় সুদৃশ্য গম্বুজ। এসব গম্বুজের কোথাও কোথাও অলংকারও লাগানো হতো। পরবর্তীতে ওহাবি আন্দোলনের সময় এসব গম্বুজ ধ্বংস করা হয়। বর্তমানে মসজিদ আল নববীতে বিভিন্ন ধরনের ২৭টি গম্বুজ রয়েছে। মসজিদের একটি অংশ দ্বিতল বিশিষ্ট। ৩৪৪ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট ১০টি মিনার মসজিদের সৌন্দর্যকে বাড়তি মাত্রা দিয়েছে। বর্তমানে মসজিদের একটি অংশে রয়েছে হজরত মোহাম্মদ (সা.)-এর রওজা শরিফ। এই রওজা শরিফে আরও রয়েছে তাঁর প্রিয় দুই সাহাবি হজরত আবু বকর (রা.) এবং হজরত উমর (রা.)-এর পবিত্র কবর। রওজা মোবারকের পাশেই রয়েছে 'রিয়াল আল জান্নাহ্' বা 'বেহেশতের বাগান' নামে পরিচিত একটি অংশ। এই অংশের রং এবং সাজসজ্জা মসজিদের অন্য এলাকা থেকে পৃথক। এই অংশে ছোট ছোট কিছু পিলারও দৃশ্যমান। মসজিদের বাইরে বিরাট অংশ ছাতা ও তাঁবু দিয়ে আবৃত করার ব্যবস্থা রয়েছে। শান্তিময় ও স্নিগ্ধ পরিবেশের কারণে মসজিদ আল নববীর আবেদন চির অম্লান।

*মেজর নাসির উদ্দিন আহমেদ (অব:)
 
Support : Creating Website | Johny Template | Mas Template
Copyright © 2011. ইসলামী কথা - All Rights Reserved
Template Created by Creating Website Published by Mas Template
Proudly powered by Premium Blogger Template