السلام عليكم

যে ব্যক্তি নিয়মিত ইস্তেগফার (তওবা) করবে আল্লাহ তাকে সব বিপদ থেকে উত্তরণের পথ বের করে দেবেন, সব দুশ্চিন্তা মিটিয়ে দেবেন এবং অকল্পনীয় উৎস থেকে তার রিজিকের ব্যবস্থা করে দেবেন। [আবূ দাঊদ: ১৫২০; ইবন মাজা: ৩৮১৯]
Showing posts with label ঈদ. Show all posts
Showing posts with label ঈদ. Show all posts

যাদের ওপর কোরবানি ওয়াজিব

| comments

প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্ক সম্পন্ন প্রত্যেক মুসলিম নর-নারী, যে ১০ জিলহজ ফজর থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনের অতিরিক্ত নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হবে, তার ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব। টাকা-পয়সা, সোনা-রুপা, অলংকার, বসবাস ও খাবারের প্রয়োজন আসে না—এমন জমি, প্রয়োজনের অতিরিক্ত বাড়ি, ব্যাবসায়িক পণ্য ও অপ্রয়োজনীয় সব আসবাব কোরবানির নিসাবের ক্ষেত্রে হিসাবযোগ্য।

আর নিসাব হলো সোনার ক্ষেত্রে সাড়ে সাত (৭.৫) ভরি, রুপার ক্ষেত্রে সাড়ে বায়ান্ন (৫২.৫) ভরি। টাকা-পয়সা ও অন্য বস্তুর ক্ষেত্রে নিসাব হলো সেগুলো সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার মূল্যের সমপরিমাণ হওয়া। আর সোনা বা রুপা কিংবা টাকা-পয়সার মধ্যে কোনো একটি যদি পৃথকভাবে নিসাব পরিমাণ না থাকে; কিন্তু প্রয়োজন অতিরিক্ত একাধিক বস্তু মিলে সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার মূল্যের সমপরিমাণ হয়ে যায়, তাহলেও তার ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব। (আল-মুহিতুল বুরহানি : ৮/৪৫৫, ফাতাওয়া তাতারখানিয়া : ১৭/৪০৫)

উল্লেখ্য, কোরবানির নিসাব পুরো বছর থাকা জরুরি নয়, বরং কোরবানির তিন দিনের মধ্যে যেকোনো দিন থাকলেই কোরবানি ওয়াজিব হবে। (বাদায়েউস সানায়ে : ৪/১৯৬, রদ্দুল মুহতার : ৬/৩১২)

দরিদ্র ব্যক্তি কোরবানি করলে কি আদায় হবে?
দরিদ্র ব্যক্তির (যারা নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক নয়) ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব নয়; কিন্তু সে যদি কোরবানির নিয়তে কোনো পশু কেনে, তাহলে তা কোরবানি করা ওয়াজিব হয়ে যায়। (বাদায়েউস সানায়ে : ৪/১৯২)

পশুর গলায় ছুরি বসালেই কোরবানি হয় না

| comments

আধ্যাত্মিক গুরু সুফি নেতা ও অতুলনীয় অনন্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মজলুম জননেতা আবদুল হামিদ খান ভাসানী হুজুর (রহ.) [১৯৬৬ সালের নির্দিষ্ট তারিখ মনে নেই] কোন এক দিন তার বিন্যাফৈইর বাসভবনের পাশে অবস্থিত মসজিদের আঙিনায় ভক্ত মুরিদদের সমাবেশে কোরবানির ঈদ উপলক্ষে ভাষণে বলেছিলেন, ‘দুনিয়াবি কামনা-বাসনা, হিংসা-বিদ্বেষ, অহংকার, গর্ব-লোভ, মিথ্যা-অন্যায়, প্রতারণা ও রিয়ামুক্ত রাসূল (সা.) প্রেমিক আমিত্বহীন পবিত্র মানব হƒদয়ে সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর বাস। এমন হƒদয়ের অধিকারী নন এমন লোকের প্রার্থনা ও কোরবানি স্রষ্টার দরবারে গৃহীত নয়।’ পবিত্র কোরআন ও হাদিসে এর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রয়েছে। পবিত্র কোরআন ও হাদিসের মূল নির্যাস হচ্ছে : ‘মান আরাফা নাফসাহু ফাকাদ আরাফা রাব্বাহু’Ñ অর্থাৎ ‘যিনি নিজেকে জেনেছেন তিনি তার প্রভু আল্লাহকে চিনেছেন’। নিজেকে না জেনে আল্লাহ-রাসূলকে (সা.) না চিনে আল্লাহর নামে পশু কোরবানি করে মাংস খাওয়া যায় সত্য, কিন্তু কোরবানি কি হয়? আধ্যাÍিক গুরু সুফি নেতা মুর্শিদ মওলানা ভাসানী হুজুরের (রহ.) একজন ভক্ত প্রশ্ন করলেন, হুজুর কোরবানি তাহলে কিভাবে করতে হয়? ভক্তের কথার উত্তরে হুজুর ভাসানী (রহ.) বলতে লাগলেন : কোরবানি শুধু পশুর গলায় ছুরি বসিয়ে দেয়াকে বোঝায় না। রাসূল (সা.) ও আল্লাহপ্রেমে নিজের ভেতরের ‘আমিত্ব’কে কেটে ফেলতে পারলেই সত্যিকারের কোরবানি হয়। এটাকেই বলে মরার আগে মরে যাওয়া। আমাদের প্রিয় নবী (সা.) বলেছেন, ‘মুতু কাবলা আনতা মুতু’ অর্থাৎ ‘মরার আগে মরে যাও’। জীবিত থেকে আপন কামনা-বাসনা ও সব ধরনের ভোগস্পৃহাকে আল্লাহর নৈকট্য লাভের ইচ্ছায় ত্যাগ করে পশু কোরবানি করলে সার্থক হয়, এটাই আল্লাহর বিধান, পবিত্র কোরআনের বাণী ও হাদিসের মূলকথা। নিজেকে আল্লাহ-রাসূল (সা.) প্রেমে উৎসর্গ করার কথা, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য নাফসের সঙ্গে জেহাদ করার কথা, দুস্থ, অসহায়, এতিম মানুষের সেবা করার কথা, মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখার কথা এবং জাগতিক ও আধ্যাÍিক অন্যান্য প্রতিটি কর্মক্রিয়া সম্পাদন করতে পবিত্র কোরআনে বারবার তাগিদ দেয়া হয়েছে। তাই মিথ্যা, অন্যায়, ঘুষ, দুর্নীতি, হিংসা, বিদ্বেষ ও জাগতিক লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে থেকে একমাত্র আল্লাহ-রাসূলের (সা.) সন্তুষ্টির জন্য পশুর সঙ্গে নফসের কুপ্রবৃত্তিকে কোরবানি করতে বলা হয়েছে। আমরা কি তা পেরেছি? আপনারা কি তা পেরেছেন? মওলানা ভাসানী হুজুরের (রহ.) আধ্যাÍিক অনুসারীরা একযোগে বলে উঠলেনÑ না, না আমরা তা পারিনি। আপনি আমাদিগকে সাহায্য করুন আমরা যাতে আল্লাহ-রাসূল (সা.) প্রেমে সত্যিকারের কোরবানি দিতে পারি। মুর্শিদ মওলানা সুফি নেতা হুজুর ভাসানী (রহ.) তার ভক্ত-অনুসারীদের উদ্দেশ্যে বলতে লাগলেন : মুসলিম জাহান ঈদুল আজহার কোরবানির মাধ্যমে আনন্দ-উল্লাসে জেগে উঠেছে। ঈদের মাঠে এক মুসলিম ভাই আর এক মুসলিম ভাইকে হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে বুকে জড়িয়ে ধরেছেন। হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ভাইদেরও জানিয়েছেন ঈদের শুভেচ্ছা। অসাম্প্রদায়িক এক মধুর মিলনে সবাই একাকার, ঈদের খুশিতে খুশি হয়েছেন। মানুষ মানুষে ভেদাভেদহীন এই যে ভালোবাসা, এই যে আল্লাহপ্রেম বা এই ঐশী মহব্বত মানবমনে ধারণ করলে দেশের অভ্যন্তরে এবং বাইরে মারামারি, কাটাকাটি, হানাহানি, ঝগড়া-বিবাদের আর উদ্ভব হতো না, একজন আর একজনকে ঠকিয়ে ধনসম্পদের পাহাড় গড়ে তুলত না, প্রয়োজনের অতিরিক্ত অর্থ উপার্জন করে কুক্ষিগত করে রেখে অভাবগ্রস্ত মানুষের দুঃখ-কষ্টকে আরও বাড়াত না। দেশের মধ্যে ধনী-গরিবের বৈষম্য থাকত না। মুনাফাখোর দ্রব্যমূল্য বাড়িয়ে গরিব-মেহনতি মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলত না। অন্ধ, খঞ্জ, পঙ্গু, মূক, বধির, বৃদ্ধ, অচল ও ভিক্ষুকদের রাস্তাঘাটে দেখা যেত না। হাইজ্যাকার-সন্ত্রাসীরাও ভালো মানুষ হয়ে যেত। ইসলামের সত্যিকার মূল্যবোধে উজ্জীবিত সাম্য, শান্তি, ভ্রাতৃত্ববোধের ঐক্যের সমাজ প্রতিষ্ঠিত হতো। কোন মুসলিমের চিন্তা-চেতনা, মনমানসিকতা, জ্ঞান-বুদ্ধিমত্তা ও ক্রিয়াকর্ম অন্য কোন শান্তিপ্রিয় মানুষের অকল্যাণ সাধনে ব্যবহƒত হতো না। আÍদর্শনে সক্ষম নিঃস্বার্থ প্রেমে উজ্জীবিত এসব ব্যক্তি দেশে জাতি-সমাজের প্রতিটি মানুষের কল্যাণে জীবন উৎসর্গ করত। প্রতিটি মানুষের মাঝেই শুধু নয়, সৃষ্টিকর্তার প্রতিটি সৃষ্টিতে সেই মহান রাব্বুল আলামীনকে অনুভব করত। আর এই অনুভূতিই তাদের করে তুলতÑ ‘আলমুমেনু মিরাজুল মুমিনিন’ অর্থাৎ ‘একজন মোমেন আর একজন মোমেনের আয়নাস্বরূপ’। এ জন্যই তারা আল্লাহপ্রেমে বলে উঠতেনÑ ‘জীবে প্রেম করে যেইজন, সেইজন সেবিছে ঈশ্বর’। প্রিয়নবীর (সা.) প্রিয় সাহাবা (রা.) ও প্রিয় আশেকানরা এমন গুণেরই অধিকারী ছিলেন। মানবসেবা তাদের ব্রত ছিল। তাই যারা কোরবানির পশুর সঙ্গে আমিত্বকে কোরবান করে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সমগ্র মানব জাতির কল্যাণে জীবনকে উৎসর্গ করতে পেরেছেন আল্লাহপ্রেমে তাঁর এশকে বিলীন হতে পেরেছেন তারাই ধন্য হয়েছেন। হঠাৎ করে একজন ভক্ত মুরিদ দাঁড়িয়ে প্রশ্ন করলেন ‘হুজুর আল্লাহকে ভালোবাসব কিভাবে?’ সুফিনেতা মুর্শিদ মওলানা ভাসানী হুজুর (রহ.) তাকে থামিয়ে দিয়ে বলতে লাগলেন : মানুষকে ভালোবেসেই আল্লাহকে ভালোবাসতে হয়। পবিত্র কোরআনেও আছে : স্রষ্টাকে মান্য কর সৃষ্টিকে ভালোবাস। হাদিস শরিফে আছে হাশরের দিন আল্লাহ তাঁর বান্দাকে বলবেন : আমি ক্ষুধার্ত ছিলাম তোমরা আমকে খেতে দাওনি, আমি পিপাসার্ত ছিলাম তোমরা আমাকে পানি পান করাওনি, আমি অসুস্থ ছিলাম, তোমরা আমার সেবা করনি, আমি বিপদগ্রস্ত ছিলাম তোমরা আমাকে বিপদমুক্ত করনি। বান্দা আল্লাহকে বলবেন : আপনি সব কিছুর সৃষ্টিকর্তা, সর্বজীবের রিজিকদাতা, সর্বজীবের লালনপালন কর্তা, রক্ষাকর্তা, আপনার সাহায্য ব্যতীত কারও উপায় নেই। আপনিই সবার ক্ষুধা-তৃষ্ণা নিবারণকারী, আপনাকে আমরা কিভাবে খাওয়াব, কেমন করে পানি পান করাব, কেমন করে সেবা করব, কেমন করেই বা সাহায্য করব? আল্লাহ বলবেন : ক্ষুধার্ত মানুষকে যদি খাওয়াতে, পিপাসিত মানুষকে যদি পানি দিতে, অসুস্থ মানুষকে যদি সেবা করতে, বিপদগ্রস্ত মানুষকে যদি সাহায্য করতে, তবে আজ তোমরা তা আমার কাছে পেতে। এ জন্যই আমাদের জীবনকে সর্বজীবের ভালোবাসায় উৎসর্গ করতে হবে। মুর্শিদ মওলানা আধ্যাত্ম জগতের মহান সাধক সুফিনেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী হুজুর (রহ.) তার ভক্ত-অনুসারীদের লক্ষ্য করে বলেন : প্রত্যেক মানুষের মধ্যে দুটো ‘আমি’ রয়েছে। একটি হল ক্ষুদ্র ‘আমি’ আরেকটি বৃহৎ ‘আমি’। মানুষ ক্ষুদ্র আমিতে বন্দি হয়ে আছেÑ এটাকে যিনি বিসর্জন দিয়ে বৃহৎ আমিতে পদার্পণ করতে পেরেছেন, তিনিই স্রষ্টা ও সৃষ্টির রহস্য উদঘাটনে সক্ষম হয়েছেন। তার হƒদয়ে সমগ্র সৃষ্টিজগতের ভালোমন্দ উদ্ভাসিত হয়েছে। সমগ্র মানবজাতির সুখ-দুঃখ তার হৃদয়ে অনুরণিত হচ্ছে। আর এ জন্যই তিনি সমগ্র মানবজাতি তথা সমগ্র সৃষ্টিজগতের কাজে ব্যতিব্যস্ত রয়েছেন। 

কুরবানীর তাৎপর্য

| comments

কুরবানী অর্থ ত্যাগ। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ত্যাগ স্বীকার করাই হলো কুরবানী। আমরা মনে করি পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে গরু, ছাগল, উট, দুম্বা ইত্যাদি পশু কুরবানী করার ভেতরই কুরবানীর কর্তব্য শেষ হয়ে গেল। আসলে কুরবানী অর্থ হচ্ছে নিজেকে মৃতু্য পর্যন্ত আল্লাহর মর্জির কাছে বিলিয়ে দেয়া। যেখানে নিজের যথেচ্ছারিতার কোন মূল্য থাকবে না। নফসের খেয়াল-খুশীকে বিসর্জন দিতে হবে। পবিত্র হাদীসে এসেছে পৃথিবীতে যত উপাস্য আছে তার মধ্যে খেয়াল-খুশীর উপাস্যকে সবচেয়ে অপছন্দ করেন।

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সুরা সাফ-এ ১০নং আয়াতে বলেছেন, তোমরা জানমাল দিয়ে সংগ্রাম করো। এটাই উত্তম ব্যবসা। যে ব্যবসার পুঁজি হলো আল্লাহ ও রসূলের প্রতি ঈমান আনা এবং জান ও মালকে আলস্নাহর পছন্দনীয় পথে খরচ করা। এই আয়াতে আল্লাহ মহান মানুষের খেয়াল-খুশীর উপাস্যকে কুরবানী করে মানুষের মূল দায়িত্ব পালন করার পদ্ধতিটিই শিক্ষা দিয়েছেন। পবিত্র কুরআনে এসেছে আলস্নাহ রাব্বুল আলামীন মানুষ সৃষ্টির প্রাক্কালে বলেছিলেন ইন্নাী জায়েলুন ফিল আরদি খালীফা। খালীফা অর্থ প্রতিনিধি। যেই প্রতিনিধি আলস্নাহর দেয়া জীবন বিধান মত নিজে চলবে, পরিবারকে চালাবে। সমাজ চলবে সেই বিধান মতে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় ইসলামকে আমরা আজ অনুষ্ঠানসর্বস্ব করে ফেলেছি। কিছু অনুষ্ঠান করাটাকে আজ আমরা মুসলমানদের দায়িত্ব বলে মনে করে থাকি। কুরআন, হাদীসের জ্ঞান অর্জন করে আমাদের সঠিক দায়িত্ব-কর্তব্য জেনে নিজেদের যদি আলস্নাহর রাহে কুরবানী করতাম তবে আজ সমাজের এমন ভয়াবহ অবস্থা হতো না।

যেখানে সেখানে খুন, রাহাজানি, সন্ত্রাস, হত্যা ইত্যাদি নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা যদি নিজেদের মনগড়া আইনকে কুরবানী করে আল্লাহর দেয়া বিধানমত বিচার ফয়সালা করতাম তবে হুজুর পাক (সা.) মাত্র তেইশ বৎসরে যে সোনার মদীনা গড়েছিলেন আমরাও তেমনি দেশ গড়তে পারতাম। সুরা মায়েদার ৪৪, ৪৫, ৪৭নং আয়াতে আল্লাহু রাব্বুল আলামিন বলেছেন, যারা আল্লাহর দেয়া বিধান মত বিচার ফয়সালা করে না তারা অবিশ্বাসী তারা জালিম তারা ফাসিক। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ আরও বলেছেন, ইসলামই হলো আল্লাহর মনোনীত দ্বীন। দ্বীন অর্থ হচ্ছে জীবনবিধান। আর এই জীবন বিধান পালন করার গাইড বই হচ্ছে আল-কুরআন। কুরআনের ব্যাখ্যাই হচ্ছে হাদীস। যারা পবিত্র কুরআন ও হাদীস অনুসারে চলবে তারাই হচ্ছে মুসলিম। মুসলিম শব্দের অর্থ আলস্নাহর কাছে আত্মসমর্পণকারী।

যে মুসলমান ঈমানের বলে বলীয়ান হয়ে আল্লাহর রাহে নিজের পশুত্বকে কুরবান করবে সেই কামিয়াবী এবং তার জন্য পরকালের অনন্ত জীবনে রয়েছে বেহেশত।

মনোয়ার জাহান আছমা

কুরবানি :আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের একটি বড় মাধ্যম

| comments

কুরবানি অর্থ ত্যাগ স্বীকার করা, উৎসর্গ করা ইত্যাদি। আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নৈকট্য অর্জন ও তার ইবাদাতের জন্য পশু জবেহ করাকে কুরবানি বলা হয়। ইমাম আওযায়ী, ইমাম লাইস, ইমাম আবু হানীফা রহ. প্রমুখের মতে কুরবানি করা ওয়াজিব। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তার নাবীকে কুরবানি করতে নির্দেশ দিয়েছেন। বলেছেন- 'আপনি আপনার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে সলাত আদায় করুন ও কুরবানি করুন।' (সূরা কাওসার : ২)

এ আয়াতে ঈদের সলাত আদায় করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে ও কুরবানির পশু জবেহ করতে আদেশ করা হয়েছে। তাই রাসূলুল্লাহ (স.) সারা জীবন কুরবানির ব্যাপারে অত্যন্ত যত্নবান ছিলেন। হাদীসে এসেছে- সাহাবি ইবনে ওমর (রা,) বলেছেন, নাবী কারীম সলস্নালস্নাহু আলাইহি ওয়া সালস্নাম দশ বছর মদিনাতে ছিলেন, প্রতি বছর কুরবানি করেছেন। (আহমদ ও তিরমিজি, আহমদ শাকের হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন)

আল্লাহর নাবী ইব্রাহীম (আ.) স্বীয় পুত্র ইসমাঈল আলাইহিস সালামকে কুরবানি করার পরীক্ষা থেকে বর্তমান পদ্ধতির কুরবানির সূচনা হয়েছে।

'বল, আমার সলাত, আমার কুরবানি, আমার জীবন ও আমার মরণ জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহরই উদ্দেশ্যে। তাঁর কোন শরীক নাই এবং আমি এর জন্য আদিষ্ট হয়েছি আর আমিই প্রথম মুসলিম।' (সূরা আনআম ঃ ১৬২-১৬৩)

হাদীসে এসেছে বারা ইবনে আযিব (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (স:) বলেছেন, যে ঈদের সলাতের পর কুরবানির পশু জবেহ করল তার কুরবানি পরিপূর্ণ হল ও সে মুসলিমদের আদর্শ সঠিকভাবে পালন করল। (বুখারী- ৫৫৪৫, মুসলিম-১৯৬১)

আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুলস্নাহ (সা.) নিজ হাতে দুটি সাদা কালো বর্ণের দুম্বা কুরবানি করেছেন। তিনি বিসমিল্লাহ ও আল্লাহু আকবর বলেছেন। (বুখারী-৫৫৬৫, মুসলিম-১৯৬৬) তবে বুখারীতে 'সাদা-কালো' শব্দের পূর্বে 'শিংওয়ালা' কথাটি উল্লেখ আছে।

কুরবানি দাতা নবী ইবরাহীম আলাইহিস সালাম ও মুহাম্মদ (স:) এর আদর্শ বাস্তবায়ন করে থাকেন।

পশুর রক্ত প্রবাহিত করার মাধ্যমে কুরবানি দাতা আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নৈকট্য অর্জন করেন। যেমন আল্লাহ তায়ালা বলেন, 'আল্লাহর নিকট পেঁৗছায় না তাদের গোশত এবং রক্ত, বরং পেঁৗছায় তোমাদের তাকওয়া। এভাবে তিনি এগুলোকে তোমাদের অধীন করে দিয়েছেন যাতে তোমরা আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা কর এজন্য যে, তিনি তোমাদের পথ-প্রদর্শন করেছেন; সুতরাং আপনি সুসংবাদ দিন সৎকর্মপরায়ণদেরকে।' (সূরা হজ্ব : ৩৭)

পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী ও অভাবীদের আনন্দ দান। আর এটা অন্য এক ধরনের আনন্দ যা কুরবানির গোশতের পরিমাণ টাকা যদি আপনি তাদের সদকা দিতেন তাতে অর্জিত হত না। কুরবানি না করে তার পরিমাণ টাকা সদকা করে দিলে কুরবানি আদায় হবে না।

এমন পশু দ্বারা কুরবানি দিতে হবে যা শরিয়ত নির্ধারণ করে দিয়েছে। সেগুলো হল উট, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া, দুম্বা। এ গুলোকে কুরআনের ভাষায় বলা হয় 'বাহীমাতুল আনআম।' যেমন ইরশাদ হয়েছে, 'আমি প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্য কুরবানির নিয়ম করে দিয়েছি; তিনি তাদেরকে জীবনোপকরণ স্বরূপ যে সকল চতুষ্পদ জন্তু দিয়েছেন, সেগুলোর ওপর যেন তারা আলস্নাহর নাম উচ্চারণ করে।' (সূরা হজ্ব : ৩৪) হাদীসে এসেছে, 'তোমরা অবশ্যই নির্দিষ্ট বয়সের পশু কুরবানি করবে। তবে তা তোমাদের জন্য দুষ্কর হলে ছয় মাসের মেষ-শাবক কুরবানি করতে পার।' (মুসলিম- ১৯৬৩) আর আল্লাহর রাসূল (স:) উট, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া, দুম্বা ছাড়া অন্য কোন জন্তু কুরবানি করেননি ও কুরবানি করতে বলেননি। তাই কুরবানি শুধু এগুলো দিয়েই করতে হবে। ইমাম মালিক (রহ).-এর মতে কুরবানির জন্য সর্বোত্তম জন্তু হল শিংওয়ালা সাদা-কালো দুম্বা। কারণ রাসূলে কারীম (সা.) এ ধরনের দুম্বা কুরবানি করেছেন বলে বুখারী ও মুসলিমের হাদীসে এসেছে। উট ও গরু-মহিষে সাত ভাগে কুরবানি দেয়া যায়। যেমন হাদীসে এসেছে, 'আমরা হুদাইবিয়াতে রাসূলু(স:) -এর সাথে ছিলাম। তখন আমরা উট ও গরু দ্বারা সাত জনের পক্ষ থেকে কুরবানি দিয়েছি।' (ইবনে মাজা- ৩১৩২, হাদীসটি সহীহ )

গুণগত দিক দিয়ে উত্তম হল কুরবানির পশু হূষ্টপুষ্ট, অধিক গোশত সম্পন্ন, নিখুঁত, দেখতে সুন্দর হওয়া।

শরিয়তের দৃষ্টিতে কুরবানির পশুর বয়সের দিকটা খেয়াল রাখা জরুরি। উট পাঁচ বছরের হতে হবে। গরু বা মহিষ দু বছরের হতে হবে। ছাগল, ভেড়া, দুম্বা হতে হবে এক বছর বয়সের।

কুরবানির পশু যাবতীয় দোষ-ত্রুটি মুক্ত হতে হবে। যেমন হাদীসে এসেছে, সাহাবি আল-বারা ইবনে আযেব রাদি আল্লাহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (স:) আমাদের মাঝে দাঁড়ালেন তারপর বললেন, চার ধরনের পশু, যা দিয়ে কুরবানি জায়েয হবে না। অন্য বর্ণনায় বলা হয়েছে পরিপূর্ণ হবে না- অন্ধ ; যার অন্ধত্ব স্পষ্ট, রোগাক্রান্ত ; যার রোগ স্পষ্ট, পঙ্গু ; যার পঙ্গুত্ব স্পষ্ট এবং আহত ; যার কোন অংগ ভেংগে গেছে। নাসায়ির বর্ণনায় 'আহত' শব্দের স্থলে 'পাগল' উল্লেখ আছে। (তিরমিজি-১৫৪৬, নাসায়ি- ৪৩৭১, হাদীসটি সহীহ )

আবার পশুর এমন কতগুলো ত্রুটি আছে যা থাকলে কুরবানি আদায় হয় কিন্তু মাকরূহ হবে। এ সকল দোষত্রুটিযুক্ত পশু কুরবানি না করা ভাল। সে ত্রুটিগুলো হল শিং ভাংগা, কান কাটা, লেজ কাটা ইত্যাদি।

যে পশুটি কুরবানি করা হবে তার উপর কুরবানি দাতার পূর্ণ মালিকানা সত্ত্ব থাকতে হবে। বন্ধকি পশু, কর্জ করা পশু বা পথে পাওয়া পশু দ্বারা কুরবানি আদায় হবে না।

**মনির হোসেন হেলালী**

কুরবানির আগে করণীয়

| comments

হযরত উন্মে সালমা (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রসূল বলেন, যে ব্যক্তি জিলহজ্বের চাঁদ দেখে এবং কুরবানি করার ইচ্ছা রাখে সে যেন কুরবানি করা পর্যন্ত তার নখ ও চুল মোটেই না কাটে। অন্য বর্ণনায় আছে, যুলজিজ্জার ১০ দিন যখন এসে পড়ে এবং তোমাদের কেউ কুরবানি করার ইচ্ছা করে সে যেন তার নখ ও চুলে স্পর্শ না করে (মুসলিম, মিশকাত, ১২৭ পৃষ্ঠা, তিরমিযী, নাসায়ী, আবু দাউদ, মুস্তাদরকে হাকিম, কানযুল উম্মাল, ৫ম খণ্ড, ৪৫ পৃষ্ঠা)। আবু দাউদ, মুসলিম ও নাসায়ীর বর্ণনায় আছে, যার কাছে কুরবানির জানোয়ার আছে, অতঃপর সে যখন যুলহিজ্জার চাঁদ দেখে তখন কুরবানি না করা পর্যন্ত সে যেন তার নখ ও চুল না কাটে (নায়লুল আওতার, ৪র্থ খন্ড, ৩৪৪ পৃষ্ঠা)।

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আম্রকে রসূলুলস্নাহ (স.) বলেছেন, কুরবানির দিনকে ঈদ হিসেবে পালন করার জন্য আমাকে হুকুম দেওয়া হয়েছে, যা এই উন্মতের জন্য আলস্নাহ তায়ালা ঈদ বানিয়ে দিয়েছেন। একজন লোক তাঁকে জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রসূল! এ ব্যাপারে আপনার কি রায় যে, আমি যদি দুধওয়ালী উটনী ছাড়া আর কোন জানোয়ার না পাই তাহলে ঐ জানোয়ারটি কুরবানি করব কি? তিনি বললেন, না। তবে তুমি (কুরবনীর দিনে) তোমার নখ ও চুল কাটবে, গোঁপ ছাঁটবে। তাহলে ঐসব কাজগুলোই তোমার পূর্ণ কুরবানি (সমতুল্য) হবে (আবু দাউদ, নাসায়ী, মিশকাত, ১২৯ পৃষ্ঠা)।

উক্ত হাদীসগুলো প্রমাণ করে যে, কোন মুসলমান কুরবানি করতে পারুক বা না পারুক সে যেন জিলহজ্বের প্রথম দশদিন কুরবানির আগে পর্যন্ত নখ ও চুল না কাটে। যারা কুরবানি দেবার সামর্থ রাখে না তারা যদি ঐ দশদিন নখ ও চুল না কাটে তাহলে তাদেরকে আলস্নাহ তাআলা কুরবানির সওয়াব দান করবেন।

যারা ঐ দশদিনের ভেতরে নখ ও চুল কাটবে তারা গোনাহগার হবে কিনা- এ ব্যাপারে আলিমদের মধ্যে মতভেদ আছে। যেমন, ইমাম আবু হানীফা বলেন, নখ ও চুল কাটা মোবাহ (আপত্তিকর নয়) এবং মোস্তাহাবও (পছন্দনীয়ও) নয়। উপরোক্ত হাদীসগুলো তাঁর মতের প্রতিবাদ করে। ইমাম মালিক থেকে দু'টি মত বর্ণিত। এক মতে মকরূহ, অন্য মতে মকরূহ নয়। ইমাম শাফিয়ী বলেন, কাজটা মকরূহে তানযীহী বা পারতপক্ষে আপত্তিজনক, তবে হারাম নয়। ইমাম আহমাদ, ইসহাক, দাউদ যাহিরী সয়ীদ ইবনে মুসাইয়িব ও কিছু শাফিয়ীদের মতে কাজটা হারাম ঐ ব্যক্তির জন্য যে ব্যক্তি কুরবানি দেবার ইচ্ছা রাখে (নবভী শারহে মুসলিম, ২য় খন্ড ১৬০ পৃষ্ঠা)।

এ সংক্রান্ত বিভিন্ন হাদীসের সনদের দোষক্রুটি আলোচনার পর আলস্নামা উবায়দুলস্নাহ রহমানী বলেন, উন্মে সালমা বর্ণিত মুসলিম শরীফের রিওয়অয়াতকৃত হাদীসটি মরফু সহীহ ও বাচনিক (কওলী) হাদীস এবং এর বিরুদ্ধে অন্য কোন হাদীস নেই। সুতরাং হাদীসটি গ্রহণযোগ্য। যার তাগীদ হল ঐ নিষেধ হারাম। অতএব আমার নিকট প্রাধান্যযোগ্য মত হল ইমাম আহমাদ ও তাঁর সমর্থকদের মতটি (মিরআত, ২য় খণ্ড, ৩৫৬ পৃষ্ঠা)। অর্থাৎ কুরবানি করতে ইচ্ছুক ব্যক্তির জন্য জিলহজ্বের চাঁদ দেখা থেকে কুরবানি করা পর্যন্ত নখ চুল কাটা হারাম। আর হারাম কাজ করা পাপ।

সউদী আরবের রাজধানী রিয়াদের মা'হাদু ইমা-মিদ দা'অহ এর অধ্যাপক আব্দুল আযীয মুহাম্মাদ সালমান 'শারহুল ইকতিবাসের' বরাত দিয়ে লিখেছেন, যদি কেউ বিনা ওযরে নখ ও চুল কাটে তাহলে সে হারাম কাজ করবে। অন্যথায় গোনাহ হবে না এবং এ ব্যাপারে তাকে কোন কাফফারাও দিতে হবে না। যদি কারো কাছে কয়েকটি কুরবানি থাকে তাহলে সে একটা কুরবানি করার পর নখ ও চুল কাটাতে পারবে (আলআস্যিলাহ অল-আজ্ভিবাতুল ফিকহিয়্যাহ, ৩য় খণ্ড, ৩১ পৃষ্ঠা)।

হোসাইন আল খালদুন

কুরবানীর গুরুত্ব তাৎপর্য ও মাহাত্ম্য

| comments

প্রতি বছরের ন্যায় এবারও আমাদের মাঝে পবিত্র ঈদুল আযহা পশুত্ব প্রবৃত্তির কুরবানী করে মনুষ্যত্বকে জাগ্রত করার সুমহান পশরা নিয়ে হাজির । প্রত্যেক সামর্থ্যবান ব্যক্তি এই কুরবানীতে অংশগ্রহণ করবেন। কেবলমাত্র পশু যবেহতেই কুরবানীর পূর্ণাঙ্গ দাবী আদায় হয় না । কেননা যারা কুরবানী করবেন তাদের জন্য অবশ্যই কিছু বিধিবিধানও মানতে হবে। নিম্নে সে সমস্ত বিষয় ও কুরবানীর গুরুত্ব, তাৎপর্য এবং মাহাত্ম্য সম্পর্কে একটি বিশেস্নষণধর্মী তাত্তি্বক আলোচনা পেশ করা হলো।

হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নবী হবার পর মক্কায় তেরটি বছর কাটান। তারপর তিনি আল্লাহর নির্দেশে মদীনায় চলে যান। অতঃপর কিছুদিনের মধ্যে তিনি আল্লাহর তরফ থেকে কুরবানী দেবার আদেশ পান। এই হুকুম পাবার পর তিনি দশ বছর বেঁচেছিলেন। তাই ঐ দশ বছরই তিনি কুরবানী করতে থাকেন। যেমন হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বলেন, রসূলুল্লাহ (স.) দশ বছর মদীনায় অবস্থান করেন এবং কুরবানীও করতে থাকেন (তিরমিযী, ১ম খন্ড, ১৮২ পৃষ্ঠা, মিশকাত, ১২৯ পৃষ্ঠা।) হাফেজ ইবনুল কাইয়িম বলেন, তিনি (স.) কখনো কুরবানী ফাঁকি দেননি। (যা-দুল মাআ-দ, ১ম খন্ড, ২৪৬ পৃষ্ঠা।) উক্ত বর্ণনা দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, কুরবানী সুন্নতে মোআক্কাদা। এটা ফরয ও ওয়াজিব নয়।

তবে কোন কোন হাদীস দ্বারা বাহ্যতঃ মনে হয় যে, কুরবানী ওয়াজিব বা অবশ্য পালনীয় কাজ। যেমন ইবনে মাজার একটি হাদীসে আছে:- রসূলুল্লাহ (স.) বলেন, যে-ব্যক্তি কুরবানীর সামর্থ্য রাখে অথচ কুরবানী করে না সে যেন আমাদের ঈদগাহের নিকটেও না আসে। (ইবনে মাজা, ২৩২ পৃষ্ঠা।) আল্লাহমা জামালুদ্দীন আবদুলস্নাহ যায়লায়ী বলেন, এই হাদীসটি মুসনাদে আহমাদ, মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা, মুসনাদে আবু ইয়ালা, সুনানে দারাকুতনী ও মুস্তাদরকে হাকিম প্রভৃতিতেও বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু এর কয়েকটি বর্ণনার সনদ রসূলুল্লাহ (স.)পর্যন্ত পৌছায় না, বরং তা সাহাবী আবু হুরাইরা পর্যন্ত শেষ হয়ে যায়। সুতরাং হাদীসটি মরফু নয়, বরং মাউকুফ ( নাসবুর রা-য়াহ ৪র্থ খন্ড ২০৭ পৃষ্ঠা)। ইমাম তাহাভীও বলেন, মাউকুফ হওয়াটা সঠিক। তথাপি এ হাদীসে কুরবানী ওয়াজিব হওয়ার স্পষ্ট নির্দেশ নেই (ফাতহুল বারী ১০ম খন্ড, ১ম পৃষ্ঠা)। এই হাদীসটির একজন রাবী আবদুলস্নাহ ইবনে আইয়্যাশকে ইমাম আবু দাউদ এবং ইমাম নাসায়ী যয়ীফ ও দুর্বল বলেছেন (ইবনে মাজার উক্ত পৃষ্ঠায় বায়নাস সূতর দেখুন)। সুতরাং হাদীসটি দলীলযোগ্য নয়। আলস্নামা ইবনুল জাওযী 'তাহ্কীক' গ্রন্থে বলেন, এই হাদীসটি ওয়াজিব প্রমাণ করে না। যেমন ঐ হাদীসে যে ব্যক্তি রসুন খায় সে যেন আমাদের নামায পড়ার জায়গার নিকটেই না আসে উক্ত হুকুমটিকে ওয়াজিব প্রমাণ করে না (নাসবুর রায়াহ ৪র্থ খন্ড, ২০৭ পৃষ্ঠা)।

সুনানে আরবাআ ও মুসনাদে আহমাদের একটি হাদীসে আছে- হে মানবমন্ডলী! প্রত্যেক পরিবারের উপর প্রতি বছরে একটি করে কুরবানী ও আতীরাহ নিশ্চয়ই আছে। এই হাদীস সম্পর্কে হাফিয ইবনে হাজার আস্কালানী (রহ:) বলেন, এ হাদীসটিতেও কুরবানী ওয়াজিব হওয়ার স্পষ্ট শব্দ নেই। তাছাড়া এই রিওয়ায়াতে কুরবানীর সাথে ''আতীরারও" উলেস্নখ আছে, যা সর্বসম্মত মতে ওয়াজিব তো নয়ই, বরং অন্য হাদীস দ্বারা বাতিল বলে প্রমাণিত (ফতহুল বারী ১০ম খন্ড, ২য় পৃষ্ঠা)। কোন সহী ও বিশুদ্ধ হাদীস দ্বারা কুরবানী ওয়াজিব প্রমাণিত না হলেও রসূলুলস্নাহ্র (স.) সর্বদা আমল দ্বারা কারো কারো মনে ওয়াজিব হওয়ার সন্দেহ হয়। তাই একজন লোক নবীজীর সুন্নতের আশেক আবদুলস্নাহ ইবনে ওমরকে জিজ্ঞেস করেন, কুরবানী কি ওয়াজিব অর্থাৎ অবশ্য পালনীয় কাজ কি? উত্তরে তিনি বলেন, রসূলুলস্নাহ (স.) কুরবানী দিতেন এবং মুসলমানেরাও করতেন। এই উত্তরে প্রশ্নকারী দ্বিধামুক্ত না হওয়ায় তিনি আবার প্রশ্ন করেন, এটা ওয়াজিব কি না? উত্তরে তিনিও আবার বললেন, তুমি বুঝতে পারছো না আমি তো বলছি, রসূলুলস্নাহ (স.) কুরবানী করতেন এবং তাঁরপর সাধারণ মুসলমানেরাও কুরবানী দিত। তারপর থেকে এই সুন্নত জারি আছে (তিরমিযী ১ম খন্ড, ১৮২ পৃষ্ঠা ও ইবনে মাজা ২৩২ পৃষ্ঠা)।

ইমাম তিরমিযী (রহ.) বলেন, আহলে ইল্ম বা কুরআন হাদীস জ্ঞানীদের আমল এই ছিল যে, কুরবানী ওয়াজিব নয়, বরং নবী (স.) এর সুন্নতের মধ্যে এটি একটি সুন্নত (তিরমিযী ১ম খন্ড ১৮২ পৃষ্ঠা)। মুসনাদে আহমাদ, আবু ইয়ালা, তাবারানী, দারাকুতনী ও হাকিম প্রভৃতিতে একটি হাদীসে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত আছে, রসূলুলস্নাহ (স.) বলেন, আমার উপর কুরবানী ফরয, কিন্তুু তোমাদের উপর নয় (ফতহুল বারী ১০ম খন্ড, ৪র্থ পৃষ্ঠা)। অন্য বর্ণনায় আছে, তিনি ( স.) বলেন, কুরবানী আমার উপরে ফরয এবং তোমাদের উপরে সুন্নত (তাবারানী কানযুল, উমমা-ল ৫ম খন্ড, ৪৩ পৃষ্ঠা)।

কুরবানী ''সুন্নত" হওয়া সম্পর্কে সহী ও যয়ীফ হাদীসে স্পষ্ট উলেস্নখ থাকা সত্ত্বেও কোন কোন যয়ীফ হাদীস দ্বারা পরোক্ষভাবে তা ওয়াজিব হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়ার কারণে উলামায়ে কিরামের মধ্যে মতভেদ সৃষ্টি হয়েছে যে, কুরবানী সুন্নত, না ওয়াজিব অর্থাৎ শুধু করণীয়, না অবশ্য পালনীয়? ইমাম আবু হানীফার (রহ.) মতে প্রত্যেক স্বাধীন, ধনী ও ঘরে অবস্থানকারী মুসলমানের উপরে কুবরানী ওয়াজিব (হিদায়া ৪র্থ খন্ড, ৪৪৩ পৃষ্ঠা)। ইমাম শাফিয়ী (রহ.) বলেন, কুরবানী সুন্নত। একে আমি ত্যাগ করা পছন্দ করি না । কিতাবুল উম্ম ২য় খন্ড, ১৮৭ পৃষ্ঠা)। ইমাম মালিক বলেন, কুরবানী সুন্নত; ওয়াজিব নয় এবং কোন ব্যক্তি সামথর্্য থাকা সত্ত্বেও একে বর্জন করে আমি তা পছন্দ করি না (মুআত্তা ইমাম মালিক ১৮৯ পৃষ্ঠা)। ইনি ইমাম আবু হানীফার মত ''ঘরে অবস্থানকারীর" শর্ত লাগাননি। ইমাম আহমাদ বলেন, সামথর্্য থাকা সত্ত্বেও তা বর্জন করা আপত্তিকর। ইমাম আবু ইউসুফ, ইমাম আশহাব এবং জমহুর ও অধিকাংশ আলিমের মতে তা সুন্নতে মুআক্কাদা (ফতহুল বারী ১০ম খন্ড, ১ম পৃষ্ঠা)। ইমাম ইবনে হায্ম বলেন, কুরবানী সুন্নত, ফরয নয়। কোন সাহাবী থেকেও সহী সনদ প্রমাণিত নেই যে, কুরবানী ওয়াজিব (মুহালস্না ৭ম খন্ড, ৩৫৫-৩৫৮ পৃষ্ঠা )।

ইমাম তিরমিযী (রহ.) বলেন, আহলে ইল্ম বা কুরআন হাদীস জ্ঞানীদের আমল এই ছিল যে, কুরবানী ওয়াজিব নয়, বরং নবী (স.)- এর সুন্নত (তিরমিযী ১ম খন্ড, ১৮২ পৃষ্ঠা)

মুসনাদে আহমাদ, আবু ইয়ালা, তাবারানী, দারাকুতনী ও হাকিম প্রভৃতিতে একটি হাদীসে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত আছে, তিনি (স.) বলেন, কুরবানী আমার উপর ফরয, কিন্তু তোমাদের উপর নয় (ফতহুল বারী ১০ম খন্ড, ৪র্থ পৃষ্ঠা)। অন্য বর্ণনায় আছে, তিনি (স.) বলেন, কুরবানী ফরয, কিন্তু তোমাদের উপরে সুন্নাত (তাবারানী কানযুল, উমমা-ল ৫ম খন্ড, ৪৩ পৃষ্ঠা) ।

কুরবানী ''সুন্নত" হওয়া সম্পর্কে সহী ও যয়ীফ হাদীসে স্পষ্ট উলেস্নখ থাকা সত্ত্বেও কোন কোন যয়ীফ হাদীস দ্বারা পরোক্ষভাবে তা ওয়াজিব হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়ার কারণে উলামায়ে কিরামের মধ্যে মতভেদ সৃষ্টি হয়েছে যে, কুরবানী সুন্নত, না ওয়াজিব অর্থাৎ শুধু করণীয়, না অবশ্য পালনীয়? ইমাম আবু হানীফার (রহ.) মতে প্রত্যেক স্বাধীন, ধনী ও ঘরে অবস্থানকারী মুসলমানের উপরে কুরবানী ওয়াজিব (হিদায়া ৪র্থ খন্ড, ৪৪৩ পৃষ্ঠা)। ইমাম শাফিয়ী (রহ.) বলেন, কুরবানী সুন্নত। একে আামি ত্যাগ করা পছন্দ করি না (কিতাবুল উম্ম ২য় খন্ড, ১৮৭ পৃষ্ঠা)। ইমাম মালিক বলেন, কুরবানী সুন্নত; ওয়াজিব নয় এবং কোন ব্যক্তির সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও একে বর্জন করে আমি তা পছন্দ করি না (মুআত্তা ইমাম মালিক ১৮৯ পৃষ্ঠা)। ইনি ইমাম আবু হানীফার মতে ''ঘরে অবস্থানকারীর" শর্ত লাগাননি। ইমাম আহমাদ বলেন, সামর্থ থাকা সত্ত্বেও তা বর্জন করা আপত্তিকর। সুতরাং প্রতীয়মান হয় যে, কুরবানী বিশ্বনবী (স.) এর আজীবন সুন্নত এবং তাঁর ইন্তেকালের পর থেকে মুসলিম জাহানের সার্বজনীন আমল এবং ইসলামের এক মহান বৈশিষ্ট্য। তাই কোন সামথর্্যবান মুসলমানের পক্ষে কুরবানী ত্যাগ করা মোটেই উচিত নয়। এমনকি ধার করেও যদি কুরবানী দেওয়া সম্ভব হয় তাও দেওয়া উচিত । যেমন হযরত আয়শা (রা.) একদা রসূলুলস্নাহ (স.) কে জিজ্ঞেস করলেন যে, আমি দেনা করেও কুরবানী দেব কি? তিনি (স.) বললেন , হ্যাঁ। কারণ, এই দেনা শোধ হবেই (দারাকুতনী, ২য় খন্ড, ৫৪৪ পৃষ্ঠা)।

রসূলুলস্নাহ (স.) বলেন, ইয়াওমুন নাহরে (অর্থাৎ বকরাঈদের দিনে) আদম সন্তান যত কাজ করে তন্মধ্যে আলস্নাহ্র কাছে সবচেয়ে প্রিয় কাজ (কুরবানীর পশুর ) রক্তপাত। ঐ জানোয়ার কিয়ামতের দিনে তার শিং ও পশম এবং খুরসহ নিশ্চয়ই হাজির হবে আর ওর খুর যমীনে পড়ার আগেই আলস্নাহ্র কাছে তা কবুলিয়াতের (গৃহীত হবার) দরবারে পেঁৗছে যায়। অতএব তোমরা কুরবানী করে নিজেদের মনকে তৃপ্ত কর (তিরমিযী, ইবনে মাজা, মেশকাত, ১২৮ পৃষ্ঠা)। একদা সাহাবায়ে কেরাম রসূলুলস্নাহ (স.)-কে জিজ্ঞেস করেন, কুরবানী কি? হে আলস্নাহ্র রসূল! তিনি বললেন, এটা তোমাদের পিতা ইবরাহীম আলায়হিস সালামের সুন্নত ও আদর্শ । তাঁরা আবার প্রশ্ন করলেন, এতে আমাদের লাভ কি? তিনি বললেন, প্রত্যেক পশমের বদলে একটি করে নেকী আছে (মুসনাদে আহমাদ, ইবে মাজা, মেশকাত ১২৯ পৃষ্ঠা)। একদা তিনি হযরত ফাতিমা (রা.) কে বলেন, ঐ পশুর প্রত্যেক রক্তবিন্দুর বদলে তোমার একটি করে গোনাহ্ মাফ হবে এবং ঐ পশুটিকে তার রক্ত ও গোশ্তসহ তোমার দাঁড়িপালস্নাতে সত্তর গুণ ভারী করে দেওয়া হবে ( মিরআত, ২য় খন্ড, ২৬২ পৃষ্ঠা)। কথাটি শুনে হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা.) জিজ্ঞেস করেন, ইয়া রসূলুলস্নাহ! এ নেকী হযরত মুহাম্মদ (স.) এর বংশের জন্য খাস, না সর্বসাধারণ সবার জন্যেও? তিনি (স.) বললেন, এটা মোহাম্মদ (স.) এর বংশ ও সবার জন্য (বায়হাকী, কানযুল উম্মাল, ৫ম খন্ড, ১১৯ পৃষ্ঠা) ও ৫১ পৃষ্ঠা, মুস্তাদরেকে হাকেম, ৪র্থ খন্ড, ২২২ )।

কোন যয়ীফ হাদীসেও একথার প্রমাণ পাওয়া যায় না যে, রসূলুলস্নাহ (স.) অথবা খুলাফায়ে রাশিদীন কুরবানী না করে তার দামটা সদাকাহ করে দিয়েছেন। কারণ, কুরবানী না করে তার দাম সদাকাহ করলে ইসলামের একটি মহান নিদর্শন ত্যাগ করা হয়। তাই কুরবানীর পশু যবেহ করাটাই সামথর্্যবানদের জন্য অপরিহার্য (মিরআত, ২য় খন্ড, ৩৫০ পৃষ্ঠা)।

দেওবন্দের সাবেক মুফতী মওলানা শাফী (র.) বলেন, কুরবানীর তিনদিনে পশুর দাম সদকাহ করলে কুরবানী আদায় হবে না। বরং সে সর্বদা গোনাহ্গার হবে। কারণ, কুরবানী স্বতন্ত্র একটি ইবাদত। যেমন নামায পড়লে রোযা এবং রোযা রাখলে নামায আদায় হয় না, যাকাত দিলে হজ্ব আদায় হয় না। আলস্নাহ্ আমাদেরকে প্রকৃত বিষয় জানার এবং তা আমল করার তাওফিক দান করুন আমীন!

- মাওলানা জাকির হোসাইন আজাদী

কুরবানির ইতিহাস

| comments (1)

পৃথিবীর ইতিহাসে কুরবানি কবে থেকে চালু হয়েছে জানতে গেলে আল্লহ বলেন, আমি প্রত্যেক জাতির জন্য কুরবানির বিধান দিয়েছি যাতে তারা পালিত চতুস্পদ জন্তুর উপর আলস্নাহর নাম উচ্চারণ করে যা তিনি তাদেরকে খোরাকী স্বরূপ দান করেছেন (সূরা হজ্জ ৩৪ আয়াত)

উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় আল্লামা নাসাফী ও যামাখশারী বলেন, (হযরত আদম (আ) থেকে হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা (স) পর্যন্ত) প্রত্যেক জাতিকে আলস্নাহ তাআলা তাঁর নৈকট্য লাভের জন্য কুরবানির বিধান দিয়েছেন। (তফসীরে নাসাফী ৩য় খন্ড ৭৯ পৃষ্ঠা ও কাশশাফ ২য় খন্ড ৩৩ পৃষ্ঠা)

কুরআনের ৬ষ্ঠ পারায় সূরা মায়িদার ৮ম রুকুতে পৃথিবীর প্রথম মানুষ হযরত আদম (আ)-এর দুই পুত্র কাবীল ও হযরত হাবীলের কুরবানির বর্ণনা আছে। পৃথিবীর ইতিহাসে ঐটাই প্রথম কুরবানি। তফসীরের বর্ণনায় তার সংক্ষিপ্ত বিবরণ এই। মুফাসসিরে কুরআন হযরত ইবনে আব্বাস বলেন, হযরত হাওয়া আলাইহিস সালামের গর্ভে জোড়া জোড়া সন্তান পয়দা হোত। কেবল হযরত শীস (আ) ছাড়া। কারণ, তিনি একা ভূমিষ্ঠ হয়েছিলেন। সেই সময় আদম (আ) একটি জোড়ার মেয়ের সাথে অন্য জোড়ার ছেলের বিয়ে দিতেন। কারণ, তখন যে- জোড়ার সাথে যে-মেয়ে জন্মাত সেই জোড়ার ছেলের সাথে ঐ জোড়ার মেয়ের বিয়ে হালাল ছিল না। অতঃপর হাওয়া (আ) কাবীলের সাথে একটি সুন্দরী মেয়েকে জন্ম দেন যার নাম ইকলীমা এবং হাবীলের সাথে এমন একটি মেয়ে জন্ম দেন যে ইকলীমার মত ছিল না। ঐ মেয়েটির নাম লিয়ূযা। অতঃপর আদম (আ) যখন উক্ত দুই জোড়ার বিয়ে দেবার ইচ্ছা প্রকাশ করলেন তখন কাবীল বলে, আমি আমার জুড়ি বোনের হকদার বেশি। তথাপি আদম (আ) তাকে তাঁর নির্দেশ মানতে বললেন। কিন্তু সে মানলোনা। এবার তিনি তাকে বকাঝকা করলেন। তবুও সে ঐ বকাঝকায় কান দিল না। অতঃপর তাঁরা সবাই কুরবানি দেবার ব্যাপারে একমত হলেন।

তাঁদের কুরবানির পদ্ধতি সম্পর্কে আল্লহমা আবু আলী আলফারসী বলেন, কাবীল ছিলো চাষী। তাই তিনি গমের শীষ থেকে ভাল ভাল মালগুলো বের কোরে নিয়ে বাজে মালগুলোর একটি অাঁটি কুরবানির জন্য পেশ করেন। আর হাবীল ছিলেন পশু পালনকারী। তাই তিনি তাঁর জন্তুর মধ্য থেকে সব চেয়ে সেরা একটি দুম্বা কুরবানির জন্য পেশ করেন। অতঃপর হাবীলের জন্তুটি আসমানে তুলে নেওয়া হয়। যা যেখানে চরতে থাকে! পরিশেষে ঐ দুম্বাটি দিয়ে হযরত ইসমাইল আলায়হিস সালামকে বাঁচিয়ে নেওয়া হয়। পূর্ববতর্ী আলেমদের একটি দল একথা বলেন। কিন্তু কেউ কেউ বলেন, আসমান থেকে আগুন অবতীর্ণ হয় এবং হাবীলের কুরবানিটি জ্বালিয়ে দেয়। (তফসীর ইবনে কাসীর, দুররে মনসূর, ফতহুল বায়ান, ৩য় খণ্ড ৪৫ পৃষ্ঠা ও ফতহুল কাদীর ২য় খণ্ড ২৮ ও ২৯ পৃষ্ঠা)

হযরত আদম আলাইহিস সালামের যুগে তাঁরই পুত্র কাবীল ও হাবীলের কুরবানি চলতে থাকে। সূরা হজ্জের ৩৪নং আয়াতটি ওর প্রতি ইঙ্গিত করে। তবে ঐসব কুরবানির কোন বর্ণনা কোন গ্রন্থে পাওয়া যায় না। বর্তমানে আমাদের উন্মতে মুহাম্মাদীর মধ্যে যে কুরবানি চালু আছে তার সম্পর্ক হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস সালামের নিজপুত্র ইসমাইলকে কুরবানি করার সাথে।

আব্দুলস্নাহ আল বাকী

পবিত্র ঈদুল আযহা ও কুরবানির ঐতিহাসিক পটভূমি

| comments

একবার তিনি ইব্রাহিম (আ.) বললেন, হে আমার প্রতিপালক; আমাকে একটি সুসন্তান দান কর (সুরা সা-ফফা-তে ১০০ আয়াত) । কথায় বলে অন্তর থেকে যে কথা বের হয় তদ্বারা কাজ নিশ্চয়ই হয় । তাই ব্যথিতের ফরিয়াদ গ্রহণকারী আল্লাহ বললেন, অতপর আমিও তাকে (ইব্রাহীমকে) একটি ধৈর্যশীল ছেলে দান করার সুসংবাদ শুনিয়ে দিলাম (ঐ সুরা ১০১ )।

ছেলেটি যখন দৌড় ঝাপ করতে শিখলো এবং মুফাসসিরে কুরআন ফাররার মতানুযায়ী ছেলেটি যখন ১৩ বছর বয়সে পা দিল তখন হযরত ইব্রাহীম (আ.)কে স্বপ্নে হুকুম দেয়া হল যে, তুমি তোমার কলিজার টুকরা ইসমাইলকে আল্লাহর রাহে কুরবানি কর। মুকাতিল বলেন, এই স্বপ্ন তিনি উঠোউঠি তিন রাতেই দেখলেন। (ফাতহুল বায়ান, ৮ম খণ্ড, ৬৯ পৃষ্ঠা)

জিলহজের ৮ম রাতে তিনি সর্ব প্রথম স্বপ্ন দেখেন যে, একমাত্র পুত্রকে নিজ হাতে যব্হ করছেন। স্বপ্নটি দেখার পর ঐ দিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি এই চিন্তায় বিভোর থাকেন যে, এটা আল্লাহর তরফ থেকে সুস্বপ্ন, না দুঃস্বপ্ন। অতঃপর ৯ম রাতে তিনি আবার ঐ স্বপ্ন দেখেন। ফলে ঐ দিন তিনি জানতে ও বুঝতে পারেন যে, এটা স্বপ্ন। তারপর ১০ম রাতে তিনি আবার ঐ স্বপ্ন দেখেন। তাই ঐ দিনে তিনি কুরবানি করতে উদ্যত হন। পরপর তিনরাত স্বপ্ন দেখার পর তার মনে যে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় তারই পরিপ্রেক্ষিতে উক্ত তিনটি দিন বিশেষ নামে বিশেষিত হয়েছে। যেমন যুলহিজ্জার ৮ম দিনের নাম 'ইয়াওমুত তারভিয়াহ' বা চিন্তাভাবনার দিন। ৯ম দিনের নাম 'ইয়াওমুল আরাফাহ' বা জানার দিন। ১০ম দিনের নাম 'ইয়াওমুন নাহর' বা কুরবানির দিন। (তফসীরে কাবীর, ৭ম খণ্ড, ১৪৯ পৃষ্ঠা, তফসীরে বাগাভী ও খাযিন ৬ষ্ঠ খণ্ড, ২৩ পৃষ্ঠা, রূহুল মাআ-নী, ২৩ খণ্ড, ১২৮ পৃষ্ঠা)

এই স্বপ্ন দেখার পর ইব্রাহীম (আ:) পুত্রকে কুরবানি করার জন্য তৈরী হলেন এবং স্বীয় বিবি হাজেরাকে বললেন, ছেলেটাকে মুখহাত ধুইয়ে কাপড় পরিয়ে দাও। ওকে একটা কাজে নিয়ে যাব। একটি রিওয়ায়াত রয়েছে যে, যখন ইব্রাহীমকে কুরবানির স্বপ্ন দেখানো হয় তখন শয়তান মনে মনে বলে যে, এই সময় যদি আমি তাদেরকে ফেতনায় না ফেলতে পারি তাহলে আর কখনো পারবো না। অতঃপর দুই বাপ-বেটা যখন ঘর থেকে বের হলেন তখন শয়তান বিবি হাজেরার নিকটে গিয়ে হাযির হল এবং বললো, তোমার বেটাকে ইব্রাহীম কোথায় নিয়ে গেলেন:তিনি বললেন, কোন কাজে নিয়ে গেছেন। এবার শয়তান বলল, না না। তিনি তাকে কোন দরকারে নিয়ে যাননি বরং তাকে যবেহ করতে নিয়ে গেছেন। হাজেরা জিজ্ঞেস করলেন, তিনি তাকে যবেহ করবেন কেন? শয়তান বললো-ইব্রাহীমের ধারণা যে, তার রব নাকি তাকে এই কাজের হুকুম দিয়েছেন। এ কথা শুনে হাজেরা বললেন, তাহলে তো তিনি তার পরওয়ারদেগারের হুকুম তামীল করে খুব ভাল কাজ করেছেন।

তার নিকট থেকে শয়তান নিরাশ হয়ে ফিরতে বাধ্য হলো। এখানে শয়তান নিরাশ হয়ে তাদের দু'জনের পেছনে ছুটলো তাদের কাছেও শয়তান পরাস্ত হলো। মিনায় পেঁৗছিয়ে ছেলেকে ইব্রাহিম (আ:) বললেন, প্রিয় পুত্র! আমি স্বপ্নে দেখেছি যে, তোমাকে আমি যবেহ করছি। অতএব এ ব্যাপারে তোমার মতামত কি? ছেলেটি বললো, বাবা! আপনি তাই করুন আপনাকে যা হুকুম দেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে আপনি আমাকে ধৈর্যশীল পাবেন (সূরা সা-ফফা-ত ১০২ আয়াত)।

এভাবে বাপ-বেটার সওয়াল জওয়াবের পর ছেলেটি যখন রাজি হয়ে গেল তখন দু'জনই আল্লাহর কাছে নিজেদের সঁপে দিল। কাতাদাহ বলেন, ছেলেটি জানদেনেওয়ালার সামনে তার জানের তোহফা পেশ কর্ল এবং তার বাপ নিজ কলিজার টুকরা ছিড়ে আল্লাহর সামনে রেখে দিল। (তফসীরে কাবীর, ৭ম খণ্ড, ১৫৩ পৃষ্ঠা, ফাতহুল বায়ান, ৮ম খণ্ড, ৭১ পৃষ্ঠা)

ইবনুল মুনযির ও মুস্তাদরকে হাকিমে মুজাহিদ থেকে বর্ণনা রয়েছে যে, তারপর ছেলেটি তার বাপকে বললো, আপনি আমাকে চোখে দেখা অবস্থায় যবেহ করতে পারবেন না। কারণ, আপনার হয়তো ছেলের মায়া উথলে উঠতে পারে। ফলে আপনার ছুরি নাও চলতে পারে? কিংবা আমি হয়তো অধৈর্য হয়ে ছটফট করতে পারি এবং আপনার কাজে ব্যাঘাত ঘটিয়ে দিতে পারি? সেজন্য আপনি আমার হাত থেকে ঘাড় পর্যন্ত কষে বেঁধে দিন। তারপর আমাকে উপুড় করে শুইয়ে দিন।

অন্য বর্ণনায় আছে, ছেলেটি আবার বললো, বাবা! আপনি নিজের কাপড়টা সামলে নিন এবং আমাকে ভাল করে বেঁধে দিন। যাতে আমার রক্তের ছিটে আপনার গায় না লাগে এবং আমার নেকি কমে না যায়। আর যবহের পর আপনি যখন আমার মায়ের কাছে যাবেন তখন তাঁকে আমার সালাম দেবেন। আর আপনি যদি আমার জামাটা মায়ের কাছে নিয়ে যেতে চান তাহলে নিয়ে যাবেন। যাতে তিনি কিছুটা সান্ত্বনা পাবেন। কলিজার টুকরা একমাত্র কচি বাচ্চার মুখ দিয়ে এরূপ কথা শুনে হযরত ইব্রহীমের মনে কি প্রতিক্রিয়াই না হতে পারে! তথাপি তিনি ধৈর্যের অটল পাহাড় হয়ে জওয়াব দিচ্ছেন, বাবা! তুমি আল্লাহর হুকুম পালনার্থে আমার কি উত্তম সাহায্যকারী! কথাটি বলে তিনি পুত্রকে চুমু খেলেন এবং ছলছল চোখে তাকে বাঁধলেন। (তফসীরে বাগাভী ও খাযেন, ৬ষ্ঠ খণ্ড, ২৬ পৃষ্ঠা এবং কাবীর, ৭ম খণ্ড, ১৫৪ পৃষ্ঠা) অতঃপর কুরআনের ভাষায়-

ইব্রাহীম তাকে উপুড় করে শুইয়ে দিলেন। মুসনাদে আহমাদে একটি হাদীস রয়েছে যে, তখন ইসমাইলের গায়ে একটি সাদা জামা ছিল। তাই সে বললো, হে আব্বাজান! এটা ছাড়া আমার কাছে আর তো কোন কাপড় নেই যদ্বারা আপনি আমাকে কাফন দিতে পারেন। অতএব আপনি এই জামাটি খুলে নিন যাতে আমার কাফনের কাজ হয়ে যায়। সুতরাং তিনি জামাটা খুলে নিলেন। (ইবনে কাসীর ৪র্থ খন্ড ১৬ পৃষ্ঠা।)।

এবার শুরু হল আসল ঘটনা। অর্থাৎ ছেলেটির গলায় ছুরি চালাবার পালা। ইলাহী হুমুকের কাছে আত্মসমর্পণের মূর্ত প্রতীক ইব্রাহীমের হাত যখন ছেলেটির ঘাড়ে ছুরি চালিয়ে দিল ত্রিভুবন তখন কেঁপে উঠলো। সে কি অভিনব দৃশ্য। পৃথিবীর ইতিহাসে আজ পর্যন্ত এমন ঘটনা ঘটেনি এবং ভবিষ্যতে ঘটবে কিনা তাও কে বলতে পারে। একদিকে জনমানবহীন পশুপক্ষী ও প্রাণীহীন মক্কা শহর। অন্যদিকে ধু ধু বালির মধ্যে খাঁ খাঁ করছে মিনার ঐতিহাসিক প্রান্তর। আর তারই মাঝে একটি ৯৯ বছরের বুড়ো বাপ এবং তার ছুরির তলায় পড়ে রয়েছে ১৩ বছরের ফুলস্ন কুসুমিত এক শিশুপুত্র। এই অকল্পনীয় দৃশ্য দেখে আকাশ যেন ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে আছে এবং আদমের জন্মের সময় প্রবল আপত্তিকারী ফেরেশতারাও যেন ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদছে। গাছপালা কেউ আর নড়ছে না এবং পশু-পক্ষীরাও যেন চলাফেরা করতে পারছে না। বাতাসের গতিও যেন স্তব্ধ হয়ে গেল এবং পাহাড় ও পর্বতেও যেন একটা নিঝুমভাব ফুটে উঠলো। সবাই যখন বিস্ময় বিমূঢ় হয়ে এই অভাবনীয় দৃশ্য দেখছে ইব্রাহীমের (আ.) হাত তখন ইসমাইলের গলায় অনবরত চলছে। কিন্তু বিধাতার লীলা বুঝা বড় ভার। তাই ইমাম সুদ্দী বলেনঃ এদিকে আল্লাহ ইব্রাহীম (আ.)কে হুকুম দিয়েছেন নিজহাতে ছেলে জবেহ কর, আর ওদিকে তিনি ছুরিকে নির্দেশ দিয়েছেন, তুমি মোটেই কেটোনা। ফলে ছুরি এবং তার গলার মাঝখানে আল্লাহর কুদরতে একটি পিতলের পাত আড় সৃষ্টি করে। সেজন্য ইব্রাহীম বারবার ছুরি চালালেও কোন কাজ হচ্ছিল না। (ঐ ১৭ পৃষ্ঠা ও ফাতহুল বায়ান, ৮ম খন্ড, ৭২ পৃষ্ঠা)।

এই অচিন্তনীয় পরিস্থিতিতে ত্রিভুবনের সবাই যখন হতভম্ব এবং হতবাক ও শ্বাসরুদ্ধ তখন আল্লাহ তার রহস্য ফাঁস করে দিয়ে জান্নাত থেকে জিব্রাইলের মাধ্যমে একটি দুম্বা পাঠিয়ে দিলেন এবং ইসমাইলকে বাঁচিয়ে নিয়ে ইব্রাহীমের অজান্তে সেই দুম্বাটিকে তার দ্বারা জবেহ করিয়ে নিয়ে জলদগম্ভীর স্বরে ঘোষণা করলেন-

হে ইব্রাহীম! তুমি তোমার স্বপ্নকে সত্য করে দেখিয়েছো। আমি এভাবে (পরীক্ষার মাধ্যমে) নেক ও সৎ লোকদেরকে পুরস্কৃত করে থাকি। নিঃসন্দেহে এটাও একটা বিরাট পরীক্ষা। তাই আমি এক বিরাট কুরবানির বদলে তাকে (অর্থাৎ তোমার ছেলে ইসমাইলকে) বাঁচিয়ে নিয়েছি (সুরা সাফফা ত-১০৪-৭ আয়াত) ওয়াহিদী বলেনঃ ইবনে আব্বাসসহ অধিকাংশ মুফাসসিরীনের মতে ইব্রাহীমের নিকট সেই দুম্বাটি পাঠানো হয়েছিল যেটাকে জান্নাতে চলিস্নশ বছর ধরে লালন-পালন করা হয়েছিল। ( ফা, বা ৭৩ পৃষ্ঠা) কিন্তু ইবনে আবী হাতেম ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এটা সেই দুম্বা যেটা আদম (আ:) এর ছেলে (হাবীল) আল্লাহর দরবারে কুরবানি করেছিল এবং সেটা কবুলও হয়েছিল। তখন থেকে ওটা জান্নাতে চড়তে থাকে। পরিশেষে ওর দ্বারা আল্লাহ তাআলা ইসমাইলকে বাঁচিয়ে নেন। ইবনে কাসীর ৪র্থ খন্ড, ১৭ পৃষ্ঠা, কাবীর ৭ম খন্ড, ১৫৪ পৃষ্ঠা।

একটি বর্ণনায় আছে, ইব্রাহীম যখন ইসমাইলকে জবেহ করছিলেন তখন জিব্রাইল বলেছিলেন, আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার এবং ইসমাইল বলেছিলেন লা ইলাহা ইলস্নালস্নাহ আল্লাহু আকবার। অতপর ইব্রাহীম (আ.) বলেন, আল্লাহু আকবার অলিলস্না হিল হামদ। তারপর থেকে এই তকবীরটা চিরস্থায়ী সুন্নতে পরিণত হয়। তফসীরে নাসাফী ৪র্থ খন্ড, ২০ পৃষ্ঠা কাশশাফ ৩য় খন্ড, ৩০৮ পৃষ্ঠা, তাফসীরে আবু সসউদ ৭ম খন্ড, ৫৪৮ পৃষ্ঠা, ফাতহুল বায়ান, ৮ম খন্ড ৭৪ পৃষ্ঠা)।

জন্মদিন থেকে জীবনের ৯৯টি বছর ধরে একটার পর একটা পরীক্ষা করে যখন পরওয়ারদেগারে আলম ইব্রাহীমের প্রতি সন্তুষ্ট হলেন তখন তার এই চিত্তহারী রোমাঞ্চকর ও বিপস্নব সৃষ্টিকারী কীর্তিকে কেয়ামত পর্যন্ত অক্ষয় করে দিলেন এই বলে-

আমি তোমার এই সুমহান আদর্শকে পরবতর্ীদের জন্য চিরস্মরণীয় করে রাখলাম। তোমার এইসব কীর্তির দরুন তোমার প্রতি আমার রহমত ও শান্তিধারা বর্ষিত হোক (সুরা সাফফা ত ১০৮ আয়াত)। অতপর আল্লাহর ঘোষণা মোতাবেক তখন থেকে চলে আসছে এই ইব্রাহীমী আদর্শের বাস্তবায়ন। তাই আজও লাখ লাখ মানুষ আল্লাহর হুকুম তামীলের সাথে সাথে প্রতি বছর ইব্রাহীমের স্মৃতি পালন করে পাপমোচন সাগরে করছে অবগাহন।

গ্রন্থনা: মাওলানা জাকির হোসাইন আজাদী
অধ্যাপক মাওলানা আইনুল বারী
 
Support : Creating Website | Johny Template | Mas Template
Copyright © 2011. ইসলামী কথা - All Rights Reserved
Template Created by Creating Website Published by Mas Template
Proudly powered by Premium Blogger Template